পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে নিহত নওগাঁর আমিরুজ্জামান || পরিবারে চলছে শোকের মাতম

আপডেট: জুলাই ৫, ২০১৭, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

এমআর রকি, নওগাঁ


গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাশিমপুরের নয়াপাড়া এলাকায় মাল্টি ফ্যাবস লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় নওগাঁর যুবক আমিরুজ্জামান আমির ওরফে পায়েল (২৭) নিহত হয়েছে। গত সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করলেও সকালে নিহতের সংবাদ এবং মরদেহ সনাক্তের পর থেকে চলছে শোকের মাতম। নিহত আমিরুজ্জামান শহরের পার-নওগাঁ চকরামপুর মহল্লার মৃত আজিজুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নি¤œমধ্যবৃত্ত পরিবারের সন্তান আমিরুজ্জামান পায়েল। গত ছয় বছর আগে তার বাবা মারা যান। চার সদস্য নিয়ে পরিবারের টানাপোড়ন শুরু হয়। অভাবের মধ্য দিয়েও আমিরুজ্জামান বগুড়া পলিটেকনিক কলেজ থেকে ইলেকট্রিক বিষয়ের উপর ডিপ্লোমা পাস করেন। এরপর ঢাকা উত্তরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি করার পাশাপাশি পাঁচ বছর থেকে মাল্টি ফ্যাবস লিমিটেডে ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার পদে চাকরি শুরু করেন।
গত দুই বছর আগে পড়াশুনা শেষ হলেও সেখানেই সে ফুল টাইম চাকরি করে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী আমিরুজ্জামানসহ ঘটনার দিন আরো কয়েকজন সেখানে দায়িত্বরত ছিলেন। সোমবার সন্ধ্যার দিকে ওই কারখানায় বিকট শব্দে বয়লার বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে কারখানার চারতলা ভবনের দুইতলা পর্যন্ত একপাশের অংশ ধসে পড়ে। ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়টি টেলিভিশনের দেখার পর থেকে আমিরুজ্জামানের পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে। পরে তার মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তী তার বড় ভাই পলাশ ও খালাতো ভাই মামুনুর রশিদ রাতেই ঢাকায় চলে যায়। অবশেষে মঙ্গলবার সকালে তারা আমিরুজ্জামান পায়েলের মরদেহ সনাক্ত হলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিবেশীরা আমিরুজ্জামানের মা ও বোনকে ঘিরে বসে আছে। সবাই তাদের সান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু কোন কথাই যেন তাদের রুখতে পারছে না। বার বার মা ও বোন মূর্ছা যাচ্ছিলেন। জ্ঞান ফেরার পর মা পুষ্প বেওয়া আবার হাউমাউ করে কান্না করছেন। আর বলছেন ঈদের মধ্যে বাবা আমার সুন্দর শাড়ি কিনে দিয়েছে। নামাজ পড়ার পর বাবা তার জন্য দোয়া করতে বলতো। ফোনে বাবা আর কথা বলবে না। আমার কেউ আর খোঁজ নিবে না।
প্রতিবেশী সুলতান আহমেদ বলেন, পায়েল কষ্ট করে পড়াশুনা শেষ করেছে। পোশাক কারখানায় ইঞ্জিনিয়ার পদে কয়েক বছর থেকে চাকরি করছে। সে ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। চাকরির সুবাদে পরিবারে কিছুটা স্বচ্ছলতা এসেছে। গত তিন মাস আগে তার ছোট বোন আফসানা মিম পুলনকে বিয়েও দিয়েছে। আমিরুজ্জামান পায়েলের মৃত্যুতে পরিবারটি নিঃশ্ব হয়ে গেল। যদি ওই কারখান থেকে পরিবারটিকে সহযোগিতা প্রদান করে তাহলে ভালো হতো।
জানতে চাইলে পায়েলের বড় বোন আফরোজা বলেন, ঘটনার পর ভাইয়ের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সেখানে আমাদের আত্মীয় ছিল। তাকে ঘটনাস্থলে সকালে পাঠানো হলে অনেক খোঁজাখুজির পর ভাইয়ের মরদেহ সন্তাক্ত করে।
এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা প্রশাসক ড. আমিনুল ইসলাম ঘটনাটি শুনে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং আমিরুজ্জামান পায়েলের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।
মরদেহ গাজীপুর হাসপাতাল মর্গে আছে। মরদেহ উদ্ধার করে আমিরুজ্জামান পায়েলের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য অপেক্ষা করছেন তার পরিবারের লোকজন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।