প্যান্টের পকেটেই ৫ লক্ষের তক্ষক বাংলাদেশে পাচার, যাচ্ছে চিনে

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৭, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


মহাভারতে দেবরাজ ইন্দ্রের শরণাপন্ন হয়ে রাজা পরীক্ষিতের সর্পনিধন যজ্ঞ থেকে প্রাণে বেঁচেছিল ‘তক্ষক’। কিন্তু, আন্তর্জাতিক চোরাবাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় গিরগিটি প্রজাতির এই সুপ্রাচীন প্রাণী এ রাজ্য থেকে লক্ষ লক্ষ টাকায় পাচার হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও চিনে। কারণ, গরু কিংবা সোনা পাচারের চেয়েও এই তক্ষক পাচারে নাকি অনেক বেশি মুনাফা! গোয়েন্দা ও পুলিশ জানতে পেরেছে, চোরাবাজারে এক একটি স্পটেড তক্ষকের মূল্য প্রায় চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা! তাই তক্ষক পাচারকেই এখন ‘পাখির চোখ’ করেছে দুই দেশের চোরাকারবারিরা।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক চোরাবাজারে তক্ষকের চামড়া এবং জীবন্ত তক্ষকের ভালো চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ হয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে চলে যাচ্ছে। চামড়া থেকে বিভিন্ন গয়না তৈরি হয়। কেউ কেউ আবার শখে বাড়িতে তক্ষক পোষেন। তক্ষকের শরীরের অংশ থেকে মারণ অসুখের ওষুধ তৈরি হয় বলেও পাচারকারীদের মধ্যে প্রচার রয়েছে। যেসব অঞ্চলে জঙ্গল ও পাহাড় একসঙ্গে রয়েছে, সেখানে সবচেয়ে বেশি দেখা মেলে তক্ষকের। তবে, সব ধরনের তক্ষকের দাম নেই। যেগুলি স্পটেড তক্ষক অর্থাৎ যার গায়ে ও মাথায় বিভিন্ন রংয়ের ছোপ ছোপ দাগ রয়েছে সেগুলির দাম সবচেয়ে বেশি। পাহাড় ও জঙ্গল ছাড়াও চুনসুরকির পুরানো দালানবাড়ি, ভগ্নপ্রায় জমিদারবাড়িতেও তক্ষক দেখা যায়।
বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় তক্ষক পাওয়া যায়। উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সে বেশি তক্ষক মেলে। স্থানীয়দের কাছ থেকে এই পাচারকারীরা ৫-১০ হাজার টাকায় তক্ষক কিনে নেয়। তারপর সীমান্তের গ্রামে এনে মজুত করে। পুলিশ ও গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে, এই কাজের জন্য সীমান্তবর্তী গ্রামে প্রচুর দালাল গজিয়ে উঠেছে। যারা এ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে তক্ষক সংগ্রহ করে। তারপর নিজেদের বাড়িতে মজুত করে রাখে। বাংলাদেশ থেকে ক্রেতারা এসে তক্ষকগুলি দেখে যায়, তখনই দামদস্তুর ঠিক হয়। তারপর সুযোগ বুঝে পাচার করা হয় বাংলাদেশে।
অনেক সময় পাচারকারীরা নিজেরাও তক্ষক ধরতে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। তাদের সঙ্গে সুদক্ষ বাংলাদেশি পাচারকারীরাও থাকে। এতে তাদের লাভের পরিমাণ বেশি হয়। সম্প্রতি, স্বরূপনগর থানা এলাকা থেকে তিনজন তক্ষক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে স্পটেড দু’টি তক্ষকও উদ্ধার হয়েছে। ওই পাচারকারীরাই পুলিশি জেরায় জানিয়েছে, এ ধরনের তক্ষকের দাম চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা। বাংলাদেশে পাচারের জন্যই তারা মজুত করেছিল। পুলিশ ও গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে, নোট বাতিলের জেরে জালনোট পাচার বন্ধ। সোনা পাচারেও ভাটা পড়েছে। গোরু পাচারেও কেন্দ্র ও রাজ্য কড়া ব্যবস্থা নেয়ায় পরিমাণ কমে গিয়েছে। তাছাড়া, সোনা ও গরু পাচারে যা লাভ হয়, একটি তক্ষক পাচার করতে পারলে তার চেয়ে বহুগুণ লাভ। পাশাপাশি ঝামেলাও কম। কারণ, গরু পাচার করতে গেলে, বহু জায়গায় কমিশন দিতে হয়। সোনার ক্ষেত্রেও তাই হয়। কারণ, সোনা পাচারের চক্র গরু পাচারের চক্রের চেয়েও লম্বা। বাংলাদেশ থেকে দুবাই পর্যন্ত জাল ছড়িয়ে রয়েছে।
এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, এ রাজ্যে সস্তায় তক্ষক পাওয়া যায়। অথচ, বাংলাদেশে পাচার করলেই লক্ষ লক্ষ টাকা। গরু কিংবা সোনা পাচারের মতো ঝামেলাও নেই। পাঁচ লক্ষের তক্ষক চোরাকারবারিদের প্যান্টের পকেটেই বাংলাদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে।- বর্তমান