প্রশ্ন-উত্তর আর আনন্দ-হাসিতে শিক্ষাবিদ জাফর ইকবালের সঙ্গে সময় কাটালো শিক্ষার্থীরা

আপডেট: এপ্রিল ৯, ২০১৭, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল- সোনার দেশ

‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে কখন আপনি, তুমি এই অপরূপ রূপে বাহির হলে জননী!’ গানটিতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাদেশের জন্মের আগে ‘বাংলাদেশ’ শব্দটি কোথায় পেলেন? এ প্রশ্ন রাজশাহী মডেল স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী মাহবুবা সাঈদ সিনথিয়ার। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ফাহমিদ হোসাইনের প্রশ্ন- ‘আমরা যখন ‘খাই’ বলি, তখন এর অতীত বোঝাতে বলি- ‘খেয়েছিলাম’। ‘বলি’ থেকে হয় ‘বলেছিলাম’। তাহলে ‘যাই’ থেকে কেন ‘গিয়েছিলাম’ বলতে হয়। ‘য’ কী দোষ করল?’
এমন সব মজার মজার প্রশ্নবানে ভাসলেন প্রখ্যাত লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল। প্রশ্ন-উত্তর আর আনন্দ-হাসিতে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ লেখক জাফর ইকবালের সঙ্গে আনন্দে সময় কাটালো শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার বিকেলে নগরীতে ‘শব্দ কল্প দ্রুম’ অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা জাফর ইকবালকে বাংলা ভাষা ও শব্দ নিয়ে এমন মজার মজার বহু প্রশ্ন করেন। জাফর ইকবাল শিক্ষার্থীদের সবার প্রশ্নের উত্তর দেন।
নগরীর কলেজিয়েট স্কুল মাঠে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে সকালে কয়েকটি প্রশ্ন দিয়ে শিক্ষার্থীদের এক ঘণ্টার একটি পরীক্ষা নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের নিজেদের মতো করে একটি শব্দ গঠন করে উত্তর দিতে বলা হয়। এখানেও শিক্ষার্থীরা জাফর ইকবালের প্রশ্নের মজার মজার সব উত্তর দেন। পরে বিকেলে জাফর ইকবাল শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রশ্নের সেসব উত্তর পড়ে শোনান। এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা হো হো করে হেসে ওঠেন।
প্রশ্নপত্রে প্রশ্ন ছিল- ‘পাশে গ্লাস রেখেও যারা বোতলে মুখ লাগিয়ে পানি খায়, তাদের কী বলে?’ উত্তরে শিক্ষার্থীরা বলেছে, ‘বোতলচুম্বি’। ‘যারা স্কুলে যায় কিন্তু স্কুলের ব্যাগ থাকে বাবা-মায়ের কাঁধে, তাদের কী বলে?’ শিক্ষার্থীরা বলেছে-‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। ‘রাজাকারের ফাঁসি দেখে যাদের মন খারাপ হয়, তাদের কী বলে?’ শিক্ষার্থীরা লিখেছে-‘রাণীকার’।
প্রশ্ন ছিল- ‘যে শিক্ষক গাইড বই দেখে ক্লাসে অংক পড়ান, তাকে কী বলে?’ শিক্ষার্থীরা বলেছে- ‘গাইডিস স্যার’। ‘সামনে স্যারদের সালাম দিয়ে পেছনে যারা ভেঙচি কাটে, তাদের কী বলে?’ এর উত্তরে শিক্ষার্থীরা বলেছে-‘তারা স্কুলের গডফাদার’। ‘যারা পড়াশোনা না করেও জ্ঞানীর ভাব নেয়, তারা কে?’ উত্তরে শিক্ষার্থীরা লিখেছে- ‘ছাগল’।
এভাবেই হাসতে হাসতে শিক্ষার্থীরা দিনভর মেতে ওঠে শব্দের খেলায়। শুধু হাসিই নয়, নতুন মজার কিছু শব্দেরও উদ্ভাবন করে তারা। সকাল সাড়ে ৯টায় বেলুন উড়িয়ে ‘শব্দ কল্প দ্রুম পিপীলিকা বাংলা উৎসব’ নামের এই উৎসবের উদ্বোধন করেন লেখক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল। উৎসবের এবারের স্লোগান ছিল-‘বাংলা নিয়ে নানান খেলা সারাবেলা’।
‘শব্দ কল্প দ্রুম’ উৎযাপন কমিটি এই উৎসবের আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে এটি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ‘শব্দ কল্প দ্রুম’ উৎযাপন কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
নগরীতে এ আয়োজনে দুপুরে একটি আলোচনাসভাও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ছাড়াও বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক মহাপরিচালক শিশু সাহিত্যিক আলী ইমাম, এটুআই প্রকল্পের প্রোগ্রামার রফিকুল ইসলাম সুজন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর শহীদ ইকবাল ও শব্দ কল্প দ্রুমের অ্যাকাডেমিক ডাইরেক্টর জফির সেতু বক্তব্য দেন। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক ড. নূরজাহান বেগম এতে সভাপতিত্ব করেন।
অনুষ্ঠানে আলোচনাসভা এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও প্রশ্নোত্তর পর্বের মাঝে মাঝে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। পরে বিকেলে তিন পর্বের বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা এই উৎসবে যোগ দেয়। প্রিয় লেখককে কাছে পেয়ে তারা সবাই অটোগ্রাফের আবদার করে বসে।
তাই দুপুরে অনুষ্ঠানের বিরতির সময় লেখক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল শিক্ষার্থীদের অটোগ্রাফ দেন। শিক্ষার্থীরা কড়া রোদের ভেতর লাইনে দাঁড়িয়েও একে একে প্রিয় লেখকের অটোগ্রাফ নেয়। এ সময় প্রায় সব শিক্ষার্থীই মেতে ওঠে তার সঙ্গে সেলফি তোলায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ