পোশাকপণ্যে রফতানি বেড়েছে ২৩ শতাংশ সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২২, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্য রফতানি বেড়েছে ২৩ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এ তথ্য জানিয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি আশাব্যঞ্জক হলেও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্বের অর্থনীতির ওপর আর কী ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে- তার ওপর নির্ভর করবে পোশাকপণ্য রপ্তানির সাফল্য।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি-বিজিএমইএ’র পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেলের উদ্ধুতি বিব্রত কওে ইল্লেখ করা হয়, ‘গত জুলাই ও আগস্টে রফতানি বেড়েছে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং রেকর্ড পরিমাণ মুদ্রাস্ফীতি খুচরা ব্যবসাকে প্রভাবিত করছে। এ কারণে আগামী মাস থেকে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের কাছে অবিক্রিত রয়েছে। তাই তারা এখন অর্ডার এবং উৎপাদন বন্ধ করে দিচ্ছে।
যদিও সরকারের ডলার সংকট কাটাতে অনেক কৌশলের মধ্যে রফতানি বাড়ানো অন্যতম। বর্তমান রিজার্ভ খরচ না করে সরকার রফতানি বাণিজ্যের মাধ্যমে আরও ডলার আয় করতে চায়। এজন্য রফতানি বাড়ানোর নতুন নতুন কৌশলের কথা ভাবছে সরকারের নীতি নির্ধারকরা। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানিয়েছে, রফতানি বাড়াতে নতুন নতুন খাতে সরকারের নগদ সহায়তা প্রদান এবং এ সুবিধা প্রাপ্তিতে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা সহজীকরণ করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ সংক্রান্ত আদেশ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে যেসব খাতে সমানভাবে প্রণোদনা দেয়া হলে রফতানি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে সেগুলোকে চিহ্নিত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের পরামর্শেই সরকার এ কাজটি শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
করোনার অভিঘাত আর ইউরোপে যুদ্ধের দামামার মধ্যেও সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে দেশের রপ্তানি আয়ে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫২ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছেন উদ্যোক্তারা। রপ্তানি করা পণ্যের মধ্যে ৮২ শতাংশই তৈরি পোশাক। চলতি বছরের ৩ জুলাই রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে।
ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিদায়ী অর্থবছরে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪২ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার। যা বিগত অর্থবছরের চেয়ে ৩৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এই খাত থেকে আয় বেশি এসেছে ২১ দশমিক ২৫ শতাংশ।
আশংকার মধ্যেও আশা জাগে হয়ত বিশ্ব পরিস্থিতি অচিরেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। ইতোমধ্যে ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ পরিস্থিতি অনেকটাই থিতু হয়ে এসেছে। বিশ্ব জুড়ে যে অর্থনৈতিক- একই সাথে মুদ্রাস্ফিতির বিড়ম্বনা শুরু হয়েছিল সেটাও ধিরে ধিরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। পরিস্থিতির উত্তরণের পথে হাঁটলে উদ্বেগ কেটে যাবে। তবে তৈরি পোশাকপণ্যের নতুন বাজারের অন্বেষণও অব্যাহত রাখতে হবে। সংবাদ মাধ্যমের তথ্য মতে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাকপণ্যের চাহিদা বাড়ছে। এটাও আশান্বিত করে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ