প্রতিদিনই কমছে পোশাক রপ্তানি

আপডেট: March 23, 2020, 12:32 am

সোনার দেশ ডেস্ক


গত বছরের ২০ মার্চ তৈরি পোশাক রপ্তানি করে নয় কোটি সাত লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ।
গত ২০ মার্চ শুক্রবার রপ্তানি হয়েছে পাঁচ কোটি ছয় লাখ ৮০ হাজার ডলার।
প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে এভাবেই কমছে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়। মহামারি এই রোগের মধ্যে বাংলাদেশের পোশাক কারখানা বন্ধের দাবি উঠেছে। রোববার শ্রম মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।
পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী দিনগুলোতে কমতে কমতে তা শুণ্যে নামতে পারে বলেও আশংকা করছেন পোশাক রপ্তানিকরকরা।তারা এতটাই আতঙ্কিত যে বুঝে উঠতে পারছেন না কি করবেন?
বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে এমনিতেই ছিল মন্দা; টানা চার মাস কমার পর গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ৩ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।
কিন্তু নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ফের সেই নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে ফিরে যায়।সর্বশেষ ফেব্রুয়ারিতেও সেই ধারাই অব্যাহত রয়েছে।
গত ৫ মার্চ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম আট মাসের (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) রপ্তানির তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) ২ হাজার ৬২৪ কোটি ১৮ লাখ (২৬.২৪ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ।
এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ কম। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কমেছে প্রায় ১৩ শতাংশ।
ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পোশাক রপ্তানিতে করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েনি।যেটা কমছিল, সেটা আগের মন্দার কারণেই কমছিল। কিন্তু মার্চ মাস থেকে প্রতিদিনই কমছে।
পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ’র তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১৮ মার্চ পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করেছিল ৭ লাখ ১১ কোটি ৭০ হাজার ডলার। গত ১৮ মার্চ আয় করেছে ৪ কোটি ১৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার। প্রবৃদ্ধি কমেছে ৪২ শতাংশ।
১৯ মার্চ রপ্তানি হয়েছে ৮ কোটি ৪৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার। ৯ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। গত বছরের ১৯ মার্চ রপ্তানি হয়েছিল ৯ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। কমেছে ১২ শতাংশ।
আর ২০ মার্চ রপ্তানি হয়েছে ৫ কোটি ৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার। গত বছরের ২০ মার্চ রপ্তানি হয়েছিল ৯ কোটি ৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার। প্রবৃদ্ধি কমেছে ৪৪ দশমিক ১৫ শতাংশ।
পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি রুবানা হক এ তথ্য জানিয়ে শনিবার বিকেলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রতি মিনিটে-ঘন্টায় পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। এমন দুর্দিন আগে কখনও আসেনি। পরিস্থিতি কিভাবে মোকাবিলা করব বুঝতে পারছি না। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পোশাক শিল্প মালিকরা।” করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনীতির সব খাতই বড় ধরনের সংকটে পড়বে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি।