প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট: জুলাই ১৫, ২০২০, ১১:৩১ অপরাহ্ণ

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা


চাঁপাইনবাবগঞ্জের চৌহদ্দীটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরান আলীর নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ডুবতে বসেছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাকার্যক্রম। তার বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, স্কুলের পুরনো টিন, বই, চেয়ার বিক্রিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও সহকারী শিক্ষকের সাথে অসদাচরণ ও অভিভাবকদের সাথে খারাপ আচরণের অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
বুধবার (১৫ জুলাই) একই এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের শিশু শ্রেণির উপকরণসামগ্রী ক্রয় বাবদ ১০ হাজার টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করে প্রধান শিক্ষক। ভবন সংস্কার ও সাইনবোর্ড স্থাপনের বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করে কোন খাতে ব্যয় করেছেন তার হিসাব নেই, বিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তার খেয়ালখুশিমতো কাজ করছেন। এমনকি তিনি তার মর্জিমতো স্কুলে যাতায়াত করে থাকেন। এছাড়া জাতীয় দিবস, মা সমাবেশের বরাদ্দ ও শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করেন প্রধান শিক্ষক। এসব কারণে স্কুলের স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হয়। এর কারণে শিক্ষার গুণগতমান ব্যাহত হচ্ছে। অভিযোগে আরো জানা গেছে- গত ৬ জুলাই জামায়াত নেতা মুনজুর ইসলামকে বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য তৈরি করে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বানাতে মরিয়া হয়ে উঠে প্রধান শিক্ষক। এমনকি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখার প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন পদ্ধতিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে। কমিটি গঠন পদ্ধতিতে শিক্ষক প্রতিনিধি, জমিদাতা সদস্য, অভিভাবক (পুরুষ) ও অভিভাবক (নারী) নেই। এছাড়া সদস্য নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিক্রয়কৃত টাকাও আত্মসাৎ করে প্রধান শিক্ষক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলের সহকারী দুজন শিক্ষক বলেন, শিশু শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩শ’ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে বিদ্যালয়টিতে রয়েছেন ৭ জন শিক্ষিকা। প্রধান শিক্ষক আমাদের হুমকি দেন তার বিরুদ্ধে কোনো কিছু বললে আমাদের খারাপ রিপোর্ট দিবেন। এছাড়াও আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। নিয়ম অনুযায়ী স্কুলের যেকোনো বিষয়ে অন্যান্য শিক্ষদের সাথে পরামর্শ করা কিন্তু আমাদের প্রধান শিক্ষক একক সিদ্ধন্ত নেন। এছাড়াও আমাদের হেয়প্রতিপন্ন করেন। এর আগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ কয়েকটি অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের অভিযোগের সত্যতা পান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। তবে অভিযোগের কথা অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক কামরান আলী ০১৭১৩৬৪৬৫০১ নম্বরে জানান, আমি কোনো অনিয়ম করিনি। এলাকার কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে যার কোন ভিত্তি নেই।
বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান ০১৭৩৬৫৮১০০৪ নম্বরে মুঠোফোনে জানান, প্রায় ১৫ থেকে ২০ আগে একটি সভা হয়েছিল। সভায় যেহেতু অভিভাবকের সংখ্যা বেশি, সেহেতু ভোটের মাধ্যমেই সদস্য নির্বাচিত হবে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নূর-উন-নাহার রুবিনা ০১৭২৩৯০৩৯২৩ নম্বরে মুঠোফোনে জানান, বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন পদ্ধতির অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ