‘প্রতিবন্ধী হয়েও লেখাপড়া করেছি, স্বপ্নপূরণে ডিসি স্যার সহযোগিতা করেছেন’

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০২২, ১১:০৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এবারের রাজশাহীর মহিষবাথান বিএম স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল প্রতিবন্ধী আছমা খাতুন। প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও ইচ্ছে ছিল, যে করেই হোক এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করার। অভাব অনটনের সংসারে সব বাধা পেরিয়ে সফলতা পেয়েছেন তিনি। নগরীর মহিষবাথান বিএম স্কুল থেকে সবাইকে তাক লাগিয়ে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৪.৩৯ পেয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল আছমাকে কলেজে ভর্তির জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

নগরীর প্রতিবন্ধী আছমা খাতুন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নবাবগঞ্জ ঘোষপাড়া এলাকার আমানুল্লাহর স্ত্রী। তিনি এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভালো ফলাফল করেছে। আমানুল্লাহর পেশায় একজন বাবুর্চি। সংসারে তাদের এক ছেলে আর তারা স্বামী-স্ত্রী দুজন নিয়ে তিন সদস্য। স্বামীর সামান্য বেতনের সামান্য আয়েই এক ছেলের লেখাপড়ার খরচ ও খাবারের যোগান দিতে হয়। আর্থিক অসচ্ছলতায় সে পড়ালেখা চালিয়ে নিতে শঙ্কিত ছিল। তবে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিলের সহযোগিতায় নিজের ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে সে।

প্রতিবন্ধী আছমা খাতুন সোনার দেশকে জানান, ছোটবেলা থেকেই অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করেছি। কোনোদিন খাবার ঘরে ছিলো খেয়েছি, আবার কখনো না খেয়েই স্কুলে গিয়েছি। আমার স্বামী অনেক কষ্ট করেছে। আজ আমি ভালো ফলাফল করেছি। আমি লেখাপড়া শেষ করে ভালো একটা চাকরি পেলে সংসারের কষ্ট দূর হবে ইনশাআল্লাহ। এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ডিসি স্যার চাকরির দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, সর্বপ্রথম আমি আল্লাহ তায়ালার প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করি। আলহামদুলিল্লাহ আজ আমি এএসসি পরীক্ষায় পাশ করেছি। লেখাপড়ার জন্য অনেক কষ্ট করেছি, মাইনসের বাড়িতে কাম করেছি, সে কামের টাকা দিয়ে বই-খাতা-কলম কিনছি। কেননা স্বামীর সামান্য আয়ে আমাদের সংসার চলে। এই ভালো ফলাফল করার পেছনে জেলা প্রশাসক স্যারের অবদান আছে। জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল স্যার আমাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাই এসএসসি পরীক্ষা দিতে পেরেছি, না হলে পরীক্ষা দেয়া সম্ভব হতো না। স্যার ফর্ম ফিলাপ এবং স্কুলের এক বছরের বকেয়া পরিশোধ করেছেন। আজকে কলেজে ভর্তির জন্য টাকা দিয়েছেন তিনি।

প্রতিবন্ধী আছমা খাতুন দীর্ঘশ্বাস ফেলে জানান, কোনোদিন সকালে নাস্তা করার মতো খাবার ঘরে থাকেনি। বহুবার খেয়ে না খেয়ে স্কুলে যেতে হয়েছে। দুর্ভোগের মধ্যেও পড়াশোনা থেকে পিছপা হয়নি। আমার স্বামী বাবুর্চি- যা বেতন পায় তা থেকে সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হয়।

আছমার সাফল্যে তাঁর স্বামী আমানুল্লাহ বলেন, তাদের পরিবার একেবারে হতদরিদ্র। বাবুর্চির চাকরিতে সাড়ে ৫ হাজার টাকার বেতন পাই। এইদিয়া সংসারের খরচও হয় না। তাই ডিসি স্যারের সহযোগিতায় অনেক ভালো ফল করেছে। আল্লার কাছে আমার কোটি কোটি শুকরিয়া।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, আছমা প্রতিবন্ধী হয়েও এএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। সে আমাদের রাজশাহীর গর্ব। আর্থিক সংকটের কারণে তাকে এসএসসি পরীক্ষা দিতে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে। এতে সে অনেক ভালো রেজাল্ট করেছে। ভবিষ্যতে তাকে অবশ্যই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাহায্য সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ