ফিরে দেখা

আপডেট: মার্চ ২৪, ২০২০, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ

২৪ মার্চ


১৯৪৮ সালের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে অনুষ্ঠিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ একটি ভাষণ দেন। সেখানে তিনি বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিকে নাকচ করে দিয়ে ঘোষণা করেন, ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে একটি এবং সেটি উর্দু …’ এই ঘোষণা দেয়া মাত্রই হলে সমবেত ছাত্ররা ‘না না’ বলে প্রতিবাদ করতে থাকেন।
১৯৬৯ সালের ২৪ মার্চ দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি ইয়াহিয়া খানকে ক্ষমতা প্রদান করেন। সমস্ত কৃতিত্ব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের।
১৯৬৯ সালের এই দিন থেকে সমস্ত পাকিস্তানে শুরু হলো ইয়াহিয়ার সামরিক শাসন।
১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ বঙ্গবন্ধুর উপদেষ্টার সাথে ইয়াহিয়া সাক্ষাত করে। খবর প্রচার করা হয় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান নির্বাচিত সদস্যদের কাছে ২৫ মার্চ ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন।
১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ উত্তাল আন্দোলনের ২৪ তম দিন। এদিন জনতা একর পর এক মিছিল নিয়ে ৩২ নং বাসায় বঙ্গবন্ধুর কাছে আসেন। দিনভর বঙ্গবন্ধু জনতার উদ্দেশ্যে বিরামহীনভাবে বক্তব্য রাখেন এবং বলেন “আমার মাথা কেনার শক্তি কারোর নেই। বাংলার মানুষের সঙ্গে, শহীদের রক্তের সঙ্গে মুজিব বেঈমানি করবে না।” তিনি বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশ্যে আরও বলেন, “আমি কঠোরতর নির্দেশ দেবার জন্য বেঁচে থাকবো কিনা জানিনা, দাবী আদায়ের জন্য আপনারা সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন। আর আলোচনা নয়, এবার ঘোষণা চাই।” বঙ্গবন্ধু আরোও বলেন, “আগামীকালের মধ্যে সমস্যার কোন সমাধান না হলে, বাঙ্গালিরা নিজেদের পথ নিজেরাই বেছে নেবে।”
১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ পাক-সেনারা চট্রগ্রামের নৌবন্দরের ১৭ নং জেটিতে অবস্থানরত এম.ভি সোয়াত জাহাজ থেকে সমরাস্ত্র খালস করতে গেলে প্রায় ৫০ হাজার বীর বাঙ্গালি তাদের ঘিরে ফেলে। এসময় পাক-সেনা সদস্যরা জাহাজ থেকে ১২ টি ট্রাকে অস্ত্র নিয়ে যাবার সময় জনতা তাদের গতিরোধ করে। সেনারা জনতার উপর নির্বিচারে গুলি চালালে প্রায় ২০০ জন শ্রমিক সেখানেই শহিদ হন।
এদিন মুজিব-ইয়াহিয়ার বৈঠক বাতিল করা হয়। প্রেসিডেন্ট ভবনে প্রস্তাবিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের নতুন নাম নিয়ে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ড. কামাল হোসেন রাষ্ট্রের নাম ‘কনফেডারেশন অব পাকিস্থান’ নামকরণের প্রস্তাব পেশ করেন।
১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট ভবনে আওয়ামী লীগ ও সরকারের মধ্যে উপদেষ্টা পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বেঠকে আওয়ামী লীগের পক্ষে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমেদ ও ড. কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। ২ ঘন্টাব্যাপী বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের পক্ষে তাজউদ্দীন আহমেদ উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, “আমাদের বক্তব্য শেষ হয়েছে, প্রেসিডেন্টের উচিৎ তার থোষনা দেয়া। আলোচনা অনির্দিষ্টকালের জন্য চলতে পারে না বলে আমরা সাফ্ জানিয়ে দিয়েছি।”