প্রকৃতির ক্ষতি করে প্রকল্প নয় নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন হোক

আপডেট: নভেম্বর ২৪, ২০২২, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকৃতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, প্রকৃতির ক্ষতি করে প্রকল্প নেয়া যাবে না। হাওর, পানি, খাল-বিল, ছোট মাছ, ঘাস, লতাপাতা ও প্রকৃতির ডিস্টার্ব করে প্রকল্প নেয়া যাবে না। এগুলোর ক্ষতিসাধনও করা যাবে না।
প্রকৃতিকে সুরক্ষা দেয়াই এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রকৃতি রক্ষা করা শুধু বাংলাদেশেরই চ্যালেঞ্জ নয়- প্রথিবীর সব দেশের জন্যই এটা প্রযোজ্য। বিশ্ব সোচ্চার একই ইস্যুতে যে সর্বাগ্রে প্রকৃতিকে রক্ষা করতে হবে। প্রকৃতিকে রক্ষার অর্থই হলো মানবসমাজকে রক্ষা করা। মানুষের জীবন-জীবিকা, আকাক্সক্ষা ও স্বপ্ন দেখার সর্বক্ষেত্রেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষাভাবে প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। মানুষ প্রকৃতির বাইরের কোনো প্রাণী নয়। স্বাভাবিকভাবে প্রকৃতি না ঠিকলে মানুষও টিকবে না। এটা যে মানুষ বোঝেনা তা নয়, কিন্তু তারপরেও কিছু মানুষের অতীব লোভ-লালসা প্রকৃতিকে বিবর্ণ করে তুলেছে। অথচ আমাদের ভেতরের মানবিক আবেগ, আর শৈল্পিক অনুভূতিকে জাগিয়ে তোলার অনুপ্রেরণাও প্রকৃতি থেকেই পাই।
মানুষের প্রতিদিনের জীবনধারায় পরিবেশবিরোধী কার্যকলাপের ফলে সৃষ্টি হচ্ছে দূষণ- আর এর ফলে বিশ্বব্যাপি বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণ-প্রকৃতির বিলুপ্তি ঘটছে,হারিয়ে যাচ্ছে প্রাণবৈচিত্র্য।
জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুসংস্থা নিয়ে কাজ করে আইপিবিইএস-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী- বর্তমান পৃথিবীতে ৮০ লক্ষ উদ্ভিদ ও প্রাণিজ প্রজাতি বিলুপ্তির মুখোমুখি। বিলুপ্তির এ হার বাংলাদেশে ২৪ শতাংশ ।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) অন্য পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৫ সাল পর্যন্ত সারা বিশ্বব্যাপি ১.৪ শতাংশ বনাঞ্চল হারিয়ে গেছে, বাংলাদেশে যার পরিমাণ প্রায় ২.৬ শতাংশ।
এই প্রতিবেদনে জীববৈচিত্র্য হ্রাসের পাঁচটি প্রধান কারণকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে- ভূমি-ব্যবহারের পরিবর্তন, প্রাকৃতিক সম্পদের অতি আহরণ, জলবায়ু পরিবর্তন, চরম আবহাওয়া এবং আগ্রাসী প্রজাতির দ্রুত বিস্তার। এ ধরনের আশঙ্কাজনক প্রবণতা অর্থনীতি, সমাজ, জনজীবন ও জীবিকা, খাদ্য সুরক্ষা, পানি সুরক্ষা আর সেইসঙ্গে মানুষের জীবনমানকে বিপন্ন করে তুলছে।
মানুষ ও পৃথিবীর সুস্বাস্থ্য যে এক সুতোয় গাঁথা- তা কোভিড ১৯ মহামারি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এখন যে কোনো সংক্রামক রোগের উত্থান ও বিস্তারের সংখ্যা তিনগুণের চেয়েও বেশি বেড়েছে। ১৯৮০ সাল থেকে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি রোগের উৎস ছিল প্রাণিজ।
বাংলাদেশে প্রকৃতি বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হলো- যচ্ছেতাইভাবে জমির শ্রেণি পরিবর্তন কওে বাণিজ্যেক ব্যবহার। এই প্রবণতার ফলে কৃষি জমি পুকুর হচ্ছে, পুকুর ভরাট করে বড় বড় স্থাপনা গড়ে উঠছে। বর উজার হচ্ছে। অবৈধ দখলের ফলে নদী ও জলাশয়ের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হচ্ছে। মাত্রাতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার হচ্ছে। এ গুলো কোনো যুক্তিতেই নিবারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এটা প্রকৃতির ওপর নির্যাতন যেমন তেমনি এই প্রবণতার ফলে খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকিও সৃষ্টি হচ্ছে। প্রকৃতি সুরক্ষার উদ্যোগটা এখান থেকেই নিতে হবে।
প্রকৃতি রক্ষার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুরাগী মন আছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছারও অভাব নেই। তবে এই মুহূর্তে দরকার কৌশলগত পরিবর্তনের। কৃত উদ্যোগের সাথে দেশের মানুষকে সম্পৃক্ত করার কাজটি এখনো করে হওয়া উঠেনি। প্রাণ -প্রকৃতিকে বিনষ্ট না করেই সবুজ ও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য দেশের মানুষকে দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলার কাজটি কাল বিলম্ব না করেই শুরু করা বাঞ্ছনীয়। একই সাথে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ