বগুড়ায় করতোয়া নদী দুষণ রোধে নৌকা বাইচ

আপডেট: অক্টোবর ১৯, ২০১৯, ১:৪২ পূর্বাহ্ণ

বগুড়া প্রতিনিধি


বগুড়ায় করতোয়া নদী দুষণ রোধে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়-সোনার দেশ

বর্ষা এলেই গ্রাম বাংলার মানুষ গ্রামিন খেলা নৌকা বাইচে মেতে উঠত। প্রায় হারিয়ে যাওয়া সেই নৌকা বাইচ খেলা দেখতে বগুড়া শহরের করতোয়া নদীর দুধারে ছিল হাজার হাজার মানুষের উৎসবের আমেজ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে কমিউনিট পুলিশিং ডে উপলক্ষে এই নৌকা বাইচের আয়োজনে ছিলো বগুড়া জেলা পুলিশ। ওই প্রতিযোগিতায় সহযোগিতায় ছিলো বগুড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।
দেখা গেছে, মৃতপ্রায় স্রোতবিহীন করতোয়ায় শৈবাল ও কচুরিপানায় ভরেছিল। নৌকা বাইচের আগে মালতিনগড় এসপি ঘাট থেকে বেজোড়া ঘাট পর্যন্ত দুই কিলোমিটার নদীপথ পুলিশের পক্ষথেকে পরিস্কার করে নৌকা চলাচলের উপযোগী করা হয়। দুদিন আগে থেকেই নদী পরিস্কারের কাজ করতে দেখা যায়। গতকাল ওই করতোয়ায় অনুষ্ঠিত হয় নৌকা বাইচ।
নৌকা বাইচ উপলক্ষে দুপুর থেকেই প্রতিযোগিতার উদ্বোধনস্থল এসপি ব্রিজ এলাকার দু’পাশ থেকে শুরু করে করতোয়া নদীর দু’ধারে দীর্ঘ এলাকা জুড়ে উৎসবমুখ মানুষের ঢল নামতে শুরু করে। নৌকা বাইচ শুরুর আগে বিকেলে করতোয়ার অনেক স্থান পরিপূর্ণ হয়ে উঠে উৎসুক মানুষের ভিড়ে। নদীর দু’পাশ ছাড়াও বাড়ির ছাদেও ছিলো নানা বয়সীদের ভিড়। নৌকা বাইচ দেখতে আসানারী পুরুষ শিশু থেকে সব বয়সি মানুষের উপস্থিতি করতোয়া নদীর দু’পাশ হয়ে উঠেছিলো এক মিলন মেলা। ঢাকঢোল পিটিয়ে বর্ণিল সাজে নৌকা বাইচের দলগুলো হাজির হলে নৌকা নিয়ে হাজার হাজার মানুষের উচ্ছ্বাসের ধ্বনি ওঠে।
নৌকা বাইচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. আলী আশরাফ ভুঞা, বগুড়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা.মকবুল হোসেন, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জেলা কমিউনিটি পুলিশং কমিটির আহবায়ক মোজাম্মেল হক, জেলা আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মকবুল হোসেন, সদর সার্কেলের পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী, কমিউনিটি পুলিশং বগুড়া জেলা শাখার সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শাহাদৎ আলম ঝুনু, বগুড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি তৌফিক হাসান ময়না, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান শফিক প্রমূখ।
নৌকা বাইচে নানা ভাবে সজ্জিত হয়ে বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলার ৬টি দল অংশ নেয়। দলগুলো হলো সোনার বাংলা, আল্লাহ ভরসা, নৌরাজ, আমিন হক, তিনবন্ধু, পঙ্খীরাজ ও দেগুন। ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। তুমুল হর্ষধ্বনির মধ্যে ঢাকঢোলের বাজনায় মধ্যে দিয়ে এই প্রতিযোগিতা মোট ৪ টি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। দু’টি করে দুলের মধ্যে প্রতিটি প্রতিযোগিতা শেষে চুড়ান্ত পর্যায়ে অংশ নেয় ৩টি দল। বাইচে প্রথম হয়েছে আল্লাহ ভরসা, দ্বিতীয় হয়েছে নৌরাজ আর তৃতীয় হয়েছে আমিন হক। প্রতিযোগিতায় প্রথমকে দেয়া হয় গরু পুরস্কার, ২য় ৩য়কে দেয়া হয় খাসি। পরে বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।
বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা জানান, করতোয় নদীর দোষন রোধ, দখল মুক্ত করতে ও গ্রামিন এই খেলাকে প্রানবন্ত করতে সচেতনতা মূলক এই প্রতিযোগিতার আয়োজনটি করা হয়েছিল।
বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জেলা কমিউনিটি পুলিশং কমিটির আহবায়ক মোজাম্মেল হক লালু জানান, বর্তমান প্রজন্মের শহুরে অনেকেই গ্রামীন ঐতিহ্য এই প্রতিযোগিতা দেখেনি। হাজার হাজার জনতার উপস্থিতি প্রমান করে গ্রামিন এসব প্রতিযোগিতা এখনও জনপ্রিয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ