বইপড়ার জন্য পুরস্কার

আপডেট: মে ১২, ২০২৪, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

পরিবারেও জাগরণ চাই


‘বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না’- এমনটি জেনেই বড় হয়েছি। পঞ্চাশোর্ধ সকলেরই এই একই অভিজ্ঞতা। বই মানুষকে প্রতারণা করে না, হতাশ করে না।

বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে বইপড়া। প্রতিদিন বই পড়লে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে এবং আরো সক্রিয় হয়। চাপ কমানোর ক্ষেত্রে বইপড়া একটি ভালো অভ্যাস। মানসিক চাপ কমাতে দারুণ একটি উপায় নিয়মিত বই পড়া।

বই পড়লে- শব্দভাণ্ডার বৃদ্ধি করে, স্মৃতিশক্তি উন্নত করে, চিন্তার দক্ষতা বাড়ায়, লেখার দক্ষতা বৃদ্ধি, মনকে প্রশান্তি দেয় বই বিনোদনের মাধ্যম। অতএব বই শুধু দিতেই জানে, বিনিময়ে কিছুই নেয় না। বই মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সাথী, বই কাঁদায়, হাসায়, তবে কখনো একা ফেলে রেখে যায় না। নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস খুবই ভালো।

বইপড়ার ব্যাগ্রতার মধ্য দিয়েই বাঙালিরা তাদের জাতিসত্তা বিকশিত এবং জাতিসত্তা নির্মাণ করেছে। এক সময় বইপড়া এমনই একটি অভ্যাস ছিল অবসরের বড় সময়টুকুই বইপড়ার মধ্যে গেছে। ট্রেনে, বাসে ভ্রমণের সব স্তরের বই পড়ার আগ্রহ ছিল। এখন সেটা দেখা যায় না। বই পড়ার ক্ষেত্রে অনাগ্রহ খুবই স্পষ্ট।

এই প্রজন্মকে বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করে তুলতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তারাই বইপড়াকে আবারো একটি জাগরণের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। সারা দেশেই বইপড়ার এই কার্যক্রম ঘনিষ্টরূপে ছড়িয়ে দেয়ার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।

বইপড়ার জন্য রাজশাহীর ২ হাজার ২১২ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দিয়েছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। শুক্রবার জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে পুরস্কার বিতরণ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। উৎসবে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের স্বাগত পুরস্কার, শুভেচ্ছা পুরস্কার, অভিনন্দন পুরস্কার ও সেরা পাঠক পুরস্কার শিরোনামে চারটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেয়া হয়।

এই মহতি উদ্যোগের কোনো তুলনা নাই। জাতি গঠনে সর্বোৎকৃষ্ট কাজটিই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ করে যাচ্ছে। তবে শুধু বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের একক প্রয়াসে সমাজে বই পড়াতে জাগরণ সৃষ্টি করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে পরিবারেরও গুরুত্বপর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অভিভাবকদের মধ্যেও পরিবারের জীবন ধারার সাথে বইপড়ার সংস্কৃতি তৈরির তাগিদ সৃষ্টি করতে হবে।

সন্দেহ নেই এই জাগরণের মধ্য দিয়েই একটি বিজ্ঞানমনস্ক জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। আর এতে করে দেশ ও জনগণের সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি সাধিত হবে।

Exit mobile version