প্রাণচাঞ্চল্যে ফেরেনি নগর

আপডেট: জুন ২১, ২০২৪, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় উৎসব ইদুল আজহা। এই ইদে ছুটি ছিল তিনদিন। সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় গেল সপ্তাহ থেকে ফাঁকা হতে শুরু করে রাজশাহী মহানগরী। এরপর ফাঁকা হয়ে যায় পুরো মহানগরী। ইদের ছুটি শেষে অফিস-আদালত খুললেও এখনও ফিরে আসেনি প্রাণচাঞ্চল্য। পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ি যাওয়া মানুষ আস্তে আস্তে ফিরছে গন্তব্যে। তবে আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে আগের রূপে ফিরবে রাজশাহী মহানগরী।

ইদুল আজহার ছুটি শেষে বুধবার থেকে অফিস-আদালত খুলেছে। কিন্তু এই দুদিন অফিসগুলোতে উপস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে কম। যারা উপস্থিত হয়েছেন তারাও পরস্পর ইদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে সময় কাটিয়েছেন।

এদিকে নগরীর বিপনী বিতান, গার্মেন্টস ও মার্কেটগুলোতে এখনো ছুটি শেষ হয়নি। নগরীর সব মার্কেট খোলা থাকলেও নেই কোনো বেঁচাবিক্রি। নগরীতে যানবাহনের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে অনেক কম। তাই নগরীর চিরচেনা যানবাহনের দৃশ্য এখনো ফিরে আসেনি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আগামী সপ্তাহে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে। মূলত রোববার থেকে পুরোদমে কর্মমুখর হবে নগরী।
বুধবার বিকেল ও বৃহস্পতিবার নগরী ঘুরে দেখা গেছে, ছুটি শেষ হয়ে গেলেও নগরীর বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ আছে। যেগুলো খোলা হয়েছে তার অধিকাংশ কর্মচারিরা ছুটিতে আছে। এছাড়াও কিছু রেস্তোরাঁ খোলা থাকলেও অধিকাংশ বন্ধ আছে।

নগরীর কাঁচাবাজারগুলোতেও লোকজন তেমন নেই। মাস্টারপাড়ার সবজির আড়তে অনেকটা অলস সময় কাটাচ্ছেন আড়তদারেরা। এদিকে বিপণিকেন্দ্রগুলোর মূল ফটকেও ঝুলছে তালা। বিপণিকেন্দ্র খোলা শুরু হবে মূলত শনিবার থেকে। নগরীর আরডিএ মার্কেট নিউমার্কেট খুললেও কয়েকটি দোকান খোলা দেখা গেছে। শনিবার থেকে ধারাবাহিকভাবে সব বিপণিকেন্দ্র খুলবে।

আরডিএ মার্কেটের দোকান মালিক জয়নাল আবেদীন বলেন, দোকানের কর্মীদের শুক্রবার পর্যন্ত ছুটি দেওয়া হয়েছে। এই মার্কেটে কর্মব্যস্ততা না থাকায় মূলত শনিবার থেকে চালু হবে।

এদিকে ইদের ছুটিতে নগরী ছেড়ে যাওয়া লোকজন আস্তে আস্তে ফিরতে শুরু করেছে। রাজশাহী রেলস্টেশন ও বিভিন্ন বাসস্টপে গিয়ে দেখা গেছে পরিবার-পরিজন ও মালপত্র নিয়ে মানুষের শহরে ফেরার চিত্র। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজশাহী রেলস্টেশনে দিয়ে দেখা গেছে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস থেকে নেমে আসছে শহরমুখী মানুষ।

ওই ট্রেনে আসা একজন বেসরকারি চাকরিজীবী ফরহাদ হোসেন সোনার দেশকে বলেন, এবারের ঈদে শুক্রবার-শনিবার মিলিয়ে মাত্র পাঁচদিন ছুটি ছিল। তারপরও কোরবানি দেওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন দিনাজপুরে গ্রামের বাড়িতে। ফেরার পথে কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি।

একই ধরনের দৃশ্য দেখা গেছে রেলস্টেশনের কাছে শিরোইল বাসস্ট্যান্ড, নগরীর রেলগেট, তালাইমারী, ভদ্রা বাস কাউন্টারের সামনেও। তবে রাজধানীতে ফিরতে ঢাকার বাস কাউন্টারগুলোতে চাপ লক্ষ্যে করা গেছে।

একতা ট্রান্সপোর্টের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম সুমন সোনার দেশকে বলেন, ইদের আগে ২১ ও ২২ তারিখের টিকিট শেষ হয়ে গেছে। এই দুইদিন যাত্রী চাপ সবচেয়ে বেশি। অতিরিক্ত বাস চালিয়ে যাত্রী চাপ সামাল দিতে হবে।

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্টিজের সহসভাপতি সুলতান মাহমুদ সুমন বলেন, ইদের পর বেসরকারি খাত সচল হতে এক সপ্তাহের বেশি সময় লেগে যায়। সরকারি অফিস খুললেও বেসরকারি খাত পুরোদমে সচল না হলে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসে না। ফলে একধরনের স্থবিরতা থাকে। আগামী সপ্তাহে বেসরকারি খাত সচল হলে নগরেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ