প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬.৪%: বিশ্ব ব্যাংক

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


চলতি অর্থবছরে সরকার ৭ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ঠিক করলেও শেষ পর্যন্ত তা ৬ দশমিক ৪ শতাংশের বেশি হবে না বলেই মনে করছে বিশ্ব ব্যাংক।
আন্তর্জাতিক এই ঋণদাতা সংস্থার প্রতিবেদন ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’- এ বুধবার এই পূর্বাভাস তুলে ধরে বলা হয়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৬.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেলেও তা হবে ভালো প্রবৃদ্ধি।
বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সংস্থার প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, “প্রবৃদ্ধির এই প্রাক্কলন একমাত্র ভারত ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে বেশি। আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে এটা খুবই ভালো প্রবৃদ্ধি। ভারতে এবার ৭.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন দেওয়া হয়েছিল, সেটাও হয়ত থাকবে না।”
চলতি অর্থবছর চীন ৬ দশমিক ৩, ইন্দোনেশিয়া ৫ দশমিক ৩, থাইল্যান্ড ৩ দশমিক ৩, পাকিস্তান ৫ দশমিক ৫ প্রবৃদ্ধি পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে।
প্রায় এক দশক ৬ শতাংশের বৃত্তে ‘আটকে’ থাকার পর গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ‘ঘর’ অতিক্রম করে। চূড়ান্ত হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয় ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। এরপর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরে এগিয়ে বাংলাদেশ অর্জন করে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ।
চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে সরকার ৭ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ঠিক করেছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলে আসছেন, প্রবৃদ্ধির হার আর কখনও ৭ শতাংশের নিচে নামবে না বলেই তার বিশ্বাস।
বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে জাহিদ হোসেন বলেন, “রপ্তানি খাত এখন ভালো করছে। গত অর্থবছরে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। এবার প্রথম দুই মাসের যে তথ্য পাওয়া গেছে তা ভালোর দিকেই যাবে বলে মনে হচ্ছে।”
২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানিতে ৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেলেও চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি আয় হয়েছে।
চলতি অর্থবছরে ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য ঠিক করেছে বাংলাদেশ সরকার।
রপ্তানির পাশাপাশি রেমিটেন্স প্রবাহে গত অর্থবছর বড় ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ। রেমিটেন্স কমেছিল ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এবার তা ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছে বিশ্ব ব্যাংক।
জাহিদ হোসেন বলেন, “জনশক্তি রপ্তানি এবার বেশ বেড়েছে। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির একটি লক্ষণ দেখা দিয়েছে, কারণ ব্যাংক ঋণের সুদের হার কিছুটা কমেছে।”
এছাড়া সেবা ও শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়ার কারণেই বাংলাদেশ চলতি অর্থবছরে ৬ দশমিক ৪ প্রবৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করেন তিনি।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ