প্রতি ১০০ গ্রাম মশলায় দাম বেড়েছে ৫-১০ টাকা অধিকাংশ দোকানে নেয় মূল্য তালিকা

আপডেট: জুলাই ২৫, ২০২০, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


প্রতিবছর কোরবানির ইদকে সামনে রেখে বেড়ে যায় মশলার দাম। করোনাকালেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। ইদের আর কয়েক দিন বাকি। এরমধ্যেই অধিকাংশ মসলার দাম প্রতি ১০০ গ্রামে ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। এছাড়া নগরীর অধিকাংশ মসলার দোকানে প্রদর্শন করা হচ্ছে না মূল্য তালিকা। এতে কখনো কখনো ইচ্ছেমতো দাম নেয়ারও অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) নগরীর সাহেববাজার ঘুরে দেখা যায়, একই মসলা দোকান ভেদে ভিন্ন ভিন্ন দাম নেয়া হচ্ছে। তবে গত সপ্তাহের চেয়ে অধিকাংশ মসলার দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে। এতে অনেক ক্রেতারাও বিভ্রান্ত হচ্ছেন। দোকানিরা জানান, মসলার দাম সব জায়গায় এক হয় না। কেননা ক্রেতারা সাধারণত মসলা খুব কম পরিমাণেই কিনে থাকেন। এতে কেউ ১ কেজি মসলা এক সঙ্গে কিনলে দাম কম পড়ে। একই মসলা কেউ ১০০ গ্রাম কিনলে দাম কিছুটা বেশি নেয়া হয়। এই কম-বেশিটা একেকজন একেক রকম নিয়ে থাকে। এতে দেখা যায়, দোকানগুলোতেও ২-৫ টাকা কম বেশি হয়ে থাকে। তবে কোরবানির ইদকে সামনে রেখে কয়েকটি মসলার দাম বেড়েছে। বাকিগুলো আগের দামেই আছে। সামনে মসলার দাম আরো বাড়তে পারে বলেও জানান তারা।
এদিন, প্রতি ১০০ গ্রাম সাদা এলাচ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, প্রতি ১০০ গ্রাম গোল মরিচ ১৫০ টাকা, প্রতি ১০০ গ্রাম দারুচিনি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, প্রতি ১০০ গ্রাম জিরা ৫০ টাকা, প্রতি ১০০ গ্রাম কালো এলাচ ১০ টাকা, প্রতি ১০০ গ্রাম শুকনা মরিচ ৩০ টাকা, প্রতি ১০০ গ্রাম কিসমিস ৩৫ থেকে ৫০ টাকা, প্রতি ১০০ গ্রাম হলুদ ২০ থেকে ২৪ টাকা, প্রতি ১০০ গ্রাম ছিলা কাঁচাবাদাম ২০ থেকে ৩০ টাকা, প্রতি ১০০ গ্রাম কালোজিরা ৪০ টাকা, প্রতি ১০০ গ্রাম তেজপাতা ১৫ থেকে ২০ টাকা, আদা ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি, পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি এবং রসুন ৮০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি।
মসলার খুচরা বিক্রেতা জীবন আলী জানান, কোরবানির ইদকে সামনে রেখে মসলার দাম কিছুটা বাড়ে। এবার কয়েকটা মসলার দাম বেড়েছে। মসলা ছাড়া সব কিছুর দামই আগের মতো আছে। তারা এক দামেই মসলাসহ নিত্যপ্রয়োজীয় পণ্য বিক্রি করেন। সবার কাছে একই দাম। তারা ক্রেতাদের কাছে দাম বেশি চান না। ইদের আগে মসলার দাম আরো কিছুটা বাড়ার শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
ক্রেতা শামসুদ্দিন জানান, প্রতিবছরই ইদকে কেন্দ্র করে মসলার দাম বাড়ে। এটা সবাই জানে এবং আলোচনাও হয়। কিন্তু এর তেমন প্রতিকার হয় না। সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে এভাবেই চলতে হয় । সাধারণ মানুষকে নিয়ে কেউ ভাবে না। এখন দাম বাড়াবে। হয়তো প্রশাসন অভিযান চালাবে। কিন্তু বাজার স্বাভাবিক আদৌ রাখতে পারবে এর নিশ্চয়তা নেয়। তবে করোনাকালে ব্যবসায়ীদেরকে অনুরোধ জানাতে চাই এ বছর তারা যেন কিছুটা মানবিক আচরণ করে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ