প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি চেয়ারম্যানের শাস্তির দাবি প্রকৌশলীদের

আপডেট: মার্চ ২৪, ২০১৭, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ও বাগমারা প্রতিনিধি


বাগমারায় প্রকৌশলীকে লাঞ্ছনাকারি উপজেলা চেয়ারম্যানের শাস্তির দাবিতে নগরীতে প্রকৌশলীরা মানববন্ধন করে- সোনার দেশ

বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বাগমারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টুর শাস্তি দাবি করেছেন প্রকৌশলীরা। অপরদিকে চেয়ারম্যান সান্টুর সমর্থকরা প্রকৌশলীকে প্রত্যাহারের দাবিতে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে মানববন্ধন থেকে বাগমারা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের শাস্তির দাবি জানানো হয়। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (আইইবি) রাজশাহী কেন্দ্র ও বিএমডিএ যৌথভাবে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।
মানববন্ধনে রাজশাহীতে সরকারের বিভিন্ন দফতরে কর্মরত প্রকৌশলীরা অংশগ্রহণ করেন। আইইবি রাজশাহী কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক নিযামুল হক সরকারের সভাপতিত্বে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা বলেন, সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রকৌশলীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ জনপ্রতিনিধিদের অন্যায় আবদার না মানার কারণে প্রায়ই তাদের লাঞ্ছিত হতে হচ্ছে। এ ধরনের অপকর্ম যদি আগামি দিনে বন্ধ না হয় তাহলে প্রকৌশলীরা কাজের স্পৃহা হারিয়ে ফেলবেন।
বক্তারা বলেন, আমরা এ কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে উপজেলা পরিষদ সান্টুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় তার এ ধরনের আচরণ অব্যাহত থাকবে বলে আমাদের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, ইতিপূর্বে সরকারি কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগে বাগমারা থানায় তার বিরুদ্ধে জিডি দায়ের করা হয়েছে।
এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ সমাবেশ করে সান্টুর সমর্থকরা। সমাবেশ শেষে তারা চার দফা দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একটি স্মারকলিপি দেন। এরপরই প্রকৌশলীরা উপজেলা চেয়ারম্যান সান্টুর শাস্তির দাবিতে এই মানববন্ধন করলেন।
অপরদিকে প্রকৌশলী রেজাউল করিমকে প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে গতকাল দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন সান্টুর সমর্থকরা। সমাবেশ শেষে তারা চার দফা দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একটি স্মারকলিপি দেন।
তাদের দাবিগুলো হলো, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টুর বিরুদ্ধ প্রকৌশলী রেজাউল করিমের দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার, আবেদন করা ২৬৮ গভীর নলকূপ চালু করার ছাড়পত্র প্রদান এবং ওই গভীর নলকূপগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা।
এর আগে সমাবেশে বাগমারা উপজেলা আ’লীগের সহসভাপতি ও শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আ’লীগের সহসভাপতি ও পুজা উদযাপন পরিষদের রাজশাহী জেলার সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা বীরেন্দ্রনাথ সরকার, সহসভাপতি সুরাত আলী মাষ্টার, উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহাবুর রহমান, তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুন, উপজেলা আ’লীগের কার্যকরি কমিটির সম্মানিত সদস্য আব্দুস সালাম, ভবানীগঞ্জ পৌর আ’লীগের সাধারন সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুন, যোগীপাড়া ইউনিয়ণ আ’লীগের সভাপতি ও অবসর প্রাপ্ত সেনাসদস্য সামসুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, ঝিকরা ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, শুভডাঙ্গা ইউনিযন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক মাহাবুর রহমান, শ্রীপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, কাচারী কোয়ালীপাড়া ইউপি আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ সরকার, বড়বিহানালী ইউপি আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাহের আলী মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আলী, গোবিন্দপাড়া ইউপি আ’লীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, আ’লীগ নেতা আহাদ আলী, আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার আব্দুল জলিল, পৌর যুবলীগ সভাপতি ফেরদৌস প্রাং প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, বিএমডিএর প্রকৌশলী রেজাউল করিম গত মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিতভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টুর বিরুদ্ধে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনেন। ওই দিন বেলা ১১টার দিকে তাকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে চেয়ারম্যান চড়-থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ করেন রেজাউল করিম।
এ ঘটনার পর থেকে তিনি রাজশাহী শহরে অবস্থান করছেন। নিরাপত্তার কারণে গত দুইদিন থেকে অফিসে যেতে পারছেন না বলে তিনি জানিয়েছেন। যদিও নিজের নিরাপত্তা চেয়ে বাগমারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ