প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ || বৃষ্টিতে ভক্তদের ভোগান্তি

আপডেট: অক্টোবর ১, ২০১৭, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


একে অপরকে সিঁদুর মাখিয়ে উল্লাসে মেতে উঠেন হিন্দু নারীরা-সোনার দেশ

নগরীতে মা দুর্গার বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতিমা বিসর্জন শেষ হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরের পর থেকে তেল, সিঁদুর, মিষ্টি খাইয়ে মা দুর্গাকে বিদায় দিতে একে একে বিসর্জন শুরু হয়। তবে নগরীতে রাত ৯টার মধ্যে প্রতীমা বিসর্জনের সময় বেধে রাখায় বেলা ৩টার দিক থেকেই জল তর্পণের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে বিসর্জন দিতে শুরু করেন সনাতন ধর্মালম্বী সম্প্রদায়। এ সময় বিদায়ের বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে ভক্তদের মন।
এদিকে নবমী ও দশমীর দিনে বৃষ্টিতে পড়তে হয় ভক্তদের। সকাল থেকে মেঘলা আকাশ থাকলেও দুপুরের দিকে বৃষ্টির দেখা মিলে। এর মধ্যে অনেকে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ভক্তরা পদ্মার পাড়ে ভিড় জমান। আবার অনেকে ট্রাকে করে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে দুপুর ও সন্ধ্যার পর গান-বাজনা, ঢাকঢল বাজিয়ে দুর্গাকে বিসর্জন দিতে এগিয়ে যান পদ্মা পাড়ে। বৃষ্টির মধ্যে সামান্য হলেও ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয় ভক্তদের।
তবে এর আগে সকাল থেকেই নগরীর মন্দিরগুলোতে দেখা গেছে, সিঁদুর শুভক্ষণ ও শান্তিজল গ্রহণের জন্য নারীদের ভিড়। মণ্ডপে মণ্ডপে শুরু হয় নারীদের সিঁদুর খেলা। আনন্দের বন্যায় ভেসে যান তারা। নারীরা তাদের এবং পরিবারের কল্যাণে এই ধর্মীয় আচার পালন করেন। একে অপরকে আলিঙ্গণ করে শুভ বিজয়ার শুভেচ্ছা জানান দেন।
লাল সিঁদুর দেবী দুর্গার পায়ে নিবেদন করে। সেই সিঁদুর পা থেকে তুলে নিয়ে সিঁথিতে দিয়ে আগামী দিনের জন্য শুভ কামনা করা হয় মন্দিরে মন্দিরে। এরপরই ভক্তদের মনে বেজে ওঠে বিদায়ের করুণ সুর। দেবী দুর্গাকে বিসজর্ননের প্রস্তুতি শুরু হয় নগরীর মন্দিরগুলোতে। এবছর রাজশাহীতে মোট ৪২০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এরমধ্যে নগরীতে ৭২টি পূজামণ্ডপ রয়েছে এবং বাকি মণ্ডপগুলো উপজেলায়।
মন্দিরে পূজা সম্পন্নকারী ঠাকুর মিন্টু চক্রবর্তীসহ অন্যরা বলেন, সিঁদুর খেলার প্রাথমিক ইতিহাস অজানা। তবে ধারণা করা হয়, সিঁদুর শুভক্ষণের এই আচার অনুষ্ঠান আনুমানিক ৪০০ বছর আগে শুরু হয়েছিল। যেসময় মানুষ সবেমাত্র দুর্গাপূজা উদযাপন শুরু করে। তিনি বলেন, সিঁদুর খেলার আগে-পরে কিছু নিয়ম রয়েছে। বিজয়া দশমী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর দিন। দিনটি শেষ হয় মহাআরতির মাধ্যমে। এরমধ্যে দিয়ে দুর্গাপূজার সব কার্যক্রম শেষ হয়।
রোববার পবিত্র আশুরা হওয়ায় রাজশাহীতে দুপুরের পর থেকেই প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়। রাত ৯টার মধ্যেই প্রতিমা বিসর্জন শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে। তাই পদ্মাতীরে এখন ঢাক-ঢোল ও বাদ্য বাজিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে একের পর এক প্রতিমা। দেবী দুর্গাকে বিদায় দেয়া হচ্ছে নদীবক্ষে। প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার (সদর) ইফতে খায়ের আলম বলেন, প্রতিমা বিসর্জনের জন্য আগে থেকেই হিন্দু ধর্মীয় নেতাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেভাবেই দুপুরের পর থেকে রাতের মধ্যে পদ্মার তীরে প্রতিমা বিসর্জন চলবে। এজন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কোথাও বিশৃঙ্খলা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ