ফলের চাহিদা পূরণ ।। টবে আম গাছ

আপডেট: নভেম্বর ১০, ২০১৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি



জনসংখ্যার ঘনত্বের জন্য দিন দিন কমে যাচ্ছে আবাদী জমির পরিমান। তবে বাড়ির আঙিনায় বা ছাদের ওপরে বিভিন্ন জাতের ফল ও ফুলের বাগান তৈরী করে একদিকে যেমন ফলের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব অন্যদিকে সবুজের সমারোহ। এক্ষেত্রে নজির সৃষ্টি করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব ও আম গবেষণা কেন্দ্র।
কয়েকজন গবেষক ২০০৬ সালে টবে লাগানো আম গাছে গত কয়েক বছর থেকে নিয়মিত ফুল ও ফল পাচ্ছেন। যদিও সাধারণ জমিতে লাগানো গাছের চেয়ে ফলন কিছুটা কম হলেও সঙ্গে সঙ্গে পাকা বাড়িতে একখ- সবুজের সৃষ্টি হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকতা ড. শরফ উদ্দিন জানান, বাড়ির ছাদে বা আঙিনায় টবে বারি আম-৩ জাতের চারা লাগানোর এক বছরের মধ্যে আম ধরা শুরু করে  অন্তত ১০-১২ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া সম্ভব। তিনি আরো জানান, একই গাছ থেকে ৩/৪টি আমের জাত পেতে হলে দ্বিতীয় বছরে প্রত্যেকটি ডালে কাঙ্খিত জাতের সায়ন বা ডগা দ্বারা টপ ওর্য়াকিং করলেই একইগাছ থেকে কয়েক জাতের আম ফল পাওয়া সম্ভব। টবে আম গাছের চারা লাগানোতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে বলে কর্মকর্তা জানান। তিনি জানান, টবে অনায়াসেই পেয়ারা, লেবু, কামরাঙ্গা, জামরুল, ডালিম, বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষাবাদ করা যায়। এমনকি বর্তমানে আমের মধ্যে বারি আম-৩ বা আম্রপালি জাতটি লাগাচ্ছেন।
গষেণায় দেখা গেছে, কনক্রিটের তৈরী টবে আম ১০-১২ বছর এবং অন্য ফল ১৫-২০ বছর পর্যন্ত সফলভাবে জন্মানো সম্ভব। শুধু নিয়মিত প্রয়োজনীয় পানি দিতে হবে এবং ছাদের ওপরে স্থাপিত টবের ওজন সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।
টব তৈরী ও চাষ পদ্ধতি : টবটি তৈরীতে ইটের খুয়া, সিমেন্ট, বালি ও চিকন রড দিয়ে ৩২, ৩২ ও ৩০ ইঞ্চি  এবং টবের ভিতরের আকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে ২৫ ইঞ্চি আকার বিশিষ্ট। টবের উপরের প্রাস্তে ৪ ইঞ্চি পাড় থাকলে দেখতে সুন্দর লাগে। টবটি স্থানান্তরে চার প্রান্তে ৪টি হুক ও পানি নিস্কাশনের জন্য ৩টি ছিদ্র রাখতে হবে। টবটি ভরাট করতে নিচের অংশে ছোট ইটের টুকরা দেয়ার পর ৫০ ভাগ দোঁআশ মাটি এবং ৫০ ভাগ পচানো গোবর সার অথবা জৈব সার দিয়ে পছন্দনীয় আমের জাতের কলম সংগ্রহ করে লাগাতে হবে। তবে গুটি আমের গাছ লাগিয়ে সেটিকে পছন্দের সায়ন (ডগা) দিয়ে কলম করা যায়। টবে জন্মানোর জন্য নিচের দিকে বা মাটির কাছাকাছি গ্রাফটিং করা চারাগুলি নির্বাচণ করতে হবে। মাটির ওপর থেকে ৫-৮ ইঞ্চি দূরুত্বে কলম করলে সবচেয়ে ভালো হবে। প্রাথমিক অবস্থায় সব টবগুলো পাশাপাশি রাখলেই চলবে। এক-দুই বছর পর নির্দিষ্ট জায়গায় স্থানান্তর করতে হবে। প্রতি বছর গাছের চাহিদা অনুযায়ী সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে। যেমন, গোবর সার বা জৈব সার বা কেঁচো সার, ডিএপি, এমপি, জিপসাম, দস্তা সার এবং বোরিক পাউডার। সবগুলো সার একবারে প্রয়োগ না করে দুই থেকে তিন বারে প্রয়োগ করা ভালো। সার প্রয়োগের পর পানির ব্যবস্থা করতে হবে। যখন বৃষ্টিপাত কম হয় এবং মাটি শুষ্ক অবস্থায় থাকে তখন প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সরবরাহ করতে হবে। গাছ লাগানোর প্রথম দুই বছর গাছে শক্ত খুটির ব্যবস্থা করতে হবে।