প্রতিমা তুলির শেষ আঁচড়ে ব্যস্ত শিল্পীরা || জেলা ও নগরীর ৪২০ মণ্ডপে নিরাপত্তা গ্রহণ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৭, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


আর মাত্র দুইদিন বাকি। তাহলেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব। মণ্ডপে মণ্ডপে উঠবে দেবী দুর্গার প্রতিমা। তাই এখন তুলির শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজশাহীর শিল্পীরা। পাশাপাশি পূজার জন্য প্যান্ডেল নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। এছাড়া হিন্দু ধর্মালম্বীদের শারদীয় এ উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে এ বছর মোট ৪২০টি মণ্ডপে দুর্গা পূজার আয়োজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে নগরীতে ৭২টি পূজামণ্ডপ হবে। বাকি মণ্ডপগুলো রয়েছে জেলার নয়টি উপজেলায়। আর এসব মণ্ডপে পূজা সরবরাহের জন্য নগরীতে রয়েছে প্রায় দশটি কারখানা। এসব কারখানায় দিনরাত কাজ করছেন প্রায় অর্ধশতাধিক প্রতিমা শিল্পী।
নগরীর আলুপট্টির প্রতিমা তৈরির কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, কার্তিক চন্দ্র পাল ও গণেশ কুমার পালের কারখানার শিল্পীরা প্রতিমা তৈরির শেষ পর্যায়ে রয়েছেন। সবাই ব্যস্ত প্রতিমার শরীরে তুলির আঁচড় লাগাতে। এছাড়া ইতোমধ্যে অনেক প্রতিমার কাজ শেষ হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ শেষ করতে ব্যস্ত রয়েছেন প্রতিমা শিল্পীরা।
কারখানায় কর্মরত রয়েছেন ঋষি কান্ত পালের ছেলে প্রতিমা শিল্পী কার্তিক চন্দ্র পাল। ২৫ বছর বয়সের কার্তিক ১৪ বছর বয়স থেকেই এ পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি জানালেন, পঞ্চমীর রাতের আগেই তাদের প্রতিমার সব কাজ শেষ করতে হবে। তাই বাংলা আষাঢ় মাসের ১৫ তারিখ থেকেই তারা প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। সময় মতো প্রতিমা সরবরাহ করতে দিনরাত এক করে তারা কাজ করছেন।
প্রতিমা শিল্পীরা জানিয়েছেন, একটি প্রতিমা তৈরিতে শিল্পীদের ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতিমা তৈরির জন্য লাগে তিন থেকে চার ভ্যান মাটি। খড় লাগে পাঁচ থেকে ছয় পৌন। এছাড়া কাঠ, বাঁশ, দড়ি, পেরেক, সুতা, ধানের তুষ ও কয়েক ধরনের রঙ কিনতে তাদের এই টাকা খরচ হয়। রাজশাহীতে একেকটি প্রতিমা ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অনীল কুমার সরকার বলেন, চলতি মাসের ২৬ তারিখ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হবে। এ জন্য মণ্ডপে মণ্ডপে এখন প্রস্তুতি চলছে। প্রতিমা তৈরির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। আশাকরছি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সঙ্গেই এ উৎসব পালিত হবে।
জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজশাহীর সব পূজামণ্ডপে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকে থাকবেন গোয়েন্দা সদস্যরা। মণ্ডপ এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। কেউ যেন কোনো প্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে সে জন্য সর্বদা তৎপর থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অপরদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সকলের সহযোগিতা চেয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার সরদার তমিজ উদ্দিন বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও সার্বক্ষণিক নজরদারি করবেন। এছাড়া প্রত্যেকটি পূজামণ্ডপে আনসার বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ