প্রকৌশলী থেকে জঙ্গি

আপডেট: মার্চ ২২, ২০১৭, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



অলিউজ্জামান ওরফে অলি ও আনোয়ারুল আলম দুজনেই বুয়েট থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেছেন। একপর্যায়ে তারা গোপনে উগ্র মৌলবাদে জড়িয়ে পড়েন। মঙ্গলবার তাদের দুজনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।
গ্রেপ্তারকৃত দুই প্রকৌশলী নাশকতার পরিকল্পনা করছিল বলে র‌্যাব কর্মকর্তারা দাবি করছেন।
র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেসব জঙ্গি আত্মগোপনে আছে তারা পুনরায় সংঘটিত হয়ে নাশকতার চেষ্টা করছে। সংগঠনকে চাঙ্গা করার পরিকল্পনাও করছে তারা। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছদ্মবেশে বাড়ি ভাড়া করছে। পরে গোয়েন্দা তৎপরতার ভিত্তিতে ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডে নিয়ে প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’
মেধাবী দুজন প্রকৌশলী কীভাবে জঙ্গিবাদে জড়াল? এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, উগ্র মৌলবাদে তারা বিশ্বাসী হয়ে এ পথে আসে। এছাড়া তারা বিভিন্ন সময় ফেসবুক স্ট্যাটাসেও উগ্র মৌলবাদ নিয়ে নানা মন্তব্য করেছেন। এভাবে তারা তামিম-সরোয়ার গ্রুপের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।’
আর র‌্যাব হেডকোয়ার্টার্স থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বহুজাতিক কোম্পানিতে প্রকৌশলী হিসেবে চাকরি করেন অলি। তিনি বুয়েট থেকে ২০১২ সালে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেন। বুয়েটে পড়াকালে ধর্মীয় বিষয়ের ওপর আগ্রহ সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ধর্মীয় বই-পুস্তক, লিফলেট ও অনলাইনে বিভিন্ন সাইটের মাধ্যমে ধর্মীয় উগ্রবাদী বিষয়ে আকৃষ্ট হন। ২০১৫ সালের শেষের দিকে তিনি জেএমবির ‘সারোয়ার-তামীম’গ্রুপে নাম লেখান। অলি কাফরুল এলাকার একটি জঙ্গি সেলের দায়িত্বে ছিলেন। এক বছরের বেশি সময় ধরে মিরপুর-কাফরুল এলাকায় একটি জঙ্গি সেল পরিচালনা করছিলেন। দলের অন্য সদস্যদের ইন্টারনেট পরিচালনা ও টেলিগ্রাম আইডি ব্যবহারের ওপর দীক্ষা দেন এবং দলের সদস্যরা ফেসবুকে ইসলাম অবমাননাকারী নানা স্ট্যাটাস ভাইরাল আকারে পোস্ট করে সহানুভূতি ও সমর্থন আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রচারণা চালায়। আর আনোয়ারুল আলম একই সময়ে বুয়েট থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেন। পাশাপাশি একটি কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করেন। অলির মাধ্যমেই তিনি একই জঙ্গি গ্রুপে জড়িয়ে পড়েন। আনোয়ারুল বোমা বানাতে বেশ পারদর্শী।- রাইজিংবিডি