প্রথমবর্ষে ভর্তির পরও রুয়েটে দুই শতাধিক সিট খালি, ক্লাশ স্থগিত

আপডেট: জানুয়ারি ৫, ২০১৭, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক



রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও দুই শতাধিক সিট খালি রয়েছে। প্রথম বর্ষের ৮৭০ আসনের বিপরীতে ২২৮টি সিল খালি থাকায় প্রথম বর্ষের নির্ধারিত ওরিয়েন্টশন ক্লাশ স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন খোলা দুইটিসহ তিন বিভাগে কোন শিক্ষার্থীই ভর্তি হননি। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
রুয়েট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে রুয়েটে ভর্তির জন্য আবেদন করেন প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষার্থী। এর মধ্যে বাছাইকৃত ৮ হাজার শিক্ষার্থী গত বছরের ২৮ অক্টোবর ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এতে ২ হাজার ৫শ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। কিন্তু পাঁচ দফা অপেক্ষমান তালিকা থেকে উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে ডাকার পরও ২২৮টি সিট খালি রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পঞ্চম অপেক্ষমান তালিকার তথ্য অনুযায়ী, রুয়েটের ১৪টি বিভাগের মধ্যে ইলেকট্রিক্যাল এ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এমই), সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং (সিই), কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ও ইলেকট্রনিকস এ্যান্ড  কম্পিউটার  ইঞ্জিনিয়ারিং (ইসিই) বিভাগের আসন পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু গ্লাস এ্যান্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং (জিসিই), আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং (ইউআরপি) ও ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (এমএসই) বিভাগের সর্বমোট ৯০টি আসনে কোন শিক্ষার্থীই ভর্তি হননি। বেশ কিছু আসন শুন্য রয়েছে অন্য সাতটি বিভাগেও।
চতুর্থ অপেক্ষমান তালিকা পর্যন্ত ভর্তি সম্পন্ন হয়েছে ৬০৯ শিক্ষার্থীর। রুয়েট সূত্র জানায়, গত ২৯ অক্টোবর পঞ্চম অপেক্ষমান তালিকা থেকে শিক্ষার্থী ভর্তির পরেও ২২৮টি আসন শূন্য রয়ে গেছে। অপেক্ষমান তালিকায় আর কোন শিক্ষার্থী না থাকায় এই ২২৮ আসনে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে রুয়েটে নতুন শিক্ষাবর্ষে ক্লাস শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ১৪ জানুয়ারি দেয়া থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে ক্লাশ শুরুর নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে রুয়েটের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এ ব্যাপারে রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল আলম বেগ বলেন, ২২৮টি শূন্য আসনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে একাডেমিক কাউন্সিল। আগামী ১০ জানুয়ারি একাডেমিক কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ঢাকাকেন্দ্রীক। তাই অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিলেও ঢাকার কোন সরকারি অথবা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেলে চলে যান। ভালো ছাত্ররা সব বিশ্ববিদ্যালয়েই চান্স পায়। কিন্তু তারা তো আর সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় না। এজন্য অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন শূন্য থাকে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা চালু করা গেলে এই সমস্যা থাকবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ