পোড়া ক্ষত সারাবে পিস্তল!

আপডেট: ডিসেম্বর ৮, ২০১৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



যেকোনো ক্ষতই বেশ পীড়াদায়ক। তবে পুড়ে যাওয়া ক্ষত সহজে সারে না। কারণ পুড়ে গেলে চামড়ার কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে সেই কোষকে নতুন করে জন্ম দেয়া অথবা সারিয়ে তোলা একটু কঠিন তো বটেই। তাছাড়া এই প্রক্রিয়া অনেক সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।
আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুড়ে যাওয়া ক্ষতের দগদগে দাগ থেকে যায়। অবস্থাসম্পন্ন না হলে এসব দাগের চিকিৎসা করা খুব কঠিন। অনেক সময় এসব দাগ দূর করতে সার্জারি করতে হয়, যা স্কিন গ্র্যাফটিং নামে পরিচিত। তবে এসব কিছুই যেমন সময় সাপেক্ষ তেমনি ব্যয়বহুল।
তবে ব্যয়ের ব্যাপারটা বাদ দিলে চিকিৎসা বিজ্ঞান মোটামুটি অনেক সফলতা পেয়েছে পোড়া ক্ষত সারানোর ব্যাপারে। তাছাড়া এটা এখন আর সময় সাপেক্ষও নয়। এখন থেকে পোড়া ক্ষত সারানো যাবে মাত্র ৯০ মিনিটের চিকিৎসায়। তবে পুরোপুরি সুফল পেতে অপেক্ষা করতে হবে চারদিন। যেখানে সাধারণ চিকিৎসায় সময় নেয় কয়েক সপ্তাহ।
আমেরিকার রেনোভাকেয়ার নামের এক প্রতিষ্ঠান এমনই আশ্বাস দিচ্ছে। তাদের উদ্ভাবিত স্কিনগান দিয়ে স্টেমসেল স্প্রে করে পোড়া বা অন্যান্য কারণে ক্ষতিগ্রস্ত চামড়ার কোষ সজিব বা পুনর্জীবিত করে সারিয়ে তোলা যাবে। এটা স্কিন গ্র্যাফটিং এর মতো ব্যাথাযুক্ত নয় বা সময়সাপেক্ষও নয়। আর এটা থেকে সুফল পাওয়া যায় খুব কম সময়ে।
সত্যিকারের গান বা পিস্তলের মতো দেখতে এই স্কিনগান দিয়ে আসলে স্টেমসেল ক্ষত স্থানে ছড়িয়ে দেয়া হয়। আমেরিকার স্কিন কেয়ারের বিশাল বাজার দখল করতে রেনোভাকেয়ার নিয়ে এসেছে এই স্টেমসেল স্প্রে গান। যা আগের তুলনায় অনেক কম সময়ে ক্ষত সারাবে।
প্রায় এক দশক ধরে গবেষণার ফসল এই স্টেম সেল গান। বিজ্ঞানীরা অনেকদিন যাবত এই স্টেম সেল নিয়ে গবেষণা করেছেন। আর সেই গবেষণার সুফল আমরা দেখতে পাচ্ছি রেনোভাকেয়ারের মাধ্যমে।
রেনোভাকেয়ারের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমেরিকার ৪৫ বিলিয়ন ডলারের স্কিন ট্রিটমেন্ট বাজার। যদিও তাদের টার্গেট আমেরিকার বাজার, তবে সহসাই এটা আমেরিকাতে ব্যবহার করা হবে না বা বিক্রিও করা যাবে না। বরং তার আগে এটা ইউরোপ ও আমেরিকাতে পরীক্ষামূলক ব্যবহার করে এটা প্রকৃতপক্ষে কতটা নিরাপদ এবং কার্যকর সেটা দেখা হবে।
রেনোভাকেয়ার স্টেম সেল নিয়ে বিস্তর গবেষণা করে। তাই তাদের উদ্ভাবিত সেলমিস্ট সিস্টেম এবং স্কিনগান কে এ ধরনের চিকিৎসার সর্বশেষ উদ্ভাবন ধরা হয়। রেনোভাকেয়ারকে ইউএস এফডিএ’র কাছে আবেদন করতে হবে এর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং মার্কেটিং এর জন্যে। তাদের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেলেই এই স্কিনগান বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসতে পারবে। রাইজিংবিডি