ফুটবলার হয়ে উঠার গল্প শুনালেন রাজশাহীর সেরা খেলোয়াড় সংক্রান্তি বালা

আপডেট: December 2, 2020, 9:58 pm

কুলসুম সাফরিন:


জেএফএ অনূর্ধ্ব ১৪ জাতীয় মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত আসরে সেমিফাইনালে উঠার জন্য কঠিন হিসাব-নিকাশের মধ্যে পড়েছিল রাজশাহী জেলা দল। চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্যায়ের শেষ খেলা ছিল সাতক্ষীরার বিরুদ্ধে রাজশাহীর। এই ম্যাচে হারলেই কাক্সিক্ষত সেমিফাইনালের মুখ দেখা হতো না স্বাগতিকদের। এই জটিল হিসাবে পড়ে ম্যাচের প্রথমার্ধে সাতক্ষীরার মেয়েদের প্রভাবে ভয় ধরিয়ে দিল রাজশাহী দলে। পাঁচটি গোল করে সেই ভয়কে কাটিয়ে তুললেন গোদাগাড়ী থেকে উঠে আসা ফুটবলার সংক্রান্তি বালা ওরফে স্বর্ণালি। তার গোল উৎসবে রাজশাহী নিশ্চিত করলো সেমিফাইনাল। ম্যাচে রাজশাহীকে যেমন কঠিন পরিস্থিতি থেকে তুলেছেন। ঠিক তেমনিভাবে তার ফুটবলার হওয়ার পিছনের গল্পটাও ছিল কঠিন। সেই কঠিন পথটা পাড়ি দিয়ে হয়েছেন সাতক্ষীরা ও রাজশাহীর মধ্যকার ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়।
খেলার নেশা আর স্বপ্ন থেকে রাজশাহীর হয়ে অনূর্ধ্ব ১৪ জাতীয় মহিলা ফুটবলে খেলতে এসেছেন গোদাগাড়ী সোনাদিঘি উচ্চবিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সংক্রান্তি বালা। প্রথম শ্রেণি থেকেই খেলার প্রতি আসক্ত ছিলেন তিনি। রাজশাহীর হয়ে প্রতি খেলায় নিজের সর্বোচ্চ পরিশ্রম দিয়েছেন। শুধু জেলায় নয়, জেলার বাইরেও পরিচয় ফুটিয়ে তুলেছে কঠিন সাহসিকতার। তার খেলায় অনুপ্রেরণা এবং তার এতদূর পথ পাড়ি দিয়ে আসার পিছনে কার অবদান আছে? হলে সংক্রান্তি বালা জানান, খেলার প্রতি অনেক ছোট থেকেই আসক্ত ছিলাম। এলাকায় খেলাধুলা করতাম। আসলে পরিবারের সমর্থন না থাকলে কোথাও খেলা সম্ভব হতো না। ছোট থেকেই বড় আপুদের খেলা উপভোগ করতাম। সেইসাথে টেলিভিশনেও ফুটবল খেলা দেখতাম। তখন থেকেই মনে প্রবল ইচ্ছা ছিল বড় খেলোয়াড় হওয়ার। তারা (বড় আপুরা) যখন মাঠে অনুশীলন করত, তখন মাঠে এসে তা দেখতাম। সেখান থেকেই খেলার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠলাম। কেন যেন সব খেলা থেকে ফুটবল খেলায় বেশি ভালো লাগতো। মা-বাবা সবাই আমার খেলা দেখে খুশি ছিলেন এবং আমি আজ এতদূর আসার পেছনে আমার পরিবারের অবদান অনেক বেশি। তারা সব সময় আমাকে খেলা নিয়ে অনেক সহায়তা করেছে। যার ফলে আজ আমি এতদূর পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি। তারা চাই, আমি যেন ভালো মানের একজন ফুটবল খেলোয়াড় হতে পারি। তবুও আমার অনুশীলন করার পথ এতটাও সহজ ছিল না। আশেপাশে মানুষ নানান কথা শুনাতো আমাকে। শুধু তাই নয়, আমার খেলার জন্য আমার পরিবারকেও শুনতে হয়েছে অনেক বাজে মন্তব্য। বাবা কৃষি কাজ করতেন আর আমি বড় মেয়ে হওয়ায় আশেপাশের সবাই কটূ কথা শুনাতো। জীবনে প্রতিবন্ধকতা আসে। তবে আমি সেটাতে কখনো হতাশ হয়নি। গোদাগাড়ীতেই বাবার সহায়তায় আমি অনুশীলন করতাম। স্কুলেও বিভিন্ন খেলায় অংশ নিয়েছি। বাধা যখন পেতাম, তখন আমি ভাবতাম, যদি একজন ছেলে খেলতে পারে বিনা বাধায়। তাহলে আমরা মেয়েরা কেন পারবো না। যারা আমার সমালোচনা করতো, তারা আজ আমার সাফল্য দেখে অনেকেই চুপ হয়ে গেছে। আমি শুধু রাজশাহীতে না- রাজশাহীর বাইরেও খেলা করেছি অনেকবার। ২০১৪ সাল থেকে জেলা পর্যায়ে মেয়েদের ফুটবলে খেলছি। চেষ্টা আছে অনেক বড় খেলোয়াড় হওয়ার এবং মা-বাবার স্বপ্নকে পূরণ করার। আমার লক্ষ্যই জাতীয় পর্যায়ে নিজেকে উপস্থাপন করা। এবং সেরা খেলোয়াড়ের তালিকায় নিজেকে অন্তর্ভূক্ত করা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ