প্রতিপক্ষের হামলায় কৃষকলীগ নেতা এলাকা ছাড়ার অভিযোগ

আপডেট: জুন ১৭, ২০২২, ১১:১১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


গোদাগাড়ীতে প্রতিপক্ষের দফায় দফায় হামলায় ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি এলাকা ছাড়া হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একাধিক মামলা হলেও পুলিশ নীরব থাকায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলেও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। শুক্রবার (১৭ জুন) বিকেল ৪ টায় নগরীর এক মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান।

তিনি গোদাগাড়ীর পাকড়ি ইউনিয়নের মোষড়াপাড়া এলাকার আজাহার আলীর ছেলে। আতিকুরের বাবা ওই ইউনিয়নের কৃষকলীগের সভাপতি। আর অভিযুক্তরা হলেন, একই এলাকার নাজিমুদ্দিনের ছেলে মো. জালাল, সোলাইমানের ছেলে কামাল, আলাউদ্দিন ও আনারুল।

সংবাদ সম্মেলনে আতিকুর রহমান বলেন, এলাকার মানিক মিয়া ওয়াকফ এস্টেটের ৫১ বিঘা জমি লিজ নেন আমার বাবা। পরে স্থানীয় বিএনপির লোকজন ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করলে চেয়ারম্যান নিজেই জমিগুলো নিতে চান। পরে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং ১৪৪ ধারা জারি করেন আদালত।

আতিকুরের ভাষ্য, চেয়ারম্যানের নির্দেশে জমিতে কাজ করতে থাকা কৃষকদের ওপর হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হলেও পুলিশ মামলা নেয় নি। পরে আদালতে মামলা করা হয়। অন্যদিকে তার ভগ্নিপতি স্থানীয় চিকিৎসক মফিজুল ইসলাম গত ইউপি নির্বাচনে সদস্য পদে বিএনপি নেতা জালালকে পরাজিত করে জয়ী হন। এতে ক্ষিপ্ত হয় বিএনপির লোকজন। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার মফিজুলের ওপর হামলা চালানো হয় জালালের নেতৃত্বে। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে আতিকুরের পিতা ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি আজাহার আলী বলেন, দফায় দফায় হামলা চালনো হয়েছে আমার বাসায়। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাপটে নিজের এলাকায় ঢুকতে পারছি না। তারা র‌্যাব পরিচয়েও আমাকে ফোন করে হুমকি দিয়েছে। এসব ঘটনায় নিরাপত্তা নিশ্চিতপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. জালাল হোসেন বলেন, সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। পাকড়ি ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন বলেন, উভয়পক্ষকে নিয়ে বসে মীমাংসা করার চেষ্টা করছি।

এ ব্যাপারে গোদাগাড়ী থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, গত মঙ্গলবার একটি হামলার অভিযোগে থানায় মামলা করা হয়েছে। এখানে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই গ্রুপের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার চেষ্টা করেও মিমাংসায় আনা যাচ্ছে না। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে। আর হামলার ঘটনায় মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ তৎপরতাও শুরু করেছে। এখানে পুলিশের নিরব ভূমিকার কোন বিষয় নেই। পুলিশ আইন অনুযায়ী নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কাজ করছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ