ফিরতি টিকিটের টাকা ফেরৎ পেতে বিড়ম্বনায় যাত্রীরা ট্রেন চললে টিকিট বেঁচে টাকা ফেরৎ : কর্তৃপক্ষ

আপডেট: জুন ১৬, ২০২১, ১০:৪২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলে অগ্রিম বিক্রি করা টিকিটের টাকা ফেরৎ পাবেন যাত্রীরা। ১১-১৪ জুন পর্যন্ত অগ্রিম টিকিট বিক্রির সব টাকা ব্যাংকে জমা পড়েছে। তবে কিছু টাকা যাত্রীদের ফেরৎ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে টিকিট বিক্রি করে যাত্রীদের টাকা ফেরৎ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার আব্দুল করিম।
এর আগে ১০ জুন রাতে রাজশাহী নগরে করোনার সংক্রমণ রোধে লকডাউন ঘোষণা করে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। এতে রাজশাহী থেকে সকল যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, ১১ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত অগ্রিম বিক্রয়কৃত ট্রেনের টিকিটের টাকা ফেরৎ দেয়ার কথা থাকলেও যাত্রীরা টাকা না পেয়ে ফিরছেন স্টেশন থেকে। এর আগে গত ১৪ জুন স্টেশনে মাইকিং করে লকডাউনের পর যাত্রা বাতিলের টিকিটের টাকা ফেরৎ দেওয়ার বিয়ষটি জানানো হয় যাত্রীদের। প্রতিদিনই যাত্রী ও তাদের স্বজনরা টিকিটের টাকা ফেরৎ নিতে রেলওয়ে অনুসন্ধান কেন্দ্রে ধর্ণা দিচ্ছেন। সেখানে সঠিক তথ্য না পেয়ে অনেকেই বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। অনুসন্ধান কেন্দ্রের টেলিফোনে কল করা হলে কেউ রিসিভ করেন না। আর রিসিভ করলেও সদুত্তর দিতে পারেন না।
রাজশাহী স্টেশন ম্যানেজার আব্দুল করিম আরও বলেন, ১০ জুন প্রায় ছয় লাখ টাকা ক্যাশ হাতে থাকায় তা ১১ জুন ভোর থেকে যাত্রীদের অগ্রিম টিকিটের অর্থ ফেরৎ দেয়া হয়েছিল। এতে তিতুমীর ট্রেনের সব যাত্রীই টাকা ফেরৎ পেয়েছেন। অন্যদিকে, বনলতা, পদ্ম, টুঙ্গিপাড়া, বরেন্দ্র ও ঢালারচর এক্সপ্রেসের কিছু যাত্রীদের টাকা ফেরৎ দেয়া হয়েছে। তবে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলে টিকিট বিক্রি করে যাত্রীদের টাকা ফেরৎ দেওয়া হবে।
স্টেশনে টিকিটের টাকা ফেরৎ নিতে আসা ইসমাইল হোসেন জানান, লকডাউনের মধ্যে স্টেশনে গাড়ি ভাড়া করে আসা সমস্যার বিষয়। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। আবার স্টেশনে এসেও সঠিক তথ্য না পেয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
শুধু ইসমাইল নয়, সাইদুল ইসলাম, মতিউর রহমানসহ অনেক যাত্রীই এসে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন স্টেশনে। রেলওয়ের অনুসন্ধান কেন্দ্র থেকেও তথ্য জানানো হচ্ছে না। আর অনুসন্ধান থেকেও সঠিক তথ্য দিচ্ছে না।
পশ্চিম রেলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (সিসিএম) আহসানুউল্লাহ ভূঞাকে বেশ কয়েকবার মুঠোফোন কল করা হলে তিনি রিসিভ করেন নি। তবে স্থানীয় একটি সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছেন-
১৩ জুন যাত্রীদের অগ্রিম টিকিটের টাকা ফেরৎ দেয়ার কথা ছিল। সেই লক্ষে রাজশাহী রেলওয়ের অর্থবিভাগে একটি আবেদনও করা হয়েছিল। কিন্তু আইনগত জটিলতা ও অর্থ বিভাগের বাধ্যবাধকতার কারণ দেখিয়ে সেই আবেদন নাকচ করেন প্রধান অর্থ উপদেষ্টা মসিউর রহমান। এছাড়া শুক্রবার ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকার কারণেও আমরা টাকা তুলে ফেরৎ দিতে পারিনি। তাই প্রতিশ্রুতি মোতাবেক টাকাও ফেরৎ দিতে ব্যর্থ হই।
তিনি আরও বলেন, রেল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী- লকডাউন শেষে ট্রেন চালু হবেÑ তখন স্টেশনে টিকিটের বিক্রিত অর্থ থেকেই যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরৎ দেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ