প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা সেই আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে ৫ দিন পর মামলা রেকর্ড

আপডেট: এপ্রিল ১, ২০২২, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ


ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি :


পাবনার ঈশ্বরদীতে বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে অতিথি না করায় প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে লাঞ্ছিত করা সেই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ৫ দিন পর মামলা রেকর্ড করেছে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) রাতে মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

এ দিকে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন খানের শাস্তির দাবিতে ফের বিক্ষোভ মিছিল, পথসভা ও মানববন্ধন করেছেন স্কুলের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। শুক্রবার দাশুড়িয়া দরগাবাজার এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের শাস্তি দাবি করেন।

অভিযুক্ত আলাউদ্দিন খান দাশুড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। মামলা রেকর্ড হওয়ার পর থেকে মামলা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য নানাভাবে হুমকির সম্মুখিন হয়েছেন বলে গতকাল শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অভিযোগ করেছেন প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম।

মামলার এজাহার উল্লেখ করে প্রধান শিক্ষক জানান, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে উপজেলার দাশুড়িয়া দরগাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পাবনা-৪ আসনের সাংসদ নুরুজ্জামান বিশ্বাস ও সভাপতিত্ব করেন প্রাক্তন সাংসদ পাঞ্জাব আলী বিশ্বাস।

ওই অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে এলাকার রাস্তায় মোটরসাইকেল অবরোধ করে দাশুড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন খানের নেতৃত্বে কিছু লোকজন আমার ওপর হামলা চালান।

এ সময় প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এমনকি তাকে স্কুলে না আসতে হুমকি দেওয়া হয়, এ ছাড়া ওই শিক্ষককে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আলাউদ্দিন খান বলেন, তিনি ঘটনার সময় ছিলেন না। ‘তবে প্রধান শিক্ষক কিছু গুরুত্বপূর্ণ মানুষকে দাওয়াত দেননি, যারা স্কুলের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন।’ হয়তো তারা রাগান্বিত হয়ে কিছু কথা বলেছেন।

কিন্তু তাকে হুমকি দেওয়া হয়নি বলে জানান আলাউদ্দিন খান। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শফিউল আলম বলেন, প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন খানসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যা বৃহস্পতিবার রাতে মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বলেন, প্রধান শিক্ষকের দেওয়া একটি অভিযোগপত্র তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ