প্রাচীন একটি খেলাকে ঘিরে চেন্নাইর সমুদ্রতীরে জোরালো হচ্ছে বিক্ষোভ

আপডেট: জানুয়ারি ২০, ২০১৭, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



ভারতের চেন্নাই শহরে প্রায় দুদিন ধরে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী সমুদ্রতীরে বিক্ষোভ করছেন ‘জাল্লিকাট্টু’ প্রথা আবারও চালু করার দাবিতে।
‘জাল্লিকাট্টু’ তামিলনাড়ুর একটি প্রাচীন খেলা, যেখানে একটি ছুটন্ত-উন্মত্ত ষাঁড়কে নানা কসরতের পরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন এক দল মানুষ। তামিলদের নবান্ন উৎসব পোঙ্গলের সময়ে এই খেলা হয়ে থাকে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের আদেশে ২০১৪ সাল থেকে এই প্রথা বন্ধ রয়েছে। এবছর সেই নিষেধাজ্ঞা পুনরায় বহাল রেখেছে শীর্ষ আদালত।
পশু-প্রেমীদের অভিযোগ, ওই ষাঁড়-দমন খেলার আগে সেটিকে মাদক ইনজেকশন দেওয়া হয় আর তাদের চোখে লঙ্কা গুঁড়ো ছিটিয়ে দেওয়া হয় আরও ক্ষেপিয়ে তুলতে। মারিনা বিচে রাতভর বিক্ষোভ এবছর যদিও পোঙ্গল পেরিয়ে গেছে, তবুও ওই প্রথা অন্তত এবছরের জন্য ফের চালু করার দাবিতে রাস্তায় নেমেছে লক্ষ লক্ষ মানুষ। তারমধ্যে সবথেকে বড় জমায়েত হচ্ছে চেন্নাইয়ের সমুদ্র তট মারিনা বিচ-এ।
সেখানে উপস্থিত বিবিসি তামিল বিভাগের সংবাদদাতা জয়াকুমার জানাচ্ছেন যে এখন প্রায় হাজার দশেক মানুষ সেখানে রয়েছেন। এঁদের সিংহভাগই ছাত্র-ছাত্রী। রাতভর প্রায় দুহাজার ছাত্রছাত্রী মারিনা বীচে থেকেছেন। আর সকাল থেকে হাজার হাজার মানুষ, অনেকে পরিবারের সঙ্গেই যোগ দিয়েছেন বিক্ষোভে।
সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার
জয়াকুমার জানান”বিক্ষোভকারীদের মুখে মূলত তিন ধরণের স্লোগান শোনা যাচ্ছে : নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মি. ও পনিরসিলভামের বিরুদ্ধে আর পশুপ্রেমী সংগঠন ‘পেটা’র বিরুদ্ধে। এই বিশাল জমায়েতটা পুরোটাই হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমের মধ্যে দিয়ে। সাধারণ মানুষ এগিয়ে আসছেন জল, খাবার, তাঁবু এসব নিয়ে।”
যদিও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই প্রাচীন প্রথা বন্ধ হয়ে গেছে, তবুও বিক্ষোভকারীদের দাবী এবছর পোঙ্গল পেরিয়ে গেলেও সাময়িকভাবে একটি জায়গায় অন্তত জাল্লিকাট্টু করতে দেওয়া হোক। বিভিন্ন অঞ্চলে জাল্লিকাট্টু হয়ে থাকলেও সবথেকে বড় জাল্লিকাট্টু হয় মাদুরাই শহরের কাছে একটি জায়গায়।
এই দাবী নিয়ে সরব হয়েছে তামিলনাড়ুর সবকটি রাজনৈতিক দল, অভিনেতা-অভিনেত্রী, ক্রিকেটার – সকলেই।
তাঁদের কথায়, জাল্লিকাট্টু ফিরিয়ে আনা তামিল আত্ম-মর্যাদার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটাও বলা হচ্ছে, যে পশুপ্রেমী সংগঠনটির দায়ের করা মামলায় ‘জাল্লিকাট্টু’ বন্ধ হয়েছে, সেই ‘পেটা’কেও নিষিদ্ধ করা হোক। তারা আদালতকে ভুল বুঝিয়ে নির্দেশ বার করেছে, এমন অভিযোগও করছেন অনেকে।
প্রাচীন খেলার বিরুদ্ধে সোচ্চার পশুপ্রেমীরা
অন্য দিকে ‘পেটা’ বলছে জাল্লিকাট্টু শুরু হওয়ার আগে যে ষাঁড়গুলিকে ইনজেকশন দেওয়া হত আর তাদের চোখে লঙ্কা গুঁড়ো ছিটিয়ে দেওয়া হত, তার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে তাদের কাছে।
তামিল বিভাগের প্রধান থিরুমালাই মানিভান্নান বলছেন, “শুধু চেন্নাই নয়, গোটা তামিলনাড়ুতে এখন এমন একটাও ছোট-বড় শহর নেই, যেখানে জাল্লিকাট্টু নিয়ে বিক্ষোভ হচ্ছে না। প্রায় লাখ দশেক মানুষ আজ রাস্তায় নেমেছেন গোটা রাজ্যে। আর চেন্নাইয়ের মতো সব জায়গাতেই শহরের প্রাণকেন্দ্রগুলিতে মানুষ জড়ো হচ্ছেন সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দেখে। এরকম বিক্ষোভ বোধহয় ৬০-এর দশকে হিন্দি বিরোধী আন্দোলনের পরে আর হয় নি। অনেকে তো আবার এটাকে আরব বসন্তের সঙ্গেও তুলনা করছে।”- বিবিসি বাংলা