প্রতিবন্ধী খাদ্য কর্মকর্তার পা ভাঙলেন অধ্যক্ষ!

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৭, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



নগরীতে শারীরিক প্রতিবন্ধী এক খাদ্য কর্মকর্তাকে একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ পিটিয়ে পা ভেঙে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত খাদ্য কর্মকর্তা বাইরুল ইসলামকে (৩৬) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাকে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বাইরুল ইসলাম রাজশাহী খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে সহকারী উপ খাদ্য পরিদর্শক (এএসআই) পদে কর্মরত। মসজিদ মিশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের (নারী শাখার) ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও তার অধঃস্তন কর্মচারীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে বাইরুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন।
বাইরুল ইসলাম জানান, তার মেয়ে ফাহমিদা ইসলাম বিথি মসজিদ মিশন স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। মেয়েকে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাবেন বিধায় ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) নেয়ার জন্য তিনি ২৮ জানুয়ারি সকালে মসজিদ মিশন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যান। অধ্যক্ষ আবদুর রশিদের সঙ্গে দেখা করে তিনি টিসি চান। কিন্তু অধ্যক্ষ তাকে টিসি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
বাইরুল ইসলাম জানান, একপর্যায়ে অধ্যক্ষ আবদুর রশিদ টিসির জন্য তিন হাজার দুইশ টাকা দাবি করেন। এই টাকা দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানালে অধ্যক্ষের সঙ্গে বাগবিত-া শুরু হয়। একপর্যায়ে অধ্যক্ষ ও তার অধঃস্তন কর্মচারী তাকে প্রহার শুরু করেন। তাকে মাটিতে ফেলে দিয়ে ডান পায়ে ও শরীরের অন্যান্য অংশে আঘাত করা হয়। এ সময় অন্যরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ভর্তি করা হয়।
বাইরুল ইসলামের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক মশিউর রহমান মানিক বলেন, ‘আঘাতে রোগির ডান পায়ের গোড়ালি ভেঙে গেছে। পায়ে ঘা আছে, না শুকানো পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হচ্ছে না। তার শরীরে বিভিন্ন জায়গায় লাঠির আঘাতজনিত জখম রয়েছে।’
অভিযোগ অস্বীকার করে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবদুর রশিদ বলেন, ‘বাইরুল ইসলামকে প্রহার করা হয়নি। তিনি আমার কার্যালয়ে এসে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। আমার অধঃস্তন কর্মচারীরা তাকে কার্যালয়ের বাইরে নেয়ার চেষ্টা করলে তিনি পড়ে গিয়ে আহত হন। আমরা তার চিকিৎসার ব্যয় বহনের প্রস্তাব দিয়েছি।’
বাইরুল ইসলাম বলেন, ‘পোলিও রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে ছোটবেলা থেকেই আমার ডান পায়ে সমস্যা এবং আমি একজন প্রতিবন্ধী। আমার মত একজন প্রতিবন্ধীকে প্রহার করা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি থাকার কারণে আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারিনি। চিকিৎসা শেষে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হবে।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ