প্রত্যাশার স্বপ্নপথ নিষ্কণ্ট হোক

আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০১৭, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

সুজিত সরকার


‘যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কী বেসেছে ভালো!’
রবীন্দ্রনাথের কবিতার চরণ দিয়ে শুরুর অর্থ হলো যারা নানা ভাবে বিপরীত প্রক্রিয়ায় মহাজোট সরকারের সমুদয় ঐতিহাসিক ও গৌরবময় অর্জনের পথে গোপনে ও প্রকাশ্যে নিরবধি কাঁটা বিছিয়ে যাচ্ছে, তারাই তো বায়ু বিষাক্ত করছে। মুছে ফেলছে আলোর সুবর্ণরেখা। তারা চিহ্নিত হলেও তাদের বিরুদ্ধে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারছে না কিংবা নিতে পারছে না। কারণ এ ক্ষেত্রে অধিকাংশই ঘরের শত্রু বিভীষণ। এই বিভীষণদের বিশ্বাস-ভালোবাসা ম্লান করতেও বাধে না, ‘নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রা ভঙ্গ’ করতেও পিছ পা হয় না। আজকে সরকার ও দলের গৌরবময় ভাবমূর্তি নষ্ট করতেও লজ্জা হয় না। সরকারকে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুবা সমুদয় অর্জন ব্যর্থ হবে। এবারের পাঠ্য বইয়ে অতি সতর্কভাবে সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার পাশাপশি দেশের খ্যাতনামা লেখকদের রচনা বাদ দিয়ে এবং অসংখ্য মুদ্রণ ত্রুটিসহ লেখকদের রচনার শব্দ বাদ দিয়ে তার এক নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এদের এই অপরাধ ক্ষমাহীন। কারণ তারা উত্তর প্রজন্মের বাঙালিদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিয়ে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে। এরাই মুক্ত বাতাস ও আলো প্রবাহের পথ রুদ্ধ করে বাঙালি জাতিকে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এদের রুখতে হবে, নির্মূল করতে হবে।
ত্রিশ লক্ষ শহিদের বিনিময়ে অর্জিত দেশের যারা হবে সুনাগরিক, তাদের ভেতরেই সরকারের ভেতরে অবস্থান করে বায়ু বিষাক্ত করছে এবং আলো নিভিয়ে দিতে নানা রকম দুষ্কর্ম, কুকর্ম করছে এবং নিজেদের অদক্ষতা প্রমাণ করে সরকারের সাফল্যের ভাবমূর্তি ম্লান করে দিচ্ছে। ২০১৭ সালে পাঠ্যবই তার একটি উৎকৃষ্ট প্রমাণ। এদের নেতৃত্বে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কি নিরাপদ? নিরাপদ যে নয়, তা শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের প্রতিবাদ এবং সুস্থ পরামর্শ তার প্রমাণ।
মহাজোট সরকারের কাছে দেশবাসীর প্রত্যাশা অনেক। মহাজোট সরকারের প্রতিটি সাফল্যে জাতি আশান্বিতও হয়। স্বপ্ন দেখে উন্নত ও নিরাপদ জীবন ব্যবস্থার। প্রত্যাশা করে এ ভাবে হাঁটি হাঁটি পা পা করে এই সরকার দেশকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যাবে সেটা স্পষ্ট। সরকার সে চেষ্টা বিরতিহীন করে যাচ্ছে। কিন্তু সরকারের ভেতরে কিছু অদক্ষ ও দায়িত্ববোধহীন বাক্যবাগিশ আছেন যারা প্রতিনিয়ত নিজে যা না তা ভেবে কেবল হাম্বরা ভাব করছেন আর দুষ্কর্মে যুক্ত হচ্ছেন, তারাই সরকারের সমুদয় অর্জনকে ধুলিস্মাৎ করছেন। তাহলে কেনো এই চিহ্নিত মানুষগুলো বছরের পর বছর ধরে পদ-পদবি দখলে রাখছেন? তবে কি তাদের লক্ষ্যই সরকারকে বিপর্যস্ত করা? সরকারের উন্নয়ন কর্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করা? না হলে কেনো কোটি কোটি টাকার অপচয়? নিশ্চয়ই তারা বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধবাদীদের সঙ্গে গোপন সম্পর্কের কারণে এমন অপকর্ম করেছে? বইয়ে যারা সাম্প্রদায়িকতার বিষ বপন করেছে, কবির কবিতার লাইন ও শব্দ পর্যন্ত পাল্টিয়েছে, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কেবল ওএসডি করা কিংবা কাউকে সাময়িক বরখাস্ত করা কোনো শাস্তি নয়। শাস্তিটা হতে হবে তারা অনৈতিক কাজ করেছে বলে অভিযুক্ত হয়েছে এবং সে অভিযোগে তাদের যে শাস্তি দেয়া হয়েছে, তা আইনের কোনো ফাঁক-ফোকর দিয়ে তারা আবার পদ ফিরে পেতে পারেন কিন্তু যে অর্থ ব্যয় হয়েছে তা তো আর ফিরে আসবে না। তাই তাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে পুনরায় বই মুদ্রণ করে শিক্ষার্থীদের কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বই পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা।
শিশুদের মননে যদি একবার সাম্প্রদায়িকতার বীজ কোনো কৌশলে বপন করা যায়, তাহলে তাদের দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিরোধী সন্ত্রাসী কাজ করানো সহজ হয়। বিশ্বে বাংলাদেশ বোধ করি একমাত্র দেশ যে দেশে দেশপ্রেমিক আর দেশবিরোধীরা সমান্তরালে বাস করে। এই দেশবিরোধীদের অনেকের বিচার অন্তে আদালতের রায়ে শাস্তি নিশ্চিত করে জাতির দীর্ঘদিনের কলঙ্ক মোছার সাহসী কাজটি করা সম্ভব হয়েছে। শাস্তির আতঙ্কে আজকে অনেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ব্যানারে নাম লেখাচ্ছে। তাদের কেউ কেউ ইতোমধ্যে নেতৃত্বের শিখরেও পৌঁছে গেছে। কেউ কেউ দলের ভেতরে থেকে দল বিরোধী দুষ্কর্মে লিপ্ত রয়েছে। এদের দৌড়াত্ম লাগামহীন। এরা ঘূণপোকার মতো কাঠের ভেতরে থেকে আসবাব ছিদ্র করে তার আয়ুষ্কাল সংক্ষিপ্ত করে। কিন্তু পোকা দেখা যায় না। এই চক্রও অবিকল তাই। তারা দলে থাকে কিন্তু দল ও সরকারের বিরুদ্ধে অপকর্মে যুক্ত হয়ে দলের ও সরকারের সাফল্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করে। এরা কখনো চিহ্নিত হয়। কিন্তু এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় না। শাস্তি যা হয় তার নাম ওএসডি, বদলি, সাময়িক বরখাস্ত, পদচ্যুতি। এ সব কোনো শাস্তি নয়। কারণ তারা দুষ্কর্মে সফল হওয়ার ফলে যে আর্থিক সুবিধা পেয়েছিলো, তা ওএসডি হওয়ার পর বেশ বিলাস-বৈভবে অবশিষ্ট সময়টা পার করেন। ইসলামি ব্যাংক-এর মতো যদি খোল-নলচে পাল্টানোর মতো কোনো আইনি কৌশল নেয়া যেতো, তাহলে দুর্বৃত্তায়নের পথ তাদের সামনে খোলা থাকতো না। সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী বই মুদ্রণে তারা যে ষড়যন্ত্র করেছে, তার শাস্তি হিসেবে তাদের স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে নতুন পাঠ্যবই মুদ্রণ করে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া যেতো তাহলে সে শাস্তিটা হতো প্রকৃত শাস্তি। জানি না, সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কি সিদ্ধান্ত নেবে। তবে কোনো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত মন্ত্রী মাত্রই এই আত্মঘাতী ত্রুটির জন্যে প্রথমে নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে পদত্যাগ করতেন। রিজার্ভ চুরির পর যেমন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদত্যাগ করেছিলেন, শিক্ষা মন্ত্রীও সেটা করলে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পেতো। তা তো করলেনই না উল্টো তিনি বললেন, শিক্ষকেরা শ্রেণিকক্ষে ভুল শুধরে নেবেন। এটা কি সম্ভব? তিনি এতো জ্ঞানী-গুণি হয়েও কী করে এমন অযৌক্তিক বক্তব্য দিলেন সেটা দেশবাসীর কাছে পরিস্কার নয়। এটা নিছক ‘উদোর পি-ি বুধোর ঘাড়ে’ চাপানো। অবশ্য সেটা নিছক তার ব্যক্তিগত উপলব্ধির বিষয়। কিন্তু পুনরায় যদি বই মুদ্রণ করতে হয়ে তাহলে আবারও দেশের শত শত কোটি টাকা ব্যয় হবে। এটা অপচয়। রাষ্ট্রের বিপুল অঙ্কের অর্থের এই অপচয়ের দায়িত্ব কে নেবে? এটা তো পাবলিক মানি। পাবলিক মানির মূল্য কিছু মন্ত্রী ও সুচতুর আমলার না থাকতে পারে, কিন্তু সচেতন ও দেশপ্রেমিক মানুষের কাছে তা আছে বলেই তারা প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। তার জবাব সংশ্লিষ্টরা কি দেবেন? দিতে পারবেন না। দিলেও তা কতোটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা সকলেই জানে। সেটা হবে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’র মতো একটি ব্যর্থ চেষ্টা।
সবচেয়ে যে বিষয়টি আজকে প্রশ্ন উঠেছে, তা হচ্ছে শিক্ষার মান নিয়ে। দেশে এক সময় রাজনীতিক নেতাদের প্রভাবে কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এক থানায় দশের অধিক কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সে সব কলেজের অধিকাংশ শিক্ষকই তার পঠিত বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখেন না। তারা পরীক্ষা পাসের পর বইয়ে সংস্পর্শে থাকেননি। শিক্ষকতাটাকে তারা সামাজিক মর্যাদা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। অনেক কলেজ আছে যেখানে শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা বেশি। উপরন্তু সেই সব কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স পড়ানোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়োগ দেয়া হচ্ছে ততোধিক অদক্ষ শিক্ষককে। তারা যে কী ভাবে পড়াবেন আর পড়ালে সেই পাঠদান থেকে কি ফল উৎপন্ন হবে সেটা সবচেয়ে দুর্ভাবনার বিষয়। কেনো না, চিকিৎসক ভুল অসুধ প্রয়োগ করলে একজন রোগী আক্রান্ত হয়, কিন্তু শিক্ষক যদি মানসম্পন্ন শিক্ষা দিতে না পারেন, তাহলে সমস্ত প্রজন্মই হয়ে পড়বে কুশিক্ষা-অশিক্ষার অধিকারী। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই যে অনার্স কোর্স খোলা হচ্ছে, তা যে আগামী দশ বছরে একটি অশিক্ষার ভাগাড়, তা সহজেই অনুমেয়। মন্ত্রী- রাজনীতিক নেতারা দলের কর্মী, সমর্থক কিংবা আত্মীয় হিসেবে এদেরই নিয়োগ দেয়ার সুপারিশ করেন। বিশ্ববিদ্যালযের শিক্ষকেরা দশ-বিশ হাজার টাকা পেয়ে তাদেরই নিয়োগ দেয়ার ওই সুপারিশপত্রে স্বাক্ষর দেন। এটা পাপ। একটা প্রজন্মকে সুশিক্ষা থেকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়ার জন্যে এমন কাজও দুষ্কর্ম কিংবা অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে একটা দেশ অর্জিত হয় একাত্তরে। সেই দেশের উন্নয়ন কী ভাবে সম্ভব যদি না সে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন না হয়? গুণগত মান যদি না থাকে সেটা শিক্ষাই নয়। কুশিক্ষা। সে সব ইশকুল কলেজে না আছে খেলার মাঠ, না আছে পরিচ্ছন্ন শ্রেণিকক্ষ। ভর্তির পর আরেক বার শিক্ষার্থীরা আসে সেটা পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্যে। অথচ শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হওয়ার জন্যে কোনো উদ্যোগ নেই। তাদের বিদ্যালয়মুখি করার জন্যে মন্ত্রণালয়েরও কোনো কর্মসূচি নেই। কিন্তু মন্ত্রী যখন কথা বলেন, তখন মনে হবে তিনি সব করছেন। গুণিজনদের প্রণীত শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন শিক্ষা মন্ত্রণালয় আজাব্দি করতে পারেননি। আট বছর কি যথেষ্ট সময় নয়? হিসেবে করলে দেখা যাবে শিক্ষা খাতে যে বাজেট বরাদ্দ করা হয়, তার পঞ্চাশ শতাংশই নানা শ্রেণির কত্তাদের ভ্রমণভাতা আর ভূয়া প্রকল্প ব্যয়ে শেষ হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানে যে অবকাঠামো নির্মিত হয়, তার মানও আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতো তারা কি পড়ছেন, কেনো পড়ছেন সে সম্পর্কে ধারণাহীন। অধিকাংশ শিক্ষার্থীই একটা চিঠি কিংবা শিক্ষকেরা নৈমিত্তিক ছুটির দরখাস্ত লিখতে পারেন না। এরাই চাচা-মামার জোরে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পান। পেয়ে যে চিঠি লেখে, ফাইলে নোট দেন, তা ভুলে ভরা। তারিখের শেষে লিখেন ‘ইং’। এই ‘ইং’ যে বাস্তবে নেই, ওটা ইংরেজদের তারিখ নয়, সে বোধটুকুও নেই। ওটা গ্রেগোরিয়ান তারিখ। যে তারিখটি সারা বিশ্ব অনুসরণ করে। বাঙালির বঙ্গাব্দ আছে, কিন্তু ইংরেজদের ইংরেজি সাল তারিখ নেই। ‘ইং’ লেখা সে কারণে ভুল। তাহলে আমরা কি এ ভাবে ভুলে ভুলে দেশের উন্নয়ন সাধনে গর্বিত হবো। চলছি বলেই আমাদের পাশ্চাত্যেও কোনো দেশে গেলে শেষ যে ডিগ্রি অর্জন করেছি, সেটা ওরা পুনরায় পড়ান। তাতে ওদের ভাষা সম্পর্কেও আমরা একটা ধারণা পাই, তেমনি ওদের কাছে করুণাও ভিক্ষে করি। ওদের ধারণা আমরা কিছু শিখিনি। বাস্তবেও তাই। যে শিক্ষকেরা আমাদের দেশে পাঠদান করছেন, তাদের সিংহ ভাগই অদক্ষ ও বিষয়জ্ঞান শূন্য। বলা যায়, প্রাথমিক ধারণাও তাদের নেই। উপরন্তু নেই মানবিক মূল্যবোধ এবং দেশপ্রেম। দেশপ্রেমিক হলে কখনোই অশিক্ষককে কখনোই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে তারা পারতেন না। পারবেন না শিশু মানসে সাম্প্রদায়িক চেতনা ও ভুল পাঠের আয়োজন করতে।
যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এতোটা ত্রুটি, ভয়ঙ্কর চাপাবাজির খেলা, সে দেশে বহুতল ভবন দূর পাল্লার গাড়ি চলাচলের সেতু হতে পারে, কিন্তু মূল্যবোধ অর্জিত হয় না। লাভ হয় সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থান, ধর্মান্ধতা আর দেশবিরোধী দুষ্ক্রিতিকারীদের। সরকারকে আজকে ভাবতে হবে কোন্ প্রক্রিয়ায় দেশপ্রেমিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক গড়া যায়। কোন্ প্রক্রিয়ায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়া যায় সে বিষয়ে। গ্রামে-গঞ্জের কলেজে অনার্স পড়লেই দক্ষ মানুষ গড়া যায় না। তাতে উচ্চ শিক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে কিন্তু বিশ্বমানের শিক্ষিত পাওয়া যাবে না। আগে প্রাথমিক শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। তার পর উচ্চ শিক্ষা। সবাই উচ্চ শিক্ষা নেয়ার যোগ্য নয়। যোগ্য যারা তারা অবশ্যই মেধাবী। অবশিষ্টরা হবে দক্ষ যে কাজে সে উৎসাহী হবে সে বিষয়ে। তাকে সে ভাবে প্রশিক্ষিত করে কাজে যুক্ত করতে হবে। শেখাতে হবে তার কাজ দেশকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যাবে। ক্লাইভ বা তার পরবর্তী এমন অনেক শাসক ভারতে এসেছিলেন যারা ছিলেন মাধ্যমিক পাসও নন। অথচ তারা এসে ভারতের দ-মু-ের অধিকারী। তারা ছিলেন নিজ কাজে দক্ষ এবং দেশপ্রেমিক। আমাদের দেশের সেই দক্ষ মানুষ চাই। বায়ু দুষণকারী আর আলো নেভানোর ষড়যন্ত্রকারী এবং দেশবিরোধীদের প্রয়োজন নেই। আমাদের প্রত্যাশার স্বপ্নপথ নিষ্কণ্ট হোক এটাই আমাদের রাষ্ট্র পরিচালকদের কাছে একমাত্র প্রত্যাশা।