প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি হাল্কা করে দেখার সুযোগ নেই

আপডেট: মে ২৪, ২০২৩, ৩:৪৫ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ প্রকাশ্যে সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ডাক দিয়েছেন। ধৃষ্টতাপূর্ণ ও সন্ত্রাসে-উস্কানির পর প্রতিবাদ বিক্ষোভে দেশ উত্তাল হয়ে উঠেছে। আওয়ামীলীগ বিষয়টিকে খুবই গুরুত্বের সাথে নিয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয়ভাবে ব্যাপক বিক্ষোভ-সমাবেশ করছে। ইতোমধ্যেই হুমকিদাতা বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে কয়েক স্থানে মামলা হয়েছে। রাজনৈতিক বোদ্ধা মহলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও হচ্ছে।
শুক্রবার (১৯ মে) বিকেলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার শিবপুর হাই স্কুল মাঠে মহানগর এবং জেলা বিএনপির জনসমাবেশে বিএনপি নেতা চাঁদ বলেছেন, ‘আর ২৭ দফা ১০ দফার মধ্যে আমরা নাই। এক দফা শেখ হাসিনাকে কবরস্থানে পাঠাতে হবে। শেখ হাসিনাকে কবরে পাঠাতে হবে। শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করার জন্য যা যা করার দরকার আমরা করব।’
অবশ্য বিএনপির শীর্ষ নেতারা ইতোমধ্যেই এ ব্যাপারে তাদের মন্তব্য রেখেছেন। তারা বলছেন, চাঁদের বক্তব্য নেহাতই রাজনৈতিক বক্তব্য যা রাজনৈতিক সমাবেশে হয়ে থাকে। দায় এড়ানোর জন্য এমন কথা বলা যেতেই পারে কিন্তু রাজনৈতিক বক্তব্যের অজুহাত দিয়ে সরকার প্রধানকে কি ‘কবরাস্থানে’পাঠানোর জন্য কর্মি-সমর্থকদের উস্কানি দেয়া যায়? এতে কি আইনের বড় ধরনের ব্যত্যয় ঘটেনি? বিএনপি নেতারা কী বলবেন? বিএনপির ওই জনসমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সেলিনা রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সামনে চাঁদের সন্ত্রাসে-উস্কানিমূলক বক্তব্য কতটা ব্যক্তি চাঁদের, না এ বক্তব্য বিএনপিরই!
বিএনপির অতীত রাজনীতির ধারাবাহিকতা পর্যবেক্ষণ করলে চাঁদের বক্তব্যে দলীয় রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। বিএনপির রাজনীতির ভিত্তিই গড়ে উঠেছে ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায়। বিএনপির পুরো রাজনীতির মধ্যে ষড়যন্ত্রের দর্শনই মূর্তমান হয়ে ওঠে। এর সাথে কেবল পাকিস্তানি ধারার রাজনীতির যথেষ্ট সাদৃশ্য পাওয়া যায়। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনাকে হত্যার বারবার চেষ্টা হয়েছে। এসব হত্যা ষড়যন্ত্রের সাখে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিএনপির যোগসাজস লক্ষ্য করা যায়। ২৪ আগস্টের গ্রেনেড হামলা তার স্পষ্ট দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে এবং বিএনপির শীর্ষ নেতাদের যোগাসাজসে নির্মমভাবে গ্রেনেড হামলা পরিচালিত হয়েছে। এ ঘটনায় ২৪ জনকে প্রাণ দিতে হয়েছে। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে বিএনপির সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ, হত্যা সংঘটনের নিমর্মতা নিশ্চয় দেশের মানুষের স্মৃতিতে এখনো জ্বাজ্জল্যমান। মানুষ এখনো শিহরিয়ে ওঠে সাধারণ মানুষকে কীভাবে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে অঙ্গার করেছিল।
বিএনপি নেতা চাঁদের সন্ত্রাসে-উস্কানিমূলক বক্তব্যকে রাজনৈতিক বক্তব্য এবং এই বক্তব্যকে এতোটা গুরুত্ব দেখার মত বিষয় নয় যারা এ ধরনের কথা বলছেন তারা মতলববাজ। বিএনপির পূর্বাপর সন্ত্রাসী ঘটনা সাক্ষ্য বহন করে বিএনপি নেতাদের কোনো বক্তব্যই গুরুত্বহীন নয়। দেশের মানুষ তাদের অভিজ্ঞতার আলোকেই চাঁদের বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানাবে এটাই স্বাভাবিক। চাঁদের বক্ত্য যদি দলীয় বক্তব্য না-ই হবে তা হলে বিএনপির শীর্ষ নেতারা তার বক্তব্যকে ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করবেন কেন? বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো বলা হয়নি যে, ওই বক্তব্য চাঁদের একান্তই তার বক্তব্য। এর সাথে বিএনপির কোনো সমর্থন নাই। এ ক্ষেত্রে চাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় কোনো ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয় নি। ফলে বিএনপি নেতার উগ্র-আগ্রাসী বক্তব্যকে হাল্কা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।