প্রধানমন্ত্রীর ভুটান সফর || সাফল্য ও সম্ভাবনার নতুন অধ্যায়

আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০১৭, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী তিন দিনের ভুটান সফর শেষে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছেন। ঢাকায় দুই দেশের ২৬ দফা বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ১৮ এপ্রিল ভুটান সফরে যান। সফরের প্রথম দিনেই দুই দেশের সরকার প্রধানের শীর্ষ বৈঠকের পর দ্বৈত কর প্রত্যাহার, বাংলাদেশের নৌপথ ভুটানকে ব্যবহার করতে দেয়া, কৃষি, সংস্কৃতি ও পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পাঁচটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই করেছে প্রতিবেশী দুই দেশ।
সকালে শেখ হাসিনা ভুটান পৌঁছলে পারো বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী তোবগে। এরপর জাঁকজমকপূর্ণ শোভাযাত্রার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে রাজধানী থিম্ফুতে নিয়ে যাওয়া হয়।
দুপুরের পর শেখ হাসিনাকে ভুটানের রাজকীয় প্রাসাদে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেয়া হয়। সেখানে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিল ও রানি জেটসান পেমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি।
শীর্ষ বৈঠকের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক সাংবাদিকদের জানান, “আলোচনার মধ্যে যেগুলো প্রমিনেন্টলি এসেছে সেগুলো হল দুদেশের কানেকটিভিকে ধরে ব্যবসা ও বাণিজ্য বৃদ্ধি।”
ঢাকায় প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বিদ্যুৎ, পানির সম্পদ এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে উপআঞ্চলিক সহযোগিতার সুযোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আঞ্চলিক কাঠামোয় নীতিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জলবিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ, ভুটান ও ভারতের মধ্যে প্রস্তাবিত ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকের বিষয়টিকে স্বাগত জানান হয়।
বাংলাদেশ ভুটানে আরো তৈরি পোশাক, সিরামিক ওষুধ, পাট, পাটজাত ও চামড়াজাত পণ্য, প্রসাধন সামগ্রি ও কৃষিপণ্য রফতানির প্রস্তাব দিয়েছে। ভুটান এসব পণ্য তাদের দেশে বাজারজাতকরণ এবং দু দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অধিকতর সম্প্রসারণে একমত হয়েছে।
ভুটান সফরে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেশটির রাজপরিবারের সদস্যদের আন্তরিক সম্পর্কের বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছেন ভুটানের চতুর্থ রাজা জিগমে সিংয়ে ওয়ানচুক। ৬১ বছর বয়সী ওয়ানচুক ভুটানের বর্তমান রাজা জিগমে খেসার নামগিলের বাবা। প্রধানমন্ত্রীর ভুটান সফর সফলতা এ থেকেই অনুমান করা যায়।
ভূ-রাজনৈতিক কারণেই বাংলাদেশের গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। এ গুরুত্ব বিশ্বের মোড়ল রাষ্ট্রগুলোও অনুধাবন করছে যার যার অবস্থান থেকে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ভারত ও চিনের সাথে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে ভাল সমঝোতা তৈরি করতে পেরেছে। কূটনৈতিক দক্ষতায় বাংলাদেশের সক্ষমতাও বেড়েছে। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে বাংলাদেশের বোঝাপড়াটা দেশের স্বার্থকে অনেক ওপরে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশ এখন অপার সম্ভাবনা ও মর্যাদার দেশ।
নেপালের সাথেও বাংলাদেশের সৌহার্দ সম্পর্কের ভীত মজবুত করার গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও নেপালের মধ্যে যোগাযোগ ও বাণিজ্য সহযোগিতা উভয় দেশের স্বার্থের জন্য সহায়ক হবে। এ বিষয়টি আলোচনা টেবিলেই থেকে গেছে। আমরা মনে করি, এটিকে বাস্তবে রূপ দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পরস্পর সহযোগিতার সম্পর্ক তৈরি করে বিশ্বে একটি নজির সৃষ্টি করা যায়। এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক অনেক সমস্যা, যেমন- জঙ্গিবাদ, নারী ও শিশু পাচার, মাদকের চোরাচালান ইত্যিাদির ক্ষেত্রেও প্রভূত উন্নতি সাধিত হতে পারে। বাংলাদেশ তার বন্ধুত্বের নীতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে- অন্য দেশগুলোও এই বন্ধুত্বকে সম্প্রসারিত করে আঞ্চলিক সহযোগিতায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করবেÑএটাই প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ