বগচর সীমান্ত দিয়ে আবারো ঢুকলো গরু

আপডেট: নভেম্বর ৭, ২০১৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



গত ৩ নভেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের বগচর সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের ব্যাটালিয়ান কমা-ার পর্যায়ের সভায় দুই দেশের সীমান্ত পথে মাদক পাচার প্রতিরোধ, হত্যা-নির্যাতন বন্ধ ও গবাদিপশু পাচার রোধের সিদ্ধান্ত হলেও সিদ্ধান্তের ৩৬ ঘন্টা পরেই আবার গরু পাচার শুরু হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, নিরাপত্তার কারণে মাত্র ৩৬ ঘন্টা  আগে সীমান্ত পথে গরু পাচার বন্ধের সিদ্ধান্ত হলেও  শুক্রবার  রাতে বগচর সীমান্ত দিয়ে ১ হাজার ৮৬টি গরু ভারত থেকে এসেছে। এদিকে ভারত থেকে গরু আনার জন্য শুক্রবার রাতের বেশিরভাগ সময় এই সীমান্ত এলাকাটি খোলাই ছিল। এসময় ভারতের চোরাচালানিরা সীমান্তের এপারে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে। গরু রেখে দিয়ে তারা আবারও সীমান্তের ওপারে চলে যায়।
রাজশাহীস্থ ১ বিজিবি ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক গণমাধ্যমে এক বার্তা পাঠিয়ে জানান, বৃহস্পতিবার বগচর সীমান্ত ফাঁড়ির পিলার ৩৪/১ বিপরীতে ভারতীয় আটরশিয়া বিএসএফ ফাঁড়ি এলাকায় বিএসএফের ৪ ব্যাটালিয়ান ও রাজশাহীস্থ ১ বিজিবি ব্যাটালিয়ানের কমান্ডার পর্যায়ে উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে ৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়ানের কমা-ার স্বরণ দেব ও ১ বিজিবি ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্ণেল সোহেল উদ্দিন পাঠানের নেতৃত্বে স্ব-স্ব বাহিনীর ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেন। বিজিবি সূত্রের মতে, বৈঠকে বিজিবি-বিএসএফ কর্মকর্তারা আলোচনায় কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে একমত হয়ে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বিএসএফ-বিজিবি যৌথ টহলেরও সিদ্ধান্ত হয়।
সূত্র মতে, বগচর সীমান্ত এলাকাটি অতিমাত্রায় মাদক পাচার প্রবণ এলাকা হওয়ায় দুই বাহিনী নিজেদের অবস্থানে থেকে কঠোরভাবে মাদক পাচার প্রতিরোধ করবেন। এছাড়া বিএসএফ ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে কোনো বাংলাদেশিকে পেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ অথবা পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করবেন। এছাড়া বগচর সীমান্ত পথে অবৈধভাবে গরু পাচার হলে দুই দেশের বাহিনী তা সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করবেন।
এদিকে বিজিবি-বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ের এই সিদ্ধান্তের মাত্র ৩৬ ঘন্টার মধ্যেই বগচর সীমান্ত খুলে দিয়ে ভারতীয় গরু মহিষ পাচার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গরু ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাতে বগচর সীমান্তের ওপারে ১০ হাজার গরু মহিষ এনে জড়ো করা হয়। এসব গরুর রাখালদের কাছে বিএসএফের নামে দালাল  সিন্ডিকেটের দেয়া টোকেন ছিল। এসব টোকেন বিজিবিকে দেখিয়ে ভারতীয় চোরাচালানিরা গরু সীমান্ত পার করার চেষ্টা করলে বিজিবি তাদের বাধা প্রদান করে। তবে শেষ পর্যন্ত বিজিবি ১ হাজার ৮৬টি ভারতীয় গরু সীমান্তের এপারে ঢুকতে দেয়।
সিদ্ধান্তের মাত্র ৩৬ ঘন্টা পরই বগচর সীমান্ত রাতে আবার খুলে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহীস্থ ১ বিজিবি ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে, কর্ণেল সোহেল উদ্দিন পাঠানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন না ধরায় বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয় নি।
এদিকে আলোচিত বগচর সীমান্তটি দিয়ে জঙ্গি চলাচলের পাশাপাশি অস্ত্র ও বিস্ফোরক আসার অন্যতম একটি পথ বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ভারত থেকে হেরোইন চোরাচালানেরও এটি সবচেয়ে বড় রুট। এসব কারণে বগচর সীমান্তটিতে সার্বক্ষণিক নজরদারির পাশাপাশি রাতে সীমান্ত বন্ধ রাখার দাবি এলাকার মানুষের।