প্রাথমিক বিদ্যালয় চলবে বিশেষ সতর্ক ব্যবস্থা নিতে হবে

আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০২২, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের তিব্র থাবা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও দ্রুতগতিতে বিস্তার লাভ করছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই দেশবাসী যতটুকু স্বস্তি লাভ করেছিল তার সবটুকুই এই মুহূর্তে উবে যেতে বসেছে। ওমিক্রন যেন পুরান পথে আবারো পিছন থেকে টানছে। কিন্তু করোনার প্রায় দু বছরের প্রতিরোধে-অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের আছে। সেটা সম্বল করেই ওমিক্রন মোকাবিলার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ১১ দফার বিধিনিষেধ বৃহস্পতিবার (১৩ জানুযারি) থেকে শুরু হয়েছে। বিধিনিষেধে স্বাস্থ্য সুরক্ষাকেই অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
ঘোষণা অনুযায়ী সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রাখতে চায়। তবে সেখানেও আরোপিত শর্তসমূহ মানার ওপর গুরুত্বরোপ করা হয়েছে। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সীমিত পরিসরে আগের মতো শ্রেণি কার্যক্রম চলবে। অর্থাৎ গত বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কার্যক্রম চালুর পর যেভাবে চলেছে, সেভাবেই সীমিত পরিসরে ক্লাস চলবে। এই মুহূর্তে করোনা সংক্রমণ বেড়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রম ও স্বাস্থ্যবিধি জোরদার করে মাধ্যমিক থেকে পরবর্তী স্তরে শ্রেণি কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। তবে ১২ বছরের নিচে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনতে না পারায় সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধিতে জোর দিয়ে স্কুল খোলা রাখছে সরকার।
বুধবার রাজধানীতে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার প্রশ্নে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, করোনাকালীন শিখন ঘাটতি দূর করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কোর্ট ইয়ার্ড সেশন, ফোনকল এবং হোম ভিজিটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাথে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রেখেছে। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভশিন ও বাংলাদেশ বেতারে নিয়মিত পাঠসূচিকে অনুসরণ করে অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়েছে। সর্বোপরি শিখন ঘাটতি দূর করার জন্য ‘এক্সিলারেটেড রেমিডিয়াল লার্নিং প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। যতক্ষণ পর্যন্ত সহনশীল সীমার মধ্যে থেকে প্রাথমিক শিক্ষা এগিয়ে নেয়া যায় সেই উদ্যোগ অবশ্যই যথাযথ হবে। ভিত-সন্ত্রস্ত হয়ে হুট করে সিদ্ধান্ত নেয়াও সমীচীন নয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ আরো কিছু বিষয়ের প্রতি গুরুত্বরোপ করাও জরুরি হবে। প্রথমত শ্রেণিকক্ষের ভিতরে ও স্কুলের বাইরে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বলয় কীভাবে নিশ্চিত হচ্ছে সেটা বিবেচ্য বিষয়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেমন আচরণ করছে সেটার প্রতি গুরুত্বরোপ করা প্রয়োজন হবে। দ্বিতীয়ত শিক্ষার্থী যতক্ষণ পর্যন্ত স্কুলে ও ক্লাসরুমে অবস্থান করবে সেই সময়ের শিক্ষক সাহচার্য বা শিক্ষক নিবিড়তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে সেটাও গুরুত্বের দাবি রাখে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের সহাবস্থান শতভাগ নিশ্চিত করা আবশ্যক হবে। ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের তাদের নিজের মত করে ছেড়ে দেয়া ঠিক হবে না। শিক্ষার্থীদের স্কুল চলাকালীন সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখতে হবে। বিশেষ সতর্কতার প্রতি জোর দিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই যাতে এক শিশুর দ্বারা অন্য শিশুতে কিংবা শিক্ষক দ্বারা শিশুতে ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়তে না পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ