পোর্ট অব স্পেনে রোমাঞ্চের বার্তা

আপডেট: এপ্রিল ৩, ২০১৭, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে চার ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটা যেন এক তরফাই বানিয়ে ফেলেছিল পাকিস্তান। প্রথম ম্যাচ অনায়াসে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচটাও জিতে নেয় দলটি। কার্লোস ব্রাফেটের ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিজ ঘরে কোণঠাসাই হয়ে পড়েছিল যেন। কিন্তু শনিবার রাতে কি দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন টি-টোয়েন্টির বর্তমান বিশ্ব সেরাদের! সিরিজ জয়ের আশায় নেমে এক এভিন লুইসের ঝড়ে ছিন্ন ভিন্ন শরফরাজ আহমেদের পাকিস্তান। স্বাগতিকদের জয় ৭ উইকেটের। তাতে তিন ম্যাচের সিরিজটা পেয়েছে নতুন মাত্রা। রোববার দুই দলের শেষ টি-টোয়েন্টিটা পাকিস্তানের জন্য আগের ম্যাচের মতোই সিরিজ জয়ের। অন্যদিকে স্বাগতিক ক্যারিবীয়দের জন্য সিরিজ বাঁচানোর সুযোগ।
প্রথম তিন ম্যাচের চিত্রটা বলছে, দুই দলের দলীয় লড়াইটা আসলে রূপ নিয়েছে দুই তরুণের লড়াইয়ে। এভিন লুইস আর শাদাব খানের। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে যে ক্যারিবীয়দের মাটিতে পাকিস্তানের দাপট দেখানো তার মূলে শাদাব খানই। নিজের অভিষিক্ত সিরিজ। অথচ ১৯ বছর বয়সি লেগস্পিনার খেলছেন নির্ভিক ক্রিকেট। অভিষেক ম্যাচেই ৪ ওভার বল করে ৭ রান দিয়ে তুলে নেন ৩ উইকেট। তার বোলিং বিষে নীল হয়ে আগে ব্যাট করে ১১২ রানেই শেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাকিস্তানের সেই ম্যাচে জয় ৬ উইকেটের। শাদাব নায়ক দ্বিতীয় ম্যাচেও। পাকিস্তানের ১৩২ রানের জবাবে ছুটতে থাকা ক্যারিবীয়দের রানের চাকা থামান মূলত তিনিই। ৪ ওভারে ১৪ রানে নিয়ে নেন ৪ উইকেট। ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারে ৩ রানে।
শনিবার তৃতীয় ম্যাচটা শুধুই এভিন লুইসের । শাদাব এক উইকেট পেয়েছেন ঠিক। কিন্তু ৩.৫ ওভারে ৩৮ রান ব্যায় করেছেন। আসলে লুইস যে তা-ব চালিয়েছেন তাতে শাদাবেরই বা কি করার ছিল! ৫১ বলে ৯১ রানের ইনিংসে ৫টি চার ও ৯টি ছক্কা লুইসের। পাকিস্তানের বোলারদের অসহায়ত্বটা ফুটে উঠছে এতেই! আগের রাতের লুইস তা-বই রোবরার সিরিজের শেষ ম্যাচের উত্তেজনার উপলক্ষ তৈরি করেছে। প্রথম দুই ম্যাচ শেষে সবাই যখন নিরুত্তাপ সিরিজের কথা বলছিলেন, তৃতীয় ম্যাচ শেষে তা জমজমাট। তবে পরিসংখ্যান হয়তো পাকিস্তানের পাল্লাটাই ভারি রাখছে। টি-টোয়েন্টিতে দুই দলের মুখোমুখি ১০ সাক্ষাতে ৭ বারই জিতেছে পাকিস্তান। ক্যারিবীয়রা মাত্র ৩ বার। তবে আবারও লুইস ঝড়ের মতো কিছু হলে এসব পরিসংখ্যান অর্থহীনই হবে!

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ