প্রাণের উৎসবে আলো ছড়ালো রাজশাহীবাসি

আপডেট: জুন ২৬, ২০২২, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


শেখের বেটির চ্যালেঞ্জিং অভিযাত্রার বাস্তব অবয়ব ও জাতির আত্মমর্যাদার প্রতিক ‘পদ্মা সেতু’র উদ্বোধনীতে ঐতিহাসিক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে সারাদেশের মানুষ অংশ নিয়েছে। ‘আমার টাকায় আমার সেতু, বাংলাদেশের পদ্মা সেতু’ এই স্লোগানে উদ্বোধনী আয়োজনে উৎসব আমেজের কমতি ছিলো না রাজশাহীতেও। স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে মেতে উঠেছিল বিভাগীয় মেট্রোপলিটন শহর।

শনিবার (২৫ জুন) রাজশাহী মহানগরের তিনটি স্থানে সমাবেশ করে পদ্মা সেতুর মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বড় পর্দায় দেখানো হয়েছে। তবে এরমধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো না। রাজশাহীর মানুষের দৃষ্টি আবদ্ধ ছিলো উদ্বোধনী আয়োজনের উপর। নগরীর প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ বাসা-বাড়িতে টেলিভিশনের ছোট পর্দায় উপভোগ করেছেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরপরই রাজশাহীতে নানা আয়োজনে মেতে ওঠে সাধারণ মানুষ।

রাজশাহী জেলা প্রশাসন :
রাজশাহী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী উদযাপন করা হয়েছে। স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে সকালে নগরীর শহিদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের প্রধান-প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়।

জেলা প্রশাসনের আয়োজিত দৃষ্টি নন্দন এই শোভাযাত্রাটি জেলার মধ্যে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় শোভাযাত্রা বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রায় দুই কিলোমিটার লম্বা এই শোভাযাত্রায় প্রায় দশ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। শোভাযাত্রায় জেলা প্রশাসনের মহিলা কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নতুন মাত্রা যোগ করেছিলো। এরপর শোভাযাত্রা শেষে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে বড় পর্দায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপভোগ করেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রায় জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন, বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ্, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আব্দুল বাতেন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আবু তাহের মাসুদ রানা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) জিয়াউল হক, আরএমপির কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি অনিল কুমার সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিন্নাতুন নেসা তালুকদার, জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক শাহানা আখতার জাহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ শরিফুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জয়া মারীয়া পেরেরা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সাবিহা সুলতানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কল্যাণ চৌধুরী, পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও লসমী চাকমা, চারঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দা সামিরা, পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ, মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সানওয়ার হোসেন, গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জানে আলম।

এছাড়াও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ-কমিটির সদস্য ডা. আনিকা ফারিয়া জামান অর্ণাসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারি, মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয়।

এ অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ বলেন, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সামর্থ্যের প্রতিক। অনেক প্রশ্নের উত্তর এই পদ্মা সেতু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বে ছিলেন বলেই দেশে পদ্মা সেতু হয়েছে। এই সেতু শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেরই নয়, উত্তরাঞ্চলসহ সমগ্র বাংলাদেশের উন্নয়নেই ভূমিকা রাখবে। বাঙালি জাতি প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ :
রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে উদ্বোধনের মাহেন্দ্রক্ষণে সকল নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মহানগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে নেচে-গেয়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের স্বাক্ষী হয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সেখানে দলের নেতাকর্মীরা বড় পর্দায় উদ্বোধন আয়োজনেযুক্ত ছিলো।

নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহিন আক্তার রেনি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, পদ্মা সেতু দেশের জন্য বড় অর্জন। পাশাপাশি বাঙালি জাতির জন্য এই সেতু গর্বের প্রতিক হয়ে রইলো। আজকের দিনটি বর্তমান ও নতুন প্রজন্মের কাছে বিজয়ের দিন হিসেবে হৃদয়ের গভীরে লিখা থাকবে। এ যেন একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরের পর আরেক নতুন বিজয়।

পরে স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর সেই আনন্দ সবার সাথে ভাগ করে নিতে আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত সবাইকে মিষ্টি মুখ করান। এই আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী কামাল।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ :
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং বাঙালি জাতির গৌরব আত্মমর্যাদার অনন্য স্মারক ‘স্বপ্নের পদ্মাসেতু উদ্বোধন’ উপলক্ষে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আনন্দ শোভাযাত্রাসহ জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রজেক্টরের মাধ্যমে স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠান উপভোগ এবং নেতা-কর্মী-সমর্থকদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অনিল কুমার সরকারের সভাপতিত্বে এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি আব্দুল ওয়াদুদ দারার পরিচালনায় সকাল ৯.৩০ টায় নগরীর বিন্দুর মোড়স্থ শহিদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান হেনা চত্বর থেকে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে উপস্থিত সকল নেতা-কর্মী-সমর্থক সহযোগে আনন্দ র‌্যালিসহ সকাল ১০টায় জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রজেক্টরের মাধ্যমে স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠান উপভোগ করেন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, জেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগের সকল সহযোগী ও ভাতৃপ্রতীম সংগঠনের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ নেতা-কর্মী-সমর্থকবৃন্দ, জেলাধীন সকল সাংগঠনিক স্তরের আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও আওয়ামী লীগের সকল সহযোগী ও ভাতৃপ্রতীম সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক সকল নেতা-কর্মী-সমর্থকবৃন্দ।

অতঃপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা স্বপ্নের পদ্মা সেতুর শুভ উদ্বোধন করলে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত সকল নেতা-কর্মী-সমর্থকদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয় এবং দেশের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণসহ উদ্বোধন করার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনসহ দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় :
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শনিবার নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদ্যাপন করা হয়। এই উপলক্ষে এদিন সকাল ১০টা থেকে শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনের উত্তর চত্বরে সংগীত বিভাগের উপস্থাপনায় পদ্মা সেতুর থিম সং ও শেখ রাসেল মডেল স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিচালনায় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। বেলা ১০:৩০ মিনিটে এক আনন্দ র‌্যালি রাবি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।

শোভাযাত্রায় উপাচার্য প্রফেসর গোলাম সাব্বির সাত্তার, উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়া, উপ-উপাচার্য প্রফেসর মো. সুলতান-উল-ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর (অব.) মো. অবায়দুর রহমান প্রামানিক, রেজিস্ট্রার প্রফেসর মো. আবদুস সালাম, প্রক্টর প্রফেসর মো. আসাবুল হক, ছাত্র উপদেষ্টা এম তারেক নূর, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর প্রদীপ কুমার পা-েসহ অনুষদ অধিকর্তা, ইনস্টিটিউট পরিচালক, বিভাগীয় সভাপতি, হল প্রাধ্যক্ষ, শিক্ষক সমিতির সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করে।
বেলা ১১টায় শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনের উত্তর চত্বরে ও ভবনের সভাকক্ষে বড় পর্দায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান দেখানো হয়। এখানে অন্যদের মধ্যে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এরপর সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপাচার্য প্রফেসর গোলাম সাব্বির সাত্তার এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়া ও কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর (অব.) মো. অবায়দুর রহমান প্রামানিক। উপ-উপাচার্য প্রফেসর মো. সুলতান-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে এই আলোচনায় ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর মো. আবুল কাশেম, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধিকর্তা অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর মো. ইলিয়াছ হোসেন, রাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক প্রফেসর মো. খলিলুর রহমান খান পদ্মা সেতুর গুরুত্ব ও তাৎপর্য এবং জাতীয় উন্নয়নে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের সাহসী ও বিচক্ষণ নেতৃত্বের পরম্পরার এক অসামান্য উপাখ্যানের নাম। সকল প্রতিকূলতা জয় করে অমিত সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়ার এক সংগ্রামী ঐতিহ্যের প্রতিফলন পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতু বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তির অবিচ্ছিন্ন সংগ্রামের আরেক নাম। যখন আমাদের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে তখনই উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পদ্মা সেতুর মতো বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগসহ মেগা প্রকল্প নিজেদের অর্থে গড়ার এক সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাঙালি বীরের জাতি, পরাভব মানে না।

পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চের একুশ জেলার নিরচ্ছিন্ন ও দ্রুত যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলো। বিপুল সম্ভাবনাময় এই অঞ্চলের বহুমুখী উন্নয়নের এই সেতুর গুরুত্ব অপরিসীম। এই সেতু চালুর ফলে শিল্পায়ন ও পর্যটন ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের সম্ভাবনার নতুন দ্বারা উন্মোচন হলো।

প্রসঙ্গক্রমে তারা বলেন, দেশপ্রেমিক জনগণের আস্থা ও সমর্থনে পুষ্ট আজকের সরকারের দৃঢ় প্রত্যয়ে উন্নয়নের এ নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে। আগামী দিনেও মানুষের আশা আকাক্সক্ষা ও স্বপ্ন পূরণে এই সরকার কাজ করে যাবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত ও উন্নত সমৃদ্ধ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন লালিত স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে এই সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তারা আরো বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের ইতিহাসে পদ্মা সেতু এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশ উন্নত দেশে রূপান্তরিত হওয়ার ক্ষেত্রে ও জাতীয় একতা বৃদ্ধিতে এই সেতু মেলবন্ধন হিসেবে কাজ করবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উপাচার্য প্রফেসর গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, পদ্মা নদী অত্যন্ত খরস্রোতা। আমাজন নদীর পরেই এর খরস্রোতার মাত্রা। এতদিন আমরা পদ্মাকে কীর্তিনাশা বলে জেনে এসেছি। অথচ এই পদ্মাকে নিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অবিষ্মরণীয় কীর্তির স্বাক্ষর রাখলেন।

পদ্মা সেতু চালুর ফলে আমাদের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একুশ জেলার সাথে রাজধানীর সরাসরি যোগাযোগের সূত্রপাত হলো। শুধু যোগাযোগ নয় অর্থনীতির নানা ক্ষেত্রে এর ইতিবাচক প্রভাব হবে ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী। প্রসঙ্গক্রমে উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কারো প্রতিপক্ষ নয়। আওয়ামী লীগ নিজেই একটি শক্তি, একটি প্রতিষ্ঠান যা বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছে। আওয়ামী লীগ মানেই উন্নয়ন। জাতির যা কিছু উন্নয়ন, যা কিছু সমৃদ্ধি, যা কিছু কল্যাণ সবই হয়েছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে।

উপাচার্য আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু এনেছেন আমাদের স্বাধীনতা, তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা দিয়েছেন বাংলাশের উন্নয়ন। পদ্মা সেতু শুধু সেতুই নয়, একটি দৃঢ় প্রত্যয়ের নাম, যুগ যুগ ধরে পদ্মা সেতু একটি ‘টেক্সটবুক এক্সাম্পল’ হয়ে থাকবে। উপাচার্য রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধৃত করে বলেন, বাঙালি জাতির আকাক্সক্ষার দরিদ্রতা আছে, যা পদ্মা সেতু ভেঙ্গে ফেলেছে। আর এই অসাধ্য সাধন করেছেন শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যেই উন্নত বিশ্বের কাতারে আসীন হবে বলেও উপাচার্যআশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর মো. আবদুস সালাম আলোচনা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এই উপলক্ষে এদিন সন্ধ্যা ৭টায় শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে গত তিন দিন ধরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে।

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় :
গর্বের পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক আনন্দ র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার সকাল ১০টায় রুয়েট প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে রুয়েট ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সেখ এর নেতৃত্বে এই আনন্দ র‌্যালিটি বের। র‌্যালিটি রুয়েট ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রুয়েট কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে এসে সমাপ্ত হয়।

কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে উপস্থিত সকলে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ও গর্বের পদ্মা সেতু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সরাসরি উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানে রেজিস্ট্রার(ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভিন্ন বিভাগ, দপ্তর, শাখা প্রধানগণ, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, কর্মকর্তা সমিতির নেতৃবৃন্দ, কর্মচারী সমিতির নেতৃবৃন্দ, ছাত্রলীগ রুয়েট শাখার নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।

সারদা পুলিশ একাডেমি:
‘আমার টাকায় আমার সেতু, বাংলাদেশের পদ্মা সেতু’ এই স্লোগানে পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদার উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া সারদা পুলিশ একাডেমির ঐতিহাসিক প্যারেড গ্র্যাউন্ডে বড় পর্দায় পদ্মা সেতু উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়।

শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ আবু হাসান মুহাম্মদ তারিক, বিপিএমের নেতৃত্বে একটি বিশাল আনন্দ র‌্যালি সারদা বাজার গেট থেকে বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক আবু হাসান মুহাম্মদ তারিক বিপিএমসহ একাডেমির সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সুধীজন।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ :
‘আমার টাকায় আমার সেতু, বাংলাদেশের পদ্মা সেতু” স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সারা দেশবাসীর ন্যায় বর্ণ্যাঢ্য আনন্দ র‌্যালি করেছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ)। র‌্যালিটি শনিবার সকালে বিএমডিএ অফিস থেকে শুরু হয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্টেডিয়ামে শেষ হয়। পরে স্টেডিয়ামে বড় পর্দায় সেতুর উদ্বোধন দেখার পাশাপাশি দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

রাজশাহীর বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য বেগম আখতার জাহানের দিক নির্দেশনায় র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেন রাজশাহী বিএমডিএ নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রশীদ।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন,তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) নাজিরুল ইসলাম, অতি: প্রধান প্রকৌশলী ড আবুল কাসেম, প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী শরিফুল হক, বিএমডিএ সচিব ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ.টি.এম মাহফুজুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহিদুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক এটিএম রফিকুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী শিবির আহমেদ, নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন্ত কুমার বসাক, নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) এনামুল কাদির, নির্বাহী প্রকৌশলী( চলতি) তোফাজ্জল আলী সরকার, সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী জিন্নুরাইন খান, পাবলিক রিলেশন অফিসার মো. মাহফুজুল হক, বিএমডিএ কর্মচারী ইউনিয়ন রাজ-১৫০০ এর সভাপতি আব্দুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক জীবন, ক্রীয়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইমরুল কায়েস বিএমডিএ কর্মচারী লীগ, রাজ-৩০৪২ সিবিএ সভাপতি মোঃ মেসবাউল হক ও সাধারন সম্পাদক মো. আইয়ুব আলী এবং অর্থ সম্পাদক মো. মামুন হোসেন সহ বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদর দপ্তর ও মাঠপর্যায়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী , প্রকল্প পরিচালক, নির্বাহী প্রকৌশলী, উপ-ব্যবস্থাপক (কৃষি), মনিটরিং অফিসার ও সহকারী প্রকৌশলীবৃন্দ।

রাজশাহী কলেজ:

বর্নাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে দেশসেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজশাহী কলেজে আত্মমর্যাদার প্রতিক ‘পদ্মা সেতু’র উদ্বোধনী উদযাপন করা হয়েছে। এদিন সকাল সাড়ে ৯ টায় কলেজ প্রশাসনের আয়োজনে আনন্দ র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি কলেজ ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।

সকাল ১০ টায় রাজশাহী কলেজ অডিটরিয়ামে কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী প্রোগ্রাম উপভোগ করেন শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। উদ্বোধনী এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল খালেক, উপাধ্যক্ষ ওলিউর রহমান, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর আব্দুল্লাহ আল মাহমুদসহ সকল বিভাগীয় প্রধানরা।
সম্প্রচার শেষে রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল খালেক বলেন, পদ্মা সেতু শুধু সেতুই নয়, একটি দৃঢ় প্রত্যয়ের নাম, যুগ যুগ ধরে পদ্মা সেতু ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে।

রাবি ছাত্রলীগ :
স্বপ্নের পদ্মাসেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে আনন্দ মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। শনিবার দুপুর ১২টায় দলের কেন্দ্রীয় টেন্ট থেকে শুরু হওয়া এ মিছিল ক্যাম্পাসের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করেন। নেতাকর্মীদের ব্যাপক উৎসাহ, আনন্দ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পদ্মাসেতুর উদ্বোধনকে স্বাগত জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মিছিল পরবর্তী সমাবেশে সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন সভাপতি গোলাম কিবরিয়া।

সমাবেশে সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের মানুষ স্বপ্ন দেখতে শিখেছে। মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আওয়ামী সরকার কাজ করছে। বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে অপ্রতিরোধ্য গতিতে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মাসেতু তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই দেশের উন্নয় হয়। মেগা প্রকল্প হয়, জিডিপি বাড়ে, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। পদ্মাসেতুর উদ্বোধন দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্ত ও সামগ্রিক উন্নয়নের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এ সরকারের হাত ধরেই দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। এদেশের সকল উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে ছাত্রলীগ সর্বদা কাজ করবে।

দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধনের বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়তে আওয়ামী লীগকে বারবার ক্ষমতায় আনার বিকল্প নেই। এসময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের শতাধীক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ