প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ

আপডেট: মে ১২, ২০২২, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

আব্দুল মজিদ:


প্লাস্টিক ও পলিথিন জনস্বাস্থ্য তথা পরিবেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি হওয়া সত্বেও এগুলোর ব্যবহার দিন দিন অপ্রতিরোধ্য গতিতে বেড়েই চলেছে। এ থেকে মুক্তি পাবার চেষ্টা করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। সরকারের

তরফ থেকে একাধিকবার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পলিথিনের উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আইন করা সত্বেও কাজের কাজ কিছু হয়েছে বলে মনে হয় না। দূষণজনিত ক্ষতির ব্যাপারে পরিবেশ বিজ্ঞানীসহ সবাই আমরা উদ্বিগ্ন। ক্ষতি শুধু স্বাস্থ্য বা পরিবেশেরই নয়,প্লাস্টিক ও পলিথিন নানারকম বিঘ্ন ঘটাচ্ছে মানুষের দৈনন্দিন জীবন প্রবাহে।

প্লাস্টিক বর্জ্য রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা অচল করে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু তারপরও বাস্তবতা হচ্ছে প্লাস্টিক এবং পলিথিন মিশে গেছে মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থায়। এসব ছাড়া একদিনও চলা সম্ভব নয়-এমনতরো ধারণা সৃষ্টি হয়েছে সবার মাঝে।

তবে শুধু আমাদের দেশ কেন,বলতে গেলে পৃথিবীর কোনো দেশই পারেনি প্লাস্টিক-পলিথিন থেকে শতভাগ
বেরিয়ে আসতে। অবশ্য অধিকাংশ দেশই সঠিক ব্যবস্থাপনায় এগুলোর ক্ষতি অনেকখানি কমিয়ে এনেছে। প্লাস্টিকের বিকল্প কোনো কিছু তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আমাদেরও সেই পথেই হাঁটতে হবে বৈকি! একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ক্ষতি কমিয়ে আনতেই হবে।

পলিথিন হচ্ছে প্লাস্টিকেরই একটি পরিবর্তিত রূপ। একবার তৈরি হলে এর আর বিনাশ নাই। সুদীর্ঘকাল ধরে এগুলো মাটি ও পানি দূষিত করতে থাকে। অবলীলায় নষ্ট করতে থাকে পরিবেশের ভারসাম্য। পলিথিন উদ্ভাবনের পর থেকেই পরিবেশ বিজ্ঞানী এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এর ক্ষতিকারক দিকগুলো নিয়ে সতর্ক করে যাচ্ছেন। প্লাস্টিকের বিকল্পও খোঁজা হচ্ছে বহুদিন ধরে।

এতদসত্বেও দিন দিন প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়ছেতো বাড়ছেই। বিষয়টি যথেষ্ট উদ্বেগজনক হলেও এর মূল কারণ হলো প্লাস্টিক বা পলিথিনের দাম কম, সহজলভ্য, ব্যবহার সুবিধাজনক হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে মানুষ এগুলো ব্যবহার করছে। প্লাস্টিক সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে ব্যবহার শেষে পরিত্যক্ত হয়ে। এর উপজাত বা এর থেকে উদ্ভূত কণিকা জল ও স্থলে ক্ষতিকর উপাদান ছড়ায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় মানুষ এবং জীববৈচিত্র্য।

এগুলোর বিরূপ প্রভাবে মানবদেহে ক্যান্সার,অ্যাজমা,
হরমোনজনিত সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিল রোগ সৃষ্টি হয়।
রোগাক্রান্ত হয়ে পড়তে বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদসহ পুরো
জীবজগত। তবুও প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে না
দুনিয়ার কোনো দেশেই।

প্লাস্টিক উদ্ভাবন হয় ১৮৫৫ সালে। আলেকজান্ডার প্রথম প্লাস্টিক উদ্ভাবন করেন এবং নাম দেন পার্কেসিন। ১৯০৭ লিও বেকল্যান্ড উদ্ভাবন করেন সিনথেটিক প্লাস্টিক। এরপর আরও দুই বিজ্ঞানী নোবেলজয়ী হারমেন স্টাওডিঙ্গার এবং হারমেন মার্ক বর্তমান অবয়বে প্লাস্টিক উৎপাদনে অবদান রাখেন।

সিনথেটিক থার্মোপ্লাস্টিক থেকে পর্যায়ক্রমে পলিথিন পর্যন্ত রূপান্তর ঘটে। বহুমুখী সুবিধার কারণে প্লাস্টিক এবং পলিথিনের বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হয়। মানব কল্যাণে এ সামগ্রী উদ্ভাবন করা হলেও তখন বিজ্ঞানীরা আঁচ করতেই পারেননি এই প্লাস্টিক একদিন গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়াবে। প্লাস্টিক-পলিথিনের উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় বিক্রয় মূল্যও কম। এর ব্যবহারও বহুমুখী ও সহজসাধ্য। কাঠ কিংবা ধাতব পদার্থের জায়গাও খুব সহজে দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিক। ওজনে হালকা এবং সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় মানুষ তার ঘরে বাইরে বিভিন্ন কাজে এই পণ্য ব্যবহার করছে দেদারছে। দরজা

থেকে বসার বা শোয়ার আসন,বাথরুম ফিটিংস থেকে থালা বাসন আসবাবপত্র সবকিছুই তৈরি হচ্ছে প্লাস্টিক দিয়ে। বিশ্বে প্রতি বছর কম বেশি ৩৮১ কোটি টন প্লাস্টিক উৎপাদিত হচ্ছে। এর মধ্যে পরিবেশে যোগ হচ্ছে ৪৫ কোটি টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য। এই বর্জ্যের ৫১ সতাংশের বেশি এশিয়া মহাদেশে,ভাবা যায়! এক সময় আমাদের দেশ বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক পণ্য আমদানি করতো। সেদিন আর নাই। এখন উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ।

প্রতিবছর প্রায় চার হাজার কম্পানি ২৪ লাখ টন প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন করছে। সাথে সাথে বর্জ্য তৈরি হচ্ছে প্রায় ৮ লাখ টন। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশ এখন প্লাস্টিক পণ্য বিদেশে রফতানি

করছে। আরও যে বিষয়টি জানার তা হলো দেশে প্রতি বছর মাথাপিছু প্রায় ১৫ কেজি প্লাস্টিক দ্রব্যাদি ব্যবহার
হয়। বিশ্বে মাথাপিছু গড়ে ব্যবহার হয় প্রায় ৬০ কেজি। উত্তর আমেরিকা,ইউরোপ ও জাপানের মতো উন্নত দেশে মাথাপিছু প্লাস্টিকের ব্যবহার প্রায় ১০০ কেজি।
প্লাস্টিক জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ভয়ংকর হলেও
মানুষের দৈনন্দিন জীবনে জড়িয়ে গেছে অঙ্গাঙ্গিভাবে।
একদিকে যেমন যেমন প্লাস্টিকের ক্ষতিকর দিকগুলো
আলোচনা হচ্ছে পাশাপাশি এর ব্যবহারও বাড়ছে দ্রুত গতিতে।
পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন একদিনে বা রাতারাতি প্লাস্টিকের বহুল ব্যবহার থেকে বের হওয়া যাবে না। এ জন্য নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা। প্লাস্টিকের

বিকল্প কী হতে পারে তা দেখতে হবে সর্বাগ্রে। আবার শুধু বিকল্প হলেই চলবে কেন? বরং তা হতে হবে প্লাস্টিকের মতোই সহজলভ্য এবং ব্যবহার উপযোগী।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ নিয়ে গবেষণা শুরু করেছে। জাপান জার্মানি এবং ইতালির কয়েকটি রাসায়নিক কম্পানি মাটি ও পানিতে মিশে যাওয়ার উপযোগী প্লাস্টিক উদ্ভাবন করেছে। তবে এগুলো এখনও বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা কাজ করছে। সুতরাং এখন
প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর একমাত্র উপায় হলো এর সঠিক ব্যবস্থাপনা। ব্যবস্থাপনা বলতে এখন
যা করা যায় তা হলো এগুলোকে বর্জ্যে পরিণত না করে
রিসাইকেলের দিকে নিয়ে যাওয়া। ব্যবহার শেষে এগুলো মাটি,পানি বা যত্রতত্র না ফেলে যদি শতভাগ রিসাইকেল করা যায় তবেই আপাতত এই গুরুতর ক্ষতি থেকে কিছুটা হলেও মানবকূল রক্ষা পেতে পারে।

বিশ্বব্যাপি প্লাস্টিকের ব্যবহার সাধারণত দু’ভাবে হয়। একটি হচ্ছে সরাসরি প্লাস্টিক দিয়ে নানারকম আসবাবপত্র তৈরি,অন্যটি হচ্ছে পলিথিন। আর এই দুই
ধরনের প্লাস্টিকের ব্যবহারই বাড়ছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে। এর মধ্যে অবশ্য বিশ্বের কিছু কিছু জায়গায়
পলিথিন ব্যবহার সীমিত করা হয়েছে। কিছু শহরে দৈনন্দিন কাজে পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধও করা হয়েছে। বাংলাদেশে ২০০২ পলিথিনের ব্যবহার সীমিত করে আইন করা হয়। সেই সময় পলিথিনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান চালানো হয়
বিক্রেতা এবং উৎপাদক পর্যায়ে। এসব উদ্যোগের ফলে সাময়িক হলেও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে পলিথিনের
ব্যবহার। সরকারের পক্ষ থেকে পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ কিংবা কাগজের ঠোঙ্গা ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়। কিন্তু তা করা হলে কী হবে! বাস্তবতা হলো যে পরিমাণ পলিথিন মানুষের জীবনযাত্রায় দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার হয় শুরু হয়েছে সেই পরিমাণ বিকল্প ব্যবহার্য বাজারে নাই। যৎসামান্য
থাকলেও তা তেমন সুলভও নয়। সহজ ব্যবহারের দীর্ঘ
অভ্যাস ত্যাগ করে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ স্থায়ীভাবে
বিকল্পের দিকে যেতে পারেনি। সুতরাং নানা কৌশলে আবারও ফিরতে থাকে পলিথিন। এখনতো আর রাখ ঢাক কিছুই নাই। পলিথিনের অবাধ সাম্রাজ্য।

পলিথিন ছাড়া প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হয়নি কোনো সময়। উন্নত বিশ্বও প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেনি তবে এগুলোর ব্যবস্থাপনার দিকে তার ভালোভাবেই নজর দিয়েছে।
মানুষের ব্যবহার্য প্লাস্টিকের অধিকাংশের শেষ গন্তব্য সাগর। প্লাস্টিক কখনই পচে না। পরিত্যক্ত অবস্থায় নদ
নদীসহ বিভিন্ন জলাশয়ে ফেলে দেয়া প্লাস্টিকের একটা
বড় অংশ ভাসতে ভাসতে নদী থেকে সাগরে পতিত হয়।

অসচেতন পর্যটকরা সমুদ্র তীরে প্লাস্টিক পাত্র ব্যবহারের পর পানিতে ছুঁড়ে ফেলে। সমুদ্রে চলাচলকারী জাহাজ ও ট্রলার থেকেও প্লাস্টিক পণ্য পানিতে নির্বিচারে নিক্ষেপ করা হয়। ঝড়-জলোচ্ছাস ও
বন্যায় স্থলভাগের পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সাগর-মহাসাগরে চলে যায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের গবেষণা রিপোর্ট অনুসারে সারাবিশ্বে প্রতি বছর ১৬ কোটি ৫০ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য সাগরে পতিত হয়। এভাবে চলতে থাকলে ২০২৫ সালের মধ্যে সাগরে মাছের চেয়ে
প্লাস্টিকের কণার সংখ্যা বেশি হবে বলে আশংকা প্রকাশ করা হচ্ছে। প্লাস্টিকের ক্ষতি কমাতে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এর যথাযথ ব্যবস্থাপনার কথা বলছেন। সিঙ্গাপুরে প্লাস্টিক কিংবা পলিথিন কোনোটাই নিষিদ্ধ নয় তবুও সেখানে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনায় প্লাস্টিক বা পলিথিন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এমন কোনো নজির নাই।

এদের ব্যবহৃত প্লাস্টিক ও পলিথিন শতভাগ রিসাইক্লিংয়ের দিকে চলে যায়। আর এটি সম্ভব হয়েছে
সাধারণ বর্জ্য থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য আলাদা করতে পারার কারণে। সেখানে একদিকে রয়েছে আইনগত বাধ্যবধাকতা অন্যদিকে মানুষও যথেষ্ট সচেতন। প্রতিবেশি দেশ ভারতে ট্রেন স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পাশাপাশি দুই রঙের দু’টি বর্জ্য রাখার
বাস্কেট দেখা যায়। যার একটিতে শুধু পলিথিনসহ প্লাস্টিক বর্জ্য আরেকটি অন্যান্য সাধারণ বর্জ্য। জাপানে প্লাস্টিক বর্জ্য রিসাইকেল করে নতুন পণ্যের পাশাপাশি পেট্রোলিয়াম দ্রব্যাদি উৎপাদন করছে।

বর্তমানে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের নেতা এবং পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতানুসারে এখনও বিকল্প ব্যবস্থাসমূহের উন্নয়ন ঘটিয়ে প্লাস্টিক ও পলিথিনের
ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ বা সীমিত করা যায়। আসলে বিষয়টি
মানুষের অভ্যস্ততার। যে কোনো কিছু শুরু করতে একটু
অসুবিধা তো হবেই। তাই বলো তো হাত গুটিয়ে বসে থাকা যায় না। শুরু করলে আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যায়। একসময় সরকারি অভিযানে পলিথিনের ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। পলিথিনের দোকানে কাগজের ঠোঙ্গা বিক্রিও শুরু হয়েছিলো। কিন্তু তা আর ধরে রাখতে পারা গেল না। বিশ্বের বেশ কিছু দেশ পলিথিনের বিকল্প দিয়ে চলছে।

এর জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা এবং যুগোপযোগী ব্যবস্থাপনা কৌশল। প্লাস্টিক ব্যবহার কমিয়ে আনার ব্যাপারে আমাদের মানসিকতারও পরিবর্তন অতীব জরুরি। বিয়ে কিংবা বড় কোনো অনুষ্ঠানে প্রত্যেকের জন্য আলাদা বোতলে পানি দেয়ার কী খুব প্রয়োজন আছে? বড় বোতলে পানি দিলে একদিকে যেমন প্লাস্টিকের ব্যবহার কম হবে অপরদিকে পানির অপচয়ও কম হবে।

আগে সফ্ট ড্রিংকস বিক্রি হতো কাচের বোতলে। এখন প্লাস্টিকের বোতলে বিক্রি হওয়াজনিত কারণে যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলা হচ্ছে। এক্ষেত্রে আবার কাচের বোতলে ফিরে যাওয়া যায়। প্লাস্টিক বোতলের দাম বাড়িয়ে দিলে মানুষ আবার কাচের দিকে ফিরে যাবে।

তবে এসব পদক্ষেপ নেয়ার সপক্ষে যুক্তি রয়েছে বটে কিন্তু এসব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন খুব একটা সহজ নয়। মানুষের অভ্যাস পরিবর্তন করা কঠিন একটি কাজ। এটি শুধু আইন প্রয়োগ করে হবে না। মানুষকে সচেতনও করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করে প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনা কিছুটা সহজ করা যায়। প্রথমত যত্রতত্র প্লাস্টিক বা পলিথিন ফেলার ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করতে হবে। দ্বিতীয়ত আলাদা করতে হবে সাধারণ বর্জ্য থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য। তৃতীয়ত প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্যের শতভাগ নিতে হবে রিসাইক্লিংয়ের আওতায়। চতুর্থত বাড়ি,দোকান,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,অনুষ্ঠানস্থল, বাজার,
রেল স্টেশন, লঞ্চ ঘাটসহ লোক সমাগমের সকল স্থানে
দুই রংয়ের আলাদা দুটি বড় বড় বাস্কেট স্থাপন করতে হবে যাতে করে মানুষ ব্যবহারের পর প্লাস্টিক বর্জ্য এবং অন্যান্য বর্জ্য পৃথকভাবে ফেলার সুযোগ পায়। যাহোক এসব কিছুর পরও যেটা দরকার তা হলো গণমানুষের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ। এবং সাথে সাথে মানুষকে এ ধরনের শুভকাজে অভ্যস্ত করতে পারলেই কেবল প্লাস্টিকের বহুল ব্যবহার এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে বিশ্বাস করা যায়।
***********************************************
তথ্যসূত্রঃ দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকা।
লেখকঃ ড.মোঃ আব্দুল মজিদ, প্রাক্তন ছাত্র ও শিক্ষক, রাজশাহী কলেজ।