প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আ’লীগ চাঙা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৭, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহী আসছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কয়েক বছর পর প্রধানমন্ত্রীর আগমনে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নগরীর উপকণ্ঠ হরিয়ান সুগার মিল মাঠে আগামি ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। জনসভা সফল করতে ইতোমধ্যে রাজশাহী মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও তৃণমূল পর্যায়ে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করার জন্য ক্দ্রেীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ইতোমধ্যে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দসহ রাজশাহী অঞ্চলের সাংসদদের সাথে মতবিনিময় করেছেন। দিয়েছেন দিকনের্দশনা। নেতাকর্মীরা এখন অপেক্ষায় রয়েছেন প্রিয় নেত্রীকে একনজর দেখার জন্য। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দলীয় নির্দেশনার পাশাপাশি রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়ন সম্পর্কে তিনি কী ঘোষণা দেন সে সম্পর্কে জানার জন্য আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করছেন নেতাকর্মীরা।
আর জনসভা সফল করতে ইতোমধ্যে রাজশাহী মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে মাইকে ঘোষণা। বিভিন্ন এলাকায় জনসভা সফল করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ছবি সংবলিত পোস্টার সাঁটানো হচ্ছে। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে সাথে সাধারণ মানুষও প্রধানমন্ত্রীর আগমন নিয়ে আলাপচারিতায় রয়েছেন ব্যস্ত। দলীয় নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর আগমন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করছেন। এসবের পাশাপাশি আওযামী লীগের নেতাকর্মীরাসহ সাধারণ মানুষ আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহীর উন্নয়নের জন্য বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেবেন।
এদিকে দলীয় প্রস্তুতি হিসেবে আলোচনা ও বর্ধিত সভার মধ্যে দিয়ে বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের যোগাযোগ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যস্ততা বেড়েছে। তারা এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন নগরীতে। তাদের সঙ্গেই সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছেন মহানগরীর শীর্ষ নেতারা। নেতাকর্মীরা আশা করছেন, এবার প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর উন্নয়ন ও খায়রুজ্জামান লিটনকে নিয়ে নতুন কোন ‘শুভ বার্তা’ দিয়ে যাবেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে রাজশাহীর নেতাকর্মীরা বলছেন, জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহিদ  এএইচএম কামারুজ্জামানের পুত্র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এখন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অভিভাবক। বিগত সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে লিটনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা প্রশংসনীয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সময় ও অসময়ে নেতাকর্মীদের সবসময় পাশে রয়েছেন। তা ছাড়া লিটনের মেধা, কাজ করার মানসিকতা, কর্মীদের প্রতি দরদ, উদার দৃষ্টিভঙ্গি ও সহমর্মিতা প্রশংসনীয়। তাই লিটন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর যেকোনো ‘মেসেজ’ প্রত্যাশা করছেন নেতাকর্মীরা।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, রাজশাহী পিছিয়ে পড়া জনপদ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এ অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে রাজশাহীর উন্নয়নে আরো প্রাপ্তি যোগ হবে। আমরা উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাব। তিনি বলেন, আগামি ১৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে। আর এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমরা একযোগে কাজ করছি। আশা করছি, ব্যাপক জনসমাগম হবে এ জনসভায়।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও নগর সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন যে এলাকায় যান, তখন সে এলাকার নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ উজ্জীবিত হন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে ওই এলাকার উন্নয়ন হয়। রাজশাহীও এর ব্যতিক্রম নয়। রাজশাহীর উন্নয়ন ও দলীয় ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন বলে আশা করছি।
লিটন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে রাজশাহীর উন্নয়নের জন্য আমাদের একগুচ্ছ দাবি-দাওয়া রয়েছে। রাজশাহীতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, গ্যাসভিত্তিক শিল্প কারখানা স্থাপন, সড়ক সংস্কারের জন্য বড় আকারের বরাদ্দ, রাজশাহী বিমানবন্দর সম্প্রসারণ, রাজশাহী-আব্দুলপুর ডুয়েল গজ রেললাইন চালুসহ আরো বেশকিছু দাবি-দাওয়া রয়েছে। ইতোমধ্যে বেশকিছু উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। সেগুলোর কাজও শুরু হয়েছে। আশা করছি, প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ঘোষণা দেবেন। এর ফলে এ এলাকার উন্নয়নের গতি তরান্বিত হবে।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমি সারদায় শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এরপর তিনি দুপুরের পর নগরীর উপকণ্ঠ হরিয়ান সুগার মিলে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেবেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ