প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্পে উত্তর জনপদে স্বস্তি

আপডেট: মে ১৮, ২০২২, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্পে স্বস্তি ফিরছে উত্তর জনপদে। পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে তার অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্পে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (রামেবি)।প্রতিষ্ঠানটির ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) প্রণয়ন করে পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেয়া হয়েছে গত সপ্তাহে।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী সভায় পাশ হলেই শুরু হবে রামেবির অবকাঠামো নির্মাণ কাজ। এরপর রামেবিতে নিয়োগ হবে অন্তত ৩ হাজার জনবল। এতে অনেকাংশে কমবে বেকারত্ব। প্রতিষ্ঠানটির আওতাভুক্ত সাড়ে ১২ হাজার শিক্ষার্থীর লেখাপড়া স্বাভাবিক রাখতেই এর মধ্যে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে ১০ অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১২ মে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৬ ’ জাতীয় সংসদে পাশ হয়। এরপর ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মাসুম হাবিবকে রামেবির প্রথম উপাচার্য নিয়োগ দেয় সরকার।

ওই বছরের ৩০ এপ্রিল যোগদানের পর ২০২১ সালের ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত ৪ বছর তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করলেও স্থায়ী রূপ দিতে পারেননি রামেবির। ব্যর্থ হন ডিপিপি প্রনয়নেও। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের ২৭ মে রামেবি উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ঢাকা মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. এ জেড এম মোস্তাক হোসেন। করোনাকালে নিয়োগের পর স্বল্প জনবলেই কাজ শুরু করেন তিনি। নজর দেন রামেবির জায়গা চূড়ান্ত করণের দিকে। যোগদানের বছর খানেকের মধ্যেই গত রোববার ডিপিপি প্রণয়ন করে জমা দিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনে। আগামী একনেক সভায় সেটি পাশ হতে পারে।

সূত্র জানায়, রামেবি অধিভূক্ত মেডিকেল কলেজ সংখ্যা ২৬টি এর মধ্যে ১৩টি সরকারি ও ১৩টি বেসরকারিসহ মোট নার্সিং কলেজ রয়েছে ৪০টি, ইউনানী আয়ুর্বেদিক ১টি, ২টি হেলস্থ টেকনোলজি ইনিস্টিটিউট। রামেবির অধীনে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ১২ হাজার। এছাড়াও ২০২১-২২ শিক্ষা বছরে আরো প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হব।

তাদের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজন অনেক জনবল। ইতোমধ্যে ১০ অভিজ্ঞকর্মকর্তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। রামেবির রেজিস্ট্রার, কলেজ পরিদর্শক এবং অর্থ ও হিসাব দপ্তরে দুজন করে মোট নিয়োগ পেয়েছেন ৬ জন। এছাড়া পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে ৩ জন এবং বাকি একজনের নিয়োগ হয়েছে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরে।

নিয়োগ প্রাপ্তদের বেশির ভাগই পূর্বে মেডিকেল সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সূত্র বলছে, রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ প্রাপ্ত ডা. আনোয়ারুল কাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধান ছিলেন। ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ পাওয়া ডা. আমিন আহম্মেদ খান ছিলেন রংপুর স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ডা. আনোয়ার হাবিব একটি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ঘ দিন দায়িত্ব পালন করেন।

আর সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ডা. আমির হোসেনের সর্বশেষ কর্মস্থল ছিল রাজশাহী বক্ষ ব্যাধি হাসপাতাল। কলেজ পরিদর্শক পদে ডা. মোসাদ্দেক হোসেন ছিলেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রক্ত সঞ্চালন বিভাগের প্রধান। ডেপুটি কলেজ পরিদর্শক ডা. জোহা মোহাম্মদ মেহের হোসেনের সর্বশেষ কর্মস্থল যশোর মেডিকেল কলেজ।

জায়গা চূড়ান্তকরণ হলে এ অঞ্চলে বেকার সমস্যা দূরীকরণে ও প্রধানমন্ত্রীর এ প্রকল্প আলো ছড়াবে বলে প্রত্যাশা বিশিষ্টজনদের।
ফলে প্রকল্প পাস, জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণ করাই মূল টার্গেট বলে জানিয়েছেন রামেবি উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম মোস্তাক হোসেন। তিনি বলেন, একনেকে অনুমোদন হলে জমি চূড়ান্ত করে অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু করব।

পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে পারলে জনবল ও নিয়োগ হবে। ফলে অনেকাংশে দূর হবে এ অঞ্চলের বেকার সমস্যা। দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বঙ্গবন্ধু কন্যার স্বপ্ন পূরণে যেকোনো চ্যালেঞ্জিং সিদ্ধান্ত নিতে আমি প্রস্তত।