ফিদেল কাস্ত্রোকে শেষ বিদায়

আপডেট: ডিসেম্বর ৫, ২০১৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



কিউবা বিপ্লবের জন্মভূমি পূর্বাঞ্চলীয় শহর সান্তিয়াগোতে বিপ্লবের নায়ক ফিদেল কাস্ত্রোকে শেষ বিদায় জানিয়েছে লাখো মানুষ।
শনিবার রাষ্ট্রীয় এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ফিদেলকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়, এতে নেতৃত্ব দেন ফিদেলের বিপ্লবী সহযোগী ও ছোট ভাই কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো; অনুষ্ঠানে বিশ্ব নেতারাও উপস্থিত ছিলেন, জানিয়েছে বিবিসি। ২৫ নভেম্বর ৯০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন ফিদেল। তার মৃত্যুতে নয়দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে কিউবা। রোববার ফিদেলের দেহভস্ম সমাহিত করার মধ্যমে রাষ্ট্রীয় শোকের পবর্ শেষ হবে।
অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট রাউল, ফিদেলের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবের লক্ষ্য ও সমাজতান্ত্রিক নীতির প্রতি অটল থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রয়াত নেতার অনুরোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে কিউবার কোনো স্মৃতিস্তম্ভ বা সড়কের নামকরণ ফিদেল কাস্ত্রোর নামে করা হবে না বলে ঘোষণা করেন তিনি।
‘বিপ্লবের নেতা’ ব্যক্তিপূজার সব ধরনের বিকাশের প্রবল বিরোধী ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, “কিউবায় ফিদেলের কোনো মূর্তি বা আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে না।” ফিদেলের দেহভস্মবাহী শকট রাজধানী হাভানা থেকে রওয়ানা হয়ে চারদিনের ভ্রমণ শেষে শনিবার সান্তিয়াগোতে পৌঁছায়, এ সময় হাজার হাজার মানুষ ‘ফিদেল দীর্ঘজীবী হও!’, ‘আমি ফিদেল’ শ্লোগানে ফেটে পড়ে।
ভেনেজুয়েলা, নিকারাগুয়া ও বলিভিয়ার নেতারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট লুলা দ্য সিলভা ও দিলমা রৌসেফ।
ঐতিহাসিক মনকাদা সেনানিবাস দিয়ে ফিদেলের দেহভস্মবাহী শকট এগিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত হাজার হাজার কিউবানের অন্যতম তানিয়া মারিয়া জিমেনেজ বলেন, “আমরা যারা ফিদেলকে ভালোবাসি, আমাদের সবার কাছে তিনি পিতার মতো। তিনি আমাদের জন্য পথ পরিষ্কার করে দিয়েছেন, জনগণ তাকেই অনুসরণ করবে।”
১৯৫৩ সালের ২৬ জুলাই বিপ্লবীদের ছোট একটি দল সান্তিয়াগোর মনকাদা সেনানিবাস আক্রমণ করেছিল, এই দলটির অংশ ছিলেন ফিদেল। ওই হামলা ব্যর্থ হয়েছিল, কিন্তু এখান থেকেই কিউবার বিপ্লবের আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল, যার আঁচে ১৯৫৯ সালের ১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কিউবার ফুলজেন্সিও বাতিস্তা সরকারের পতন ঘটে। এরপর থেকে প্রায় অর্ধশতাব্দি ধরে একদলীয় ব্যবস্থায় কিউবা শাসন করেছিলেন ফিদেল। সমর্থকরা বলেন, তিনি কিউবাকে কিউবাবাসীর কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তার শাসনামলে কিউবার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বমান অর্জন করে, যার কারণে বিশ্বব্যাপী তিনি দারুণ প্রশংসিত।
অপরদিকে সমালোচকরা তাকে একজন স্বৈরশাসক হিসেবে বিবেচনা করেন, যিনি বিরোধীতা ও ভিন্নমত সহ্য করতেন না।  ২০০৬ সালে স্বাস্থ্যজনিত কারণে বিপ্লবী সহযোগী রাউল কাস্ত্রোর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন তিনি।
ফিদেলের দেহভস্ম সান্তিয়াগোর ইফিজেনিয়া কবরস্থানে রাখা হবে, কিউবার স্বাধীনতা আন্দোলনের বীর হোসে মার্তিও এখানে চির শয্যায় শায়িত আছেন।- বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ