প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৭, ১:০১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


দুর্গা প্রতিমা নির্মাণে ব্যস্ত কারিগর। ছবিটি আলূপট্টি কার্তিক পালের শায়ন মৃৎ শিল্পায়ন থেকে তোলা-সোনার দেশ

আর কয়েকদিন বাদে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। শুরু হবে এই পূজা উৎসবের আমেজ। এরই মধ্যে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মূর্তি শিল্পীরা। রাত-দিন প্রতিমা তৈরিতে তারা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কার চেয়ে কে বেশি আকর্ষণীয় মণ্ডপ তৈরি করবে তা নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন অনেকে। শিল্পীদের শৈল্পিক ছোঁয়ায় খড়, মাটি, পাট আর কাঁদায় তৈরি প্রতিমা উঠে দাঁড়াতে শুরু করেছে। শুধু বাকি পরিপাটি করে সাজানোর কাজটুকু।
এরমধ্যে কেউ কেউ ভারত থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে মূর্তির নমুনা সংগ্রহ করে তার আদলে তৈরির চেষ্টা করছেন, আবার কেউ নিজের মনের মাধুরি মিশিয়ে প্রতিমা তৈরি পরিকল্পনা করছেন। ইতোমধ্যে নগরীসহ উপজেলার সবকটি মণ্ডপের জন্য মূর্তি তৈরি কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন শুধু রয়েছে দেবী দুর্গাকে রাঙিয়ে তোলার কাজ। চলতি মাসের ২৬ সেপ্টেম্বর হতে ষষ্টি পূজার মাধ্যমে শুরু হবে সনাতন ধর্মের হিন্দু সম্প্রদায়ের সব থেকে বড় উৎসব শারদীয় সার্বজনিন দুর্গোৎসব এবং ৩০ সেপ্টেম্বর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে এই উৎসব।
মূর্তি শিল্পীরা তাদের সুনিপূণ রঙ্গের তুলিতে শারদীয় দেবী দুর্গাকে সাজিয়ে তুলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এছাড়া আনুষাঙ্গিক অন্যান্য প্রস্তুতিও চলছে পুরোদমে। বছরের একটি মাত্র এ পূজাকে ঘিরে সনাতন ধর্মালম্বীদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে উৎসবের আমেজ। যা কয়েকদিন পরেই পরিপূর্ণতা পাবে। দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে মার্কেটগুলোতে কেনাকাটার ধুমও লেগেছে।
পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নগরীতে ৭০টি পূজামণ্ডপ স্থাপন করা হবে। এদিকে পূজা উৎসবকে কেন্দ্র করে হিন্দু ধর্মালম্বীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যেই অধিকাংশ পূজামণ্ডপের প্রতিমা বানানোর কাজ শেষ হতে চলেছে। নগরীর গণকপাড়া, ঘোড়ামারা কাকলি মাঠ, আলুপট্টি, বোয়ালিয়াপাড়া লাঠিয়াল মণ্ডপ ও সাগরপাড়া এলাকায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত থাকছেন কারিগররা।
এবিষয়ে নগরীর শায়ন মৃৎ শিল্পায়নেয় প্রোপাইটর কার্তিক পাল বলেন, প্রতিবছর পূজার তিনমাস আগে থেকে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ততা শুরু হয়। এই কয়েক মাস দিনরাত সমানে কাজ করতে হয়। আর মাত্র কয়েকদিন বাকি আছে শারদীয় দুর্গাপূজার। মোটামুটি প্রতিমা তৈরি হয়ে গেছে। এখন শুধু রং দিয়ে সৌন্দর্যবর্ধিত করতে হবে। গত আষাঢ় মাস থেকে প্রতিমা তৈরি শুরু করেছি। আমি প্রায় ২০ টি মণ্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছি। এরকম সব কারিগররা প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
নগরীর প্রায় ৭০টি পূজামণ্ডপে দুর্গা উৎসব পালনের জন্য প্রত্যেকটি মণ্ডপে পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্গাপূজা যাতে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়, এজন্য সর্বস্তরের ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে আলোচনা করেছেন জেলা প্রশাসন। সুষ্ঠুভাবে পূজা তৈরি ও সম্পন্নের জন্য কাজ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে এবারের উৎসব ভালোভাবে পালন করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়। দুর্গা মা পৃথিবীতে আগমন করবেন তাই হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে। সকলের মাঝে সাজসাজ রব। নারীরাও সংসারের কাজ-কর্ম নিয়ে ব্যস্ত। তবে সবকিছুই মাকে ঘিরে বলে জানালেন হিন্দু নারীরা। পূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে হিন্দু-বৈৗদ্ধ-খিস্ট্রান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ বলেন, নগরীতে শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। গত বছর নগরীতে ৬৭ টি পূজা মণ্ডপে পূজা করা হয়েছিল। এবার ৩ টি বেড়ে ৭০ টি পূজা মণ্ডপ হচ্ছে। পূজা মণ্ডপগুলোতে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন পূজা উদযাপন পরিষদকে সার্বিকভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া সরকারিভাবে পূজা উদযাপনের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ মণ্ডপগুলোতে দেয়া হয়েছে। দুর্গোৎসবে মণ্ডপগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ