প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষা নিচ্ছেন টাইগার বোলাররা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দিনের শেষ কিছু ওভারে পেসারদের পরখ করে দেখতে চাইলেন মুশফিকুর রহিম? সেই সাথে কমে আসা আলোয় প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা আমন্ত্রিত একাদশের ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষা নেওয়ার ইচ্ছেও নিশ্চয়ই আছে। আর ম্যাচটা তো তিনদিনের। ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং প্র্যাকটিস তো হলোই। প্রথম দিনে প্রথম ইনিংসে টস জিতে ব্যাটিং। তিনটি ফিফটি। আরেকটি ফিফটির কাছাকাছি। লেজের ব্যাটসম্যানদের ব্যাট হাতে আর খাটিয়ে কি লাভ? সাব্বির রহমান ৫৮ ও তাসকিন আহমেদ ৮ রানে অপরাজিত থেকে বৃহস্পতিবারের বিকেলে বেনোনির উইলোমুর পার্ক থেকে বেরিয়ে আসেন। ৭ উইকেটে ৩০৬ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা মুশফিকের। তামিম ইকবাল যে ইনিংসে মাত্র ৫ রান করেই পেশীর টানে মাঠ ছেড়েছেন রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে।
এটা বলতেই হবে তামিম না থাকলেও বাংলাদেশের ব্যাটিংটা বেশ হচ্ছিল। ম্যাচের প্রথম বলে বাউন্ডারি মেরে তামিমের শুরু। কিন্তু পঞ্চম ওভারের দুই বল খেলে অস্বস্তি নিয়ে ফিরলেন ড্রেসিং রুমে। কি আর করা! ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার দলকে নিয়ে সগেলেন ৮৪ রান পর্যন্ত। এমনিতে বাউন্সি কন্ডিশনে সৌম্য ভালো খেলেন। শেষে টেস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যর্থ। চার ইনিংসে মাত্র ২১ রান নিয়ে ব্যর্থতা ছিল ইমরুলেরও। সৌম্য ভর করেছিলেন বাউন্ডারির ওপর। ছক্কা নেই। তবে যতক্ষণ ছিলেন স্বস্তি দেন নি প্রতিপক্ষ বোলারদের। দুই ঘণ্টা ক্রিজে থেকে ৬৯ বলে ৪৩ রান করেছেন। এর ৩২ রানই বাউন্ডারিতে। মানে ৮টি চার।
সৌম্যর আগে অবশ্য ইমরুল বিদায় নিয়েছেন। ৫১ বলে ৩৪ রান করেছেন। তবে রান করতে পেরেছেন এটাই বড় কথা। আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি নিয়ে টেস্ট সিরিজে নামার চেয়ে এই সামান্য রানও বড় প্রেরণা হতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতেই তো। ৮৪ থেকে ৯২, এই ৬ রানের মধ্যে ইমরুল-সৌম্য নেই।
এরপর দ্বিতীয় সেশনের অনেকটা সময় মুমিনুল ও মুশফিকের। বাংলার ব্র্যাডম্যান মুমিনুল কি অবস্থাতেই না আছেন! চাপ আর চাপ! তার মধ্যেই এই ফিফটি ও জুটি মরূর শীতল হাওয়ার মতো। মুশফিক পার্টনার হিসেবে নেতার চেয়ে ওপরে। দারুণ আস্থা দিতে জানেনণ নিজেও রান করে চলেন। মিস্টার ডিপেন্ডেবল তাই থেকে যান। ব্যাট চালিয়ে যান। চতুর্থ জুটিতে ১১৯ রান দিয়ে মুমিনুলের বিদায়। নামের পাশে ওয়ানডে স্টাইলের ৭৩ বলে ৬৮। বাউন্ডারি ৯টি। মাহমুদউল্লাহ টেস্ট দলে ফিরেছেন বটে। কিন্তু কপাল খারাপ। গোল্ডেন ডাক নিয়ে ফিরেছেন। সাব্বির এসেই বাউন্ডারি মেরে সঙ্গ দিতে চাইলেন মুশফিককে।
কিন্তু ২১১ থেকে ২২০ এ যেতে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদেই পড়ে যায় টাইগাররা। মাহমুদউল্লাহর পর একই রানে মুশফিক ও লিটন কুমার দাস ফিরেছেন। ক্যাপ্টেন ৮৫ বলে ৮ চারে ৬৩ রান করেছেন। দ্বিতীয় বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে শূণ্যহাতে ফিরেছেন লিটন। সাব্বির এই চাপ কাটাতে মেহেদী হাসান মিরাজকে (১৮) নিয়ে ৫২ রানের জুটি গড়লেন সপ্তম উইকেটে। মিরাজের বিদায়ের পর তাসকিনকে নিয়ে ৩৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি সাব্বিরের। সাব্বিরের অপরাজিত ৫৮ রান ৮৯ বলের। যেখানে বাউন্ডারি ৯টি। অবাক করা বিষয় কি না কে জানে, বাংলাদেশের ইনিংসে কিন্তু একটাও ছক্কা নেই!

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ