ফেসবুক লাইভে এসে কাঁদলেন মেয়র আব্বাস

আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০২১, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিদেক:


বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল করলে পাপ হবে, ১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হওয়ায় আওয়ামী লীগ ও মেয়রের পদ থেকে বহিস্কারের জোয়ারে ভাসছে। তোপের মুখে কাটাখালী মেয়র আব্বাস আলী। ফেসবুক লাইভে এসে কাঁদলেন মেয়র আব্বাস আলী।

শুক্রবার ২৬ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪ টায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে আসেন। ফেসবুকে আব্বাস আলী জানায়, বিবেকবান মানুষদের কাছে সব এক্সক্লুসিভ কথা বলব। দয়া করে কেউ নেগেটিভ কমেন্ট করবেন না। অনেক বিষয় উঠে এসেছে, অনেক অভিযোগ এসেছে। আজ শুধু ভিডিও ক্লিপটি নিয়ে বলব। এক মিনিট একান্ন সেকেন্ডের ভিডিও কে নিয়ে সারা বাংলাদেশে তোলপাড় চলছে যে ভিডিওটি ৩,৪ মাস আগের। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননা বা কটূক্তি করার দুঃসাহস আমার নাই। আপনারা ভিডিওটি যতœসহকারে শুনবেন। ভিডিওর কোথাও কি জাতির পিতাকে নিয়ে কোনো কটূক্তি করেছি, কোনো আশালীন মন্তব্য করেছি? তিনি বাঙালি জাতির অহংকার, তাকে নিয়ে কোন কটূক্তি করি নাই।

ভিডিওতে মুর‌্যাল নিয়ে কথা উঠেছে। তা নিয়ে কিছু কথা বলব, কাটাখালি পৌরসভার দুইটি গেট করার ভিডিও আপলোড দিয়েছিলাম। তার আগে মুর‌্যাল নিয়ে কারো কোন সিদ্ধান্ত ছিল কিনা জানি না তবে মুর‌্যাল নিয়ে আমি নিজে প্রথমে ফেসবুকে জনগনের মতামত চেয়েছিলাম যে বঙ্গবন্ধু মুর‌্যাল সহকারে যে গেট টা করতে যাচ্ছি এ সম্পর্কে আপনাদের জানতে চাচ্ছি। আমি একটা মানুষ, আমি মুসলমান এবং আমি একটি দল করি। আমাদের এখানে একটা মাদ্রাসা আছে যার নাম জামিয়া মাদ্রাসা।

এ মাদ্রাসা যিনি প্রতিষ্ঠা করেছে। মুর‌্যালের বক্তব্য কিভাবে আসছি তার কথা বলছি। ঐ মাদ্রাসার যিনি বড় হুজুর, ঐ মাদ্রাসার জানাজা দাফনের কাজে বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কাজে যেতে হয়। আমি কোনো এক জানাজায় আমি যাই। তারপর জানাজা শেষে মাদ্রাসার সাথে যে ইদগাহ গিয়ে বসে ছিলাম। আমার দেখামতে, মাদ্রাসার বড় হুজুর জামাল উদ্দিন মোহাম্মাদ সন্দীপি তার হাতে হাজার হাজার জন মুফতি, আলম হয়েছে। সারা রাত তিনি নামাজ পড়তেন আল্লাহর কাছে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তেন। তিনি আল্লাওয়ালা একজন মানুষ। তার সাথে আমি বসেছিলাম। বড়হুজুর বলেছিলেন, আপনি যে ভিডিওটি ফেসবুকে দিয়েছেন তা আমার ছাত্র আমাকে দেখিয়েছে। মুর‌্যালটার বিষয়ে অন্য কোনো চেঞ্জ আনা যায় কিনা?

এছাড়া অনেক ভাবে আমাকে বুঝিয়েছেন। আমি একজন মুসলমান, ধর্মের কথা আসলে কে না দুর্বল হয়? আমিও দুর্বল হয়েছি। তার ধর্মীয় কথার যুক্তি অনুযায়ী আমি বলেছি মুর‌্যাল করলে পাপ হবে। মুর‌্যাল করবো না। এরপর আর কখনো আমি বলিনি। অনেক সময় আলোচনায়, গল্পগুজবে বা আড্ডায় বসলে নিজেদের মধ্যে অনেক কথায় হয়ে থাকে। আমরা করেছিলাম। এটি যদি ভুল হয়ে গছে। এটা কত বড় ভুল বলেন? এটা কি এমন ভুল বলেন? ফেসবুকে সবাই গালাগালি করছেন। মিছিল করল, ভাঙচুর করল, আমার নামে আইসিটি আইনে তিনটা মামলা করেছে। তবুও মেনে নিয়েছি আমি ভুল করেছি।

আমাকে পবা উপজেলার দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হল। তবুও আমি মেনে নিয়েছি। আমার যারা ভালোবাসার মানুষজন আছে, তাদেরকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমার পৌরসভার কাউন্সিলরদের ডেকে, থ্রেট করে, তারা ১২ জন কাউন্সিলরকে দিয়ে জোর করে আনাস্থায় আনা হয়েছে। তাদেরকে যা যা করেছে তার সব ডকুমেন্টস রয়েছে। কাটাখালিতে যে দোকান ছিল ভাঙা হয়েছে। আমার সোনামনিদের জন্য পার্ক করেছিলাম তাও ভাঙা হয়েছে। কি এমন পাপ ছোট বাচ্চারা করেছিল?