প্রেমের টানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গাজীপুরে, করেছেন বিয়ে

আপডেট: জুন ৪, ২০২২, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ

সাইদা ইসলাম ও রাইয়ান কফম্যান

সোনার দেশ ডেস্ক:


প্রেমের টানে হাজারও মাইল পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের ক্যানসাস সিটির নাগরিক রাইয়ান কফম্যান। গত ২৯ মে (বুধবার) তিনি ঢাকায় আসেন।

সেখান থেকে গাজীপুরে প্রেমিকা সাইদা ইসলামের (২৬) বাড়িতে যান এবং তাকে বিয়ে করেন। ছয় ফুট উচ্চতার এই মার্কিন নাগরিক গাজীপুরে বিয়ে করেছেন- এমন খবরে উৎসুক জনতা বাড়িটিতে ভিড় জমান।

সাইদা গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার ভোগড়া মধ্যপাড়া এলাকার মোশারফ হোসেন মাস্টারের নাতনি ও মৃত সেকেন্দার আলীর মেয়ে। দুই বোনের মধ্যে তিনি বড়। ২০২০ সালে মানবিক বিভাগ থেকে স্নাতক করেন। ২০১৯ সালে বাবা সেকান্দর আলী মারা যাওয়ার পর রাজধানীর দনিয়া এলাকার বাবার বাড়ি থেকে এসে গাজীপুরে নানার বাড়িতে বসবাস করছেন।

নানা মোশারফ হোসেন মাস্টার বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার পর মা ও একমাত্র ছোট বোনকে নিয়ে সাইদা আমাদের সঙ্গেই বসবাস করছে। রাইয়ান বাংলাদেশে আসার আগেই সাইদার জন্য বিয়ের কাপড়-চোপড়, গয়না ও মোবাইল ফোনসহ প্রয়োজনীয় সব জিনিস কেনার জন্য টাকা পাঠিয়ে দেয়। তার পাঠানো টাকা দিয়ে সাইদা বিয়ের প্রয়োজনীয় কেনাকাটাও সম্পন্ন করেছে। তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।’

সাইদা বলেন, ‘যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে ২০২১ সালের এপ্রিলে প্রথম পরিচয় রাইয়ান কফম্যানের সঙ্গে। পরে একে অপরের ফোন নম্বর ও ঠিকানা বিনিময় করি। এরপর নিয়মিত কথা হয়। একপর্যায়ে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে যায় এবং ভালোবাসা হয়। এভাবে প্রায় এক বছর কেটে গেছে।’

তিনি জানান, পরে সম্পর্কের বিষয়ে দুজনের পারিবারকে জানানো হয়। একপর্যায়ে তারা বিয়ে করবে বলে সিদ্ধান্ত নেন। বাংলাদেশি মুসলিম তরুণীকে বিয়ে করার জন্য রাইয়ান তার দেশেই নিয়ম মেনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। পরে তাদের উভয়ের পরিবারের সম্মতিতে ২৯ মে বাংলাদেশে আসে রাইয়ান। এদিনই তাদের সরাসরি প্রথম দেখা হয়। রাইয়ানকে গাজীপুরে নানার বাড়িতে নিয়ে যান সাইদা। সেখানে বিয়ে উভয়ে বিয়ে করেন।

শুক্রবার রাইয়ান ও সাইদা দম্পতি কেনাকাটা করার জন্য গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা বাজারে যান। রাইয়ান স্থানীয় বাজারের পরিবেশ দেখে বলেন, ‘খুবই এলোমেলো অবস্থা’।

বাজারের পরিবেশ এলোমেলো বললেও সুনামই করেছেন গাজীপুরের তরুণীর এই মার্কিন স্বামী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশিরা খুবই ভালো, সাইদার স্বজনেরা অতিথি পরায়ণ। আমেরিকায় অপরিচিতদের সঙ্গে কেউ কথা বলতে চায় না। বাংলাদেশে দেখছি, সবাই খুবই আন্তরিক। যার সঙ্গে কথা বলি সে চা পান করানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। যা আমেরিকায় বিরল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মাধ্যমিক স্কুল পর্যন্ত লেখাপড়া করেছি। আমেরিকার নিজ এলাকায় একটি প্লাস্টিক পণ্য তৈরির কারখানায় অপারেটর পদে কাজ করি। আমার পরিবারে মা-বাবা ছাড়াও এক বড় ভাই রয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই পৃথক বসবাস করেন।’ সাইদাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।

আনুষঙ্গিক কাগজপত্র, ভিসা প্রসেসিং করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। এসব সম্পন্ন হলেই সাইদাকে আমেরিকা নিয়ে যাবেন। পরে সেখানেই তারা সংসার করবেন।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিিিবউন