ফিরে দেখা

আপডেট: মার্চ ২৫, ২০২০, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

২৫ মার্চ


১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ রাওয়াল পিন্ডি গোল টেবিল বৈঠক ব্যর্থ হবার প্রেক্ষিতে আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ইয়াহিয়া পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ : পৃথিবীর ইতিহাসে এক নৃশংসতম কালরাত্রি ২৫ মার্চ। এদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে মানুষের ঢল নামে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ঢাকা সংবাদপত্রগুলোতে প্রায় ১৫০ জনের ওপরে পাকিস্তানি সৈন্যদের গুলিতে সাধারণ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বঙ্গবন্ধু সারাদেশে সংগ্রামের ঘোষণা দেন এবং পাকিস্তানি সৈন্যদ্বারা গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানান। ঢাকা শহরের প্রায় সকল জায়গায় সাধারণ জনগণ এবং পাকিস্তানি সৈন্যদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ মানুষ রাস্তায় বেরিকেড দেয়। এরই মধ্যে সন্ধ্যা ৬ টা নাগাদ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকা ত্যাগ করেন। সন্ধ্যায় সারা শহরে ইয়াহিয়ার ঢাকা ত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে রাতেই বঙ্গবন্ধুকে তাঁর বাসা ছেড়ে চলে যেতে অনুরোধ জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ, ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম ও ড. কামাল হোসেন চলে যান। তাজউদ্দীন আহমদ ও ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম ফরিদপুর হয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে চলে যান। ড. কামাল হোসেন ঢাকায় থেকে যান। পরে ড. কামাল হোসেন ১৩ এপ্রিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়েন বা ধরা দেন। পরবর্তীতে তাকে পশ্চিম পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়া হয় [সূত্র : বঙ্গবন্ধুর মুক্তির সংগ্রাম ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তন – মো. আজিজ খান। পৃষ্ঠা -১০১ ও ১০২]।
২৫ মার্চ রাত সাড়ে এগারটায় শুরু হয় অপারেশন সার্চ লাইট নামক ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ঢাকার পিলখানার ইপিআর সদর দপ্তর, রাজারবাগ পুলিশ লাইন, বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন জায়গায় হানা করে এবং ব্রাস ফায়ারের মাধ্যমে পুলিশ, জনতাকে হত্যা করতে থাকে। তারা গণহত্যার পাশাপশি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে এবং লুটতরাজ করতে থাকে। ঢাকা শহরকে বিভীষিকাময় ভূতুড়ে শহরে পরিণত করে ফেলে। ঢাকা সেনানিবাস ছাড়া শহরের প্রায় সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বাড়িতে চালানো হয় অগ্নিসংযোগ, হত্যা আর লুটতরাজ। এসময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সাহায্য করে অবাঙালি অনেক ব্যক্তি। তারা সেনাবাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, বাড়ি বা প্রতিষ্ঠান চিনিয়ে দেয়।
১৯৭২ সালের ২৫ মার্চ জ্যামাইকা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ফেরার প্রায় আড়াই মাসের মাথায় জ্যামাইকা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
১৯৭৩ সালের ২৫ মার্চ যুগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট জোসেফ রোজ টিটো (মার্শাল টিটো) বঙ্গবন্ধুর আমন্ত্রণে বাংলাদেশে সফরে আসেন।