প্রতিবন্ধিকতা দমাতে পারেনি খাদিজাতুল কোবরাকে অদম্য মনোবলই সাফল্য এনে দিবে

আপডেট: নভেম্বর ১৮, ২০২২, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

সেরিব্রাল পলসি (সিপি)। যেটি এক রকম পেশির অঙ্গবিন্যাস ব্যাধি। ব্যাধিটি সাধারণত জন্মের আগে মস্তিষ্কে আঘাতের কারণে হয়। সেরিব্রাল মানে মস্তিষ্কের সম্পৃক্ততা, এবং পলসি মানে দুর্বলতা বা পেশী ব্যবহারে সমস্যা। আর এই ব্যাধিই খাদিজাতুল কোবরার জীবনে প্রতিবন্ধিকতা নিয়ে এসেছে। দশ মাস বয়সে টাইফয়েড জ¦রে আক্রান্ত হওয়ার পরপরই এই রোগটি ধরা পড়ে তার। এরপর জীবনজুড়ে নামে ঘোর অন্ধকার। তবে সেই অন্ধকারকে দূর করতে অদম্য খাতিজা। বুকে শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন লালন করে এবারের এইচএসসি পরিক্ষায় অংশ নিয়েছে সে। খাতিজা সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার। বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) সোনার দেশ পত্রিকায় ‘গোমস্তাপুরে সেরিব্রালপালসি রোগে আক্রান্ত খাতিজাতুল কোবরা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,অদম্য মনোবলে পরীক্ষা দিচ্ছেন এইচএসসি, হতে চান শিক্ষিকা। খাদিজাতুল কোবরা নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়নের চন্দনা গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন কবীরের মেয়ে। বাবা হুমায়ন কবীর ঢাকায় পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদে আছেন। সন্তানের চিকিৎসা ও যন্ত্রে কমতি না হলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে নি খাদিজা। তবে স্বপ্নকে লালন করেই পথ চলছে এদম্য এই কিশোরী।
খাদিজা বালিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পরীক্ষায় জিপিএ ৩.৩০, বহিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে হতে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৩.২০ ও একই প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসিতে জিপিএ ৩.৪৪ পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এইচএসসি দিচ্ছেন রহনপুর মহিলা কলেজ থেকে। পরীক্ষা দিচ্ছেন রহনপুর ইউসুফ আলী সরকারি কলেজ কেন্দ্রে। মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার পরেও খাতিজা যেভাবে এগিয়ে গেছে তা এক রকম দৃষ্টান্ত।
খাদিজার বাবা হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, তার মেয়ে পড়ালেখায় প্রবল আগ্রহ আর মনের জোর রয়েছে। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হলেও বাম হাত দিয়ে লিখতে পারে। কথাও অস্পষ্ট। অনেক চিকিৎসা করেও তার প্রতিবন্ধীতা দূর করা সম্ভব হয় নি। মেয়ের পড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে কখনও তাকে অন্ধকারের মধ্যে রাখতে চান নি। মেয়েকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছেন। কখনও তাকে বোঝা মনে করেন নি। তিনি সকলের কাছে মেয়ের জন্য দোয়া চেয়েছেন। খাদিজার বাবার প্রত্যাশা মেয়ে তার স্বপ্ন পুরণে প্রতিবন্ধীতাকে মাড়িয়ে এগিয়ে যাক। অনেক সময়ই দেখা যায়, অনেক শিক্ষিত পরিবারও প্রতিবন্ধী সন্তানকে সমাজের সামনে তুলে ধরতে চান না। এক রকম বন্ধ ঘরেই আটকে রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। যেটা খাদিজার ক্ষেত্রে ভিন্ন। এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনেরও বার্তাবহণ করে। পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে এমন অদম্য প্রতিভাবানরা এগিয়ে যাক।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ