প্রযুক্তির ছোঁয়া নগর ও জেলা আ’লীগের কার্যালয়ে

আপডেট: অক্টোবর ২৮, ২০১৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশকে ডিজিটাল হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশের সেবা পেতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। প্রযুক্তির স্পর্শ পড়ছে প্রতিটি ক্ষেত্রে। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও লেগেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। ডিজিটাল হয়ে উঠছে রাজশাহী নগর ও জেলা  আওয়ামী লীগের কার্যালয়।
রাজশাহীতে মাত্র বছর তিনেক আগেও দলীয় কর্মসূচির হাতে লেখা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে সংবাদপত্র অফিসগুলোতে ছুঁটতেন দলীয় কর্মীরা। কিন্তু এখন সে দিন ফুরিয়েছে। দলীয় কর্মসূচির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এখন যায় ই-মেইলে। এতে সময় যেমন বাঁচছে, তেমনি অধিকসংখ্যক গণমাধ্যমে কর্মসূচির সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে।
রাজশাহীতে নগর ও জেলা আওয়ামী লীগের পৃথক কার্যালয়। দুটো কার্যালয় থেকেই তাদের কর্মসূচির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পৃথকভাবে পাঠানো হয়। দুটো অফিসেই রয়েছে নিজস্ব কম্পিউটার কক্ষ। আর রয়েছে ইন্টারনেট সংযোগ।
নগরীর কুমারপাড়া মোড়ে মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়। গতকাল শুক্রবার রাতে অফিসটিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও লেগেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। অফিসের দোতলায় কম্পিউটার কক্ষ। সেখানে বসে কাজ করছিলেন নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক রাহাদুল ইসলাম রঞ্জু ও ছাত্রলীগ নেতা মনিরুজ্জামান শেখ রাসেল। তারা জানান, দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণাপত্র, আমন্ত্রণপত্র ও চিঠি কম্পোজ এবং ই-মেইল পাঠানোসহ সব কাজই এখন অফিস থেকে করা হয়।
মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী জানান, মহানগর আওয়ামী লীগের একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট খোলা হয়েছে। গত মাসেই ওয়েবসাইটটি চালু করা হয়েছে। এই ওয়েবসাইটে নগরীর সাংগঠনিক পাঁচটি থানা ও ৩৭টি ওয়ার্ড কমিটির নেতাদের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের কাজ চলছে। অচিরেই এটি বাস্তবায়ন হবে।
মহানগর আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক মাহাবুর-উল-আলম বুলবুল বলেন, আওয়ামী লীগ শুধু নিজেদের পার্টি অফিস নয়, পুরো দেশকেই ডিজিটাল করে তুলছে। এরই মধ্যে দেশ ডিজিটাল হয়ে উঠেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের পরিকল্পনা নিয়ে আগে যেসব মানুষ সমালোচনা করতেন, এখন তারাও এর সুবিধা পাচ্ছেন। এটি সরকারের বড় সফলতা।
মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের দোতলায় বসেন দলের সভাপতি ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তার ডেস্কেও একটি কম্পিউটার। খায়রুজ্জামান লিটন তার চেম্বারে বসেই আটটি সিসিটিভির ফুটেজের মাধ্যমে এই কম্পিউটারের মনিটরে নজরদারি করেন। সিসিটিভির কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
এ ব্যাপারে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, পার্টি কার্যালয়ে কারা আসছেন, কারা যাচ্ছেন, নেতাকর্মীরা কী করছেন- এর সবই তিনি তার চেম্বারে বসে লক্ষ্য করেন। এর ফলে প্রকৃত নেতাকর্মীদের চেনা যায়, তাদের মূল্যায়ন করা যায়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে কাজ করছেন তার তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। আর স্থানীয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তার মতো নেতাকর্মীরা। ফলে প্রযুক্তি এখন হাতের মুঠোয় ধরা দিয়েছে। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের দুটি অফিসই প্রযুক্তির ছোঁয়া পেয়েছে। রাজশাহীতে একটি আইটি ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে। এটি বাস্তবায়ন হলে রাজশাহীর মানুষ তথ্য প্রযুক্তির সাগরে ভাসবেন।
নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়ে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়।  গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় কম্পিউটার কক্ষে বসে কাজ করছিলেন জেলার উপ-দফতর সম্পাদক শরীফুল ইসলাম। তিনি জানান, এই কম্পিউটারে বসেই তিনি দলীয় কর্মসূচির বিভিন্ন খসড়া, চিঠি, আমন্ত্রণপত্র ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি লিখে থাকেন। প্রয়োজনমতো সেসব প্রিন্টও করে নেন নিজস্ব প্রিন্টারে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ জানালেন, রাজনৈতিক কর্মকা- সহজ করতে অফিসে দুটি কম্পিউটার বসানো হয়েছে। নেয়া হয়েছে ইন্টারনেট সংযোগ। আইটি সম্পর্কে দক্ষ একজন নেতাকে দিয়ে এসব পরিচালনা করা হয়।
তিনি জানান, আগে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে বিভিন্ন বার্তা পাঠাতে চিঠি দেয়া হতো। এখন চিঠির পাশাপাশি তাদেরকে মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠানো হয়। বেশিরভাগ নেতাকর্মীই এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। এতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় থাকে।
তিনি আরও জানান, জেলা আওয়ামী লীগের একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই এটি চালু হবে। এই ওয়েবসাইটে জেলা থেকে শুরু করে উপজেলার ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটির নেতাদের সকল তথ্য প্রকাশ করা হবে। তাদের সঙ্গে যে কোনো মানুষের যোগাযোগ সহজ করতে তাদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানার পাশাপাশি তাদের মোবাইল  ফোন নম্বরও প্রকাশ করা হবে।
আসাদুজ্জামান জানান, দলীয় কার্যালয়কে পুরোপুরি ডিজিটাল করে গড়ে তুলতে অচিরেই তিনি একটি স্ক্যানার ও ফটোকপি মেশিন কিনবেন। জেলা আওয়ামী লীগের নামে একটি ফেসবুক আইডিও খোলা হবে। আর নিরাপত্তার জন্য দলীয় কার্যালয়কে সিসিটিভির আওতায় আনার পরিকল্পনাও তার রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ উদ্যোগ বাস্তবায়নে অসামান্য অবদান ও প্রতিযোগিতামূলক টেকসই উন্নয়নের একটি হাতিয়ার হিসেবে আইসিটির প্রতি তার অঙ্গীকার ও অসাধারণ নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রীপূত্র সজীব ওয়াজেদ জয় জাতিসংঘের ‘আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন। ফলে প্রমাণিত হলো ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়। এটি বাস্তবে ধরা দিয়েছে। মানুষ এর উপকার পাচ্ছে। দলীয় কর্মকা-ও সহজ হয়ে উঠছে এর ছোঁয়ায়। আগে হাতে লেখা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে পরের দিন পত্রিকাগুলোতে সংবাদ খুঁজে পাওয়া যেত না। সংবাদকর্মীরা কম্পোজ করার অলসতায় সংবাদ ছাপা হতো না। আর এখন কম্পোজ করে ই-মেইল পাঠানোর কারণে সব সংবাদই পাওয়া যায় পত্রিকার পাতায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ