প্রতিবন্ধী নূরীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা, আটক ১

আপডেট: ডিসেম্বর ৯, ২০১৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহীতে মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরী অ্যানি খাতুনকে (১২) হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতেই নিহত অ্যানির চাচা স্বপন আলী বাদী হয়ে নগরীর রাজপাড়া থানায় এ হত্যামামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
তবে মামলা দায়েরের পর সন্দেহভাজন ব্যক্তি হিসেবে পুলিশ আবদুল মমিন (২১) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। মমিন ওই এলাকার মারফত আলীর ছেলে। বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতারের পর গতকাল শুক্রবার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমান উল্লাহ জানান, আসামিকে আদালতে হাজির করে তার সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। তবে আবেদনের শুনানি হয়নি। আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেন্সিক বিভাগের চিকিৎসক এনামুল হক বলেন, ময়নাতদন্তে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। তার গলায় ফাঁস দেয়ার দাগ রয়েছে। এছাড়াও তার শরীরের তিনটি স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান চিকিৎসক এনামুল।
বৃহস্পতিবার লাশ উদ্ধারের পর রাজপাড়া থানার ওসি আমান উল্লাহ জানিয়েছিলেন, শিশুটির গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাতের চিহ্ন ও হাতে কাটা দাগ রয়েছে। আঘাতের পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নগরীর সাত নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সোহরাব হোসেন জানান, নিহত নূরীর বাড়ি লক্ষ্মীপুরের চ-িপুর  এলাকায়। নূরী মৃত গোলাম মোহাম্মদের মেয়ে। তার মা আখিও মারা গেছেন। বড় ভাইয়ের কাছে থাকতো নূরী। গত দুইদিন আগে নূরী নিখোঁজ হয়। তার সন্ধান চেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে এলাকায় মাইকিংও করা হয়েছে। দুপুরে পরিত্যক্ত ওই জমির পাশের ভবন থেকে লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয় বলে জানান কাউন্সিলর।
তিনি আরো বলেন, ওই জমিটির চারিদিকে প্রায় ৬ ফুট উচ্চতার প্রাচীর দেয়া আছে। প্রাচীরের এক পাশে গেট সব সময় তালাবদ্ধ থাকে। তবে পাশের ভবনের এক পাশ দিয়ে ভিতরে যাওয়ার সামান্য জায়গা রয়েছে। সেখানে এলাকার বখাটে ছেলে ও মাদকসেবীদের আড্ডা বসে বলেও জানান কাউন্সিলর সোহরাব।