পোরশায় রাসেল ভাইপার আতঙ্ক

আপডেট: ডিসেম্বর ১৩, ২০২৩, ৮:১৬ অপরাহ্ণ


পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধি:


নওগাঁর পোরশা উপজেলায় হঠাৎ করে বিষধর সাপ রাসেল ভাইপার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার আমবাগান ও ধানখেত দেখা মিলছে রাসেল ভাইপার নামের বিষধর এই সাপ। এর মধ্যে ধান খেতে ১টি ও আমবাগানের মধ্যে রোপন করা কালাই গাছের ভিতরে ২টি বিষধর এ সাপ মেরে ফেলা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার পোরশা সরকারি ডিগ্রী কলেজ এলাকার ডাকাঠাকা নামক স্থানে পোরশা সদরের হাম্মদ এর আম বাগানের ভিতরে রোপন করা মাসকলাই গাছ তুলতে যান স্থানীয় শ্রমিকরা। এসময় তারা সেখানে একটি বিষধর সাপ দেখতে পান। এবং সাথে সাথে তারা সাপটি মেরে ফেলেন। সেখানে কাজ করা শ্রমিক উপজেলার পূর্বগ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে জালাল উদ্দীন জানান, এই সাপ তারা অনেক দিন দেখেন নি। এ সাপকে তারা স্থানীয় ভাষায় চন্দ্রবোরা নামে চেনেন। সাপটি অনেক বিষধর বলে জানান। একই সাপ তারা গত কয়েকদিন পূর্বে পার্শবর্তী সোহাতি গ্রামে আমবাগানের মধ্যে মাসকলাই তুলতে গিয়ে দেখতে পান। এবং ওই সাপটিকেও তারা মেরে ফেলেছিলেন বলে জানান তিনি।

উপজেলার কাশিতাড়া গ্রামের অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী হাবিব জানান, তার গ্রামের পার্শ্ববর্তী পলাশডাঙ্গা গুচ্ছ গ্রামের নিচের ধানি জমিতে কৃষকরা ধান কেটে রেখেছিলেন। কয়েকদিন পর সন্ধায় কৃষকরা ওই ধান তুলে নিতে গিয়ে ধানের আটির নিচে এই বিষধর রাসেল ভাইপার সাপ দেখতে পান। তারা সাথে সাথে ওই সাপটিকে মেরে ফেলেছিলেন বলেও তিনি জানান। এসব ঘটনায় স্থানীয় কৃষকরা এখন অনেক আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

জানা যায়, বরেন্দ্র অঞ্চলে দীর্ঘ ২৫ বছর পর ২০১৩ সালে হঠাৎ দেখা মেলে রাসেল ভাইপার সাপের। এরপর ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে ব্যাপকভাবে তা বরেন্দ্র অঞ্চলের নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর দুটি উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ে। সাপের কামড়ে শতাধিক মানুষের মৃত্যুও হয়। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে এ সাপের উপদ্রব কম দেখা গেলেও চলতি বছর ফের বিষধর এ সাপটির উপদ্রব বেড়েছে। চলতি বছর রাজশাহীর গোদাগাড়ি ও তানোরে ব্যাপক ভাবে সাপটি দেখা গেছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে গোদাগাড়ি উপজেলায় এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বিষধর এ সাপের কামড়ে। সাপটির কামড়ে অনেকেই এখনও আহত রয়েছেন ওই উপজেলায়। এ বছর গত সপ্তাহ পর্যন্ত রাজশাহীর এ দুই উপজেলায় প্রায় অর্ধ শতাধিক বিষধর এ সাপ মেরে ফেলার খবর পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কৃষকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, কৃষকদের কোনো ভয় নেই। তারা সাবধান থেকে জমিতে কাজ করবের। প্রয়োজনে হাতের কাছে লাঠি রাখবেন বলেও তিনি জানান। বিষধর এই রাসেল ভাইপার সাপের এন্টিভেনাম বা কোনো চিকিৎসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আছে কী নেই, তা জানার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তৌফিক রেজাকে বার বার মোবাইল ফোনে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।