ফরিদপুর উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদককে পেটালেন সহসভাপতি

আপডেট: জুন ২৬, ২০২২, ২:০০ অপরাহ্ণ

পাবনা প্রতিনিধি :


পাবনার ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফুল কবীর কে পিটিয়ে জখম করেছেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম কুদ্দুস সহ তার লোকজন। আহত আলী আশরাফুল কবীরকে স্থানীয় গোপালনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে আটটার দিকে ফরিদপুর বাজারে বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজ উদ্দিন খান মুক্তমঞ্চে পদ্মা সেতু উদ্বোধনীর আনন্দ উৎসব চলার সময় এ ঘটনা ঘটে।

ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফুল কবীর অভিযোগ করে বলেন, পদ্মা সেতুর অনুষ্ঠান করতে গিয়ে অনুষ্ঠানের মঞ্চের পিছনে আমার দলেরই ফরিদপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম কুদ্দুস কে বললাম, ভাই ২৩ তারিখের অনুষ্ঠানেও আসলেন না।

আবার ২৫ তারিখের অনুষ্ঠানেও আসলেন না। তখন তিনি বলেন, তোমাদের অনুষ্ঠানে আমরা যাব কেন। তোমরা রাজাকার। রাজাকারের অনুষ্ঠানে আমরা যাই না। সে আওয়ামী লীগের নেতা হয়ে এ কথা বলতে পারেন কি না এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তিনি এবং তার ক্যাডার বাহিনী ধারালো কিছু দিয়ে আমার মাথায় কোপ দেয়।

পরে হাসপাতালে ভর্তি করে স্থানীয়রা।
আলী আশরাফুল কবীর কে মারপিটের ঘটনা স্বীকার করে ফরিদপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম কুদ্দুস বলেন, অনুষ্ঠানস্থলের পাশে একটি দোকানে চা খাচ্ছিলাম। একটা বিষয় নিয়ে তার সাথে আমার কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তিনি আমার কলার চেপে ধরেন। তখন আমার লোকজন তাকে কিল ঘুষি মারলে মাটিতে পড়ে গিয়ে তার মাথা কেটে যায় ।

ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, অনুষ্ঠানস্থলে পুলিশ ছিল। পুলিশ দ্রæত বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে । এ বিষয়ে কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

ঘটনা কি হয়েছিল সেসময় জানতে চাইলে ওসি বলেন, আমরা প্রাথমিক তদন্ত করে যেটুকু পেয়েছি তা হলো, অনুষ্ঠান চলার সময় মঞ্চের পেছনে চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সহ ৪/৫ জন। সেখানে চা খেতে যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফুল কবীর।

তিনি গিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাফ প্যান্ট পড়ে থাকতে দেখে তাকে বলেন, আজকের এমন একটি দিনে একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে হাফ প্যান্ট পড়ে এখানে এসেছেন কেন।

এটা নিয়েই কথা কাটাকাটি, ধাক্কাধাক্কি হয়। এ সময় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম কুদ্দুস আলী আশরাফুল কবিরকে বলেন, আমি তাদের ডেকে নিয়ে এসেছি চা খেতে। এখানে তুমি ঝামেলা করছো কেন।

তারপর তাদের দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি, ধাক্কাধাক্কি হয়। এরই এক পর্যায়ে নুরুল ইসলাম কুদ্দুস বা তার লোকজন কেউ আলী আশরাফুল কবিরের মাথায় কাঁচের গøাস দিয়ে আঘাত করলে মাথা কেটে যায়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ