প্রশাসনের নির্দেশের পরে পেঁয়াজ বিক্রি হলো ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে

আপডেট: নভেম্বর ১৯, ২০১৯, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


প্রশাসনের নির্দেশনার পরে গতকাল সোমবার থেকে নগরীতে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৫০ থেকে ও ১৮০ টাকা কেজিতে। এ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। কয়েকদিন থেকে পেঁয়াজের উর্ধ্বগতি দামের কারণে ক্রেতাদের হাসফাঁস অবস্থা এ যেন একটু শান্তির বার্তা। গতকাল সকালে নগরীর সাহেব বাজারে ভ্রাম্যমাণ অদালতের অভিযানে সকল পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত দামে পেঁয়াজ বিক্রির খোঁজখবর নেয় প্রশাসন। এ সময় প্রশাসনের নির্ধারিত দামের বেশি কোন ব্যবসায়ী পেঁয়াজ বিক্রি করলে সেই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জানানো হয়। এদিকে গতকাল সারাদিন নির্ধারিত দামের চেয়ে কোন ব্যবসায়ীও বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করেনি।
অতিরিক্ত জেলা ম্যজিস্টেট আবু আসলামের নেতৃত্বে গতকাল সোমবার সকাল আটটায় নগরীর সাহেব বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বেলা ১১ টা পর্যন্ত চলে এই অভিযান। এ সময় আবারো নির্ধারিত দামে পেঁয়াজ বিক্রির বিষয়ে বলা হয়। সাহেব বাজারের পাইকারী ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ জানান, গতকাল প্রশাসন বাজার মনিটরিং করে। এ সময় আমাদের ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়। আজ সারাদিন বাজারের সকল খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়ী এই দামেই পেঁয়াজ বিক্রি করেছে। তিনি আরো বলেন, তবে এই দামে আমাদের লস দিয়ে বিক্রি করতে হয়েছে। কারণ এর বেশি দামে বাইরে থেকে পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে।
খুচরা ব্যবসায়ী ইয়াসিন আলী জানান, আজ সারাদিন ১৮০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করেছি। কিন্তু গতকালকের যে পেঁয়াজ ছিলো সেগুলোতে লস হয়েছে। আজ পাইকারিভাবে যে পেঁয়াজ কিনেছিলাম সেগুলো কিছু লাভ করতে পেরেছি।
সাহেববাজারের পেঁয়াজ ক্রেতা সুমি জানান, এতোদিন পেঁয়াজের যেমন দাম ছিলো তা কেনা মুশকিল ছিলো। দাম বাড়ার পর থেকে আধাকেজির বেশি পেঁয়াজ কিনতে পারিনি। কিন্তু আজ দাম কমায় এক কেজি পেঁয়াজ নিলাম। আরেক ক্রেতা তুষার আহমেদ জানান, এই কয়েকদিন পেঁয়াজ কিনে খাওয়া মুশকিল ছিলো খুব হিসেব মতো পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে। আজ দাম কমেছে তবে দাম আরো কমা দরকার। দাম কমলে আমাদের পক্ষে বাজার সদাই করা সহজ হবে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যজিস্টেট আবু আসলাম জানান, গতকালের নির্দেশের পরে আজ সকালে নগরীর কয়েকটি বাজার মনিটরিং করা হয়েছে। এর মাঝে সকাল আটটা থেকে বেলা এগারোটা পর্যন্ত সাহেব বাজার, পরে লক্ষ্মীপুর বাজার ও কোর্ট হড়গ্রাম বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। নির্ধারিত দামের বেশি এখনো কেউ পেঁয়াজ বিক্রি করেনি। যদি করে তাহলে সেই ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরো জানান, শুধু নগরী নয় রাজশাহীর সকল উপজেলাগুলোতেও এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।