প্রধান শিক্ষককে পেটানোর অভিযোগে আ’লীগ নেতা মজিদসহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা ।। আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট: এপ্রিল ৭, ২০১৭, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


দুর্গাপুর উপজেলার কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকের উপর হামলার প্রতিবাদে মানবন্ধনে অংগ্রহনকারীরা- সোনার দেশ

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ তিনজনকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল মজিদ সরদারসহ ৫৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার রাতে আহত প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন নিজেই বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও মারপিটের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর পুঠিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসলাম উদ্দিনের নেতৃত্বে দুর্গাপুর থানার পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালায়। তবে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা মজিদসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা সদরে শিক্ষক সমিতির আয়োজনে মানববন্ধন করা হয়েছে। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেন শিক্ষক নেতারা।
রাজশাহী জেলা শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবদুল কাদের। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান সরকার, সাধারণ সম্পাদক আবদুল বারী, প্রচার সম্পাদক খ.ম নাসিরুদ্দিন উইলিয়াম, দাওকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান, কয়ামাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিল উদ্দিন, গোলাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমানসহ পাঁচ শতাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও শিক্ষক নেতাদের আন্দোলনের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করে মানবন্ধনে অংশ নেন।
এ সময় মানববন্ধনে অংশ নেয়া শিক্ষক নেতারা তাদের বক্তব্যে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা মজিদ সরদার একের পর এক শিক্ষকদের নানা অজুহাত তুলে মারপিট করে চলেছেন। তিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন কিশোরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নানকে মারপিট করেন। হরিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলামকে মারপিট করেন। দাওকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে হাফিজুর রহমানকে মারপিট করেন। দাওকান্দি কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এর আগে কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের আরো দুই শিক্ষককে মারপিট করেন।
সর্বশেষ তিনি চাঁদার দাবিতে মিথ্যা অজুহাতে কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন ও সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলামকে মারপিট করেন। মজিদ সরদারের এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অন্যান্য আসামিসহ মজিদ সরদারের গ্রেফতার দাবি করেন বক্তারা। মানববন্ধন থেকে মজিদ চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত উপস্থিত শিক্ষক নেতারা কালোব্যাজ ধারণ ও আগামী শনিবার রাজশাহী নগরীর জিরোপয়েন্টে মানববন্ধনের ডাক দেন। সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মানবন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাতের কাছে স্মারকলিপি দেন শিক্ষক সমিতির নেতারা।
এদিকে, এ ঘটনায় বুধবার রাতেই আহত প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন বাদী হয়ে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও মারপিটের অভিযোগে মজিদ সরদারসহ ৫৬ জনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুঠিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসলাম উদ্দিনের নেতৃত্বে দুর্গাপুর থানার পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালায়।
দুর্গাপুর থানার ওসি রুহুল আলম জানান, ঘটনার পর থেকেই ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া মামলা দায়েরের পরপররই আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওসি।
প্রসঙ্গত, দুর্গাপুরের কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ তিনজনকে পিটিয়ে আহত করে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল মজিদ সরদার ও তার লোকজন। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষও ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় আহত হন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন, সহকারী শিক্ষক (শরীর চর্চা) সাইফুল ইসলাম ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির ছেলে রবিউল ইসলাম।